বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলো (আইসিডি) অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত চার্জ বা সেবামূল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনটি বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকেই আমদানি করা এবং রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একতরফা এত বেশি হারে চার্জ বাড়ানোর ফলে রপ্তানিমুখী পণ্যের দর আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে রপ্তানি সক্ষমতা কমছে।

গত সোমবার এ বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া চিঠিতে বিজিএমইএ বলেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত ১১ আগস্ট থেকে আমদানি করা পণ্যে ৩৫ শতাংশ এবং রপ্তানি পণ্যে ২৫ শতাংশ হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে বেসরকারি আইসিডিগুলো। এর আগে গত বছরের ৪ নভেম্বর আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের হ্যান্ডলিং চার্জ ২৩ শতাংশ বাড়ায় তারা। এরকম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের ট্যারিফ কমিটির অনুমোদন নেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করা হয়নি। একতরফাভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানিসহ অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে রপ্তানির গতি ধরে রাখতে অতিরিক্ত এ চার্জ বন্ধে মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। আইসিডি নীতিমালা অনুসারে চার্জ নির্ধারণে একটি ট্যারিফ কমিটি গঠন করার দাবিও জাননো হয়েছে চিঠিতে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম সমকালকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রণীত আইসিডি নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে, এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক প্রণীত অন্যান্য আইন-বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে। যে কোনো চার্জ নির্ধারণ করবে ট্যারিফ কমিটি। কিন্তু কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে বেসরকারি আইসিডিগুলো নিজেরাই মনমতো চার্জ নির্ধারণ করে আদায় শুরু করেছে। এতে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।