ব্যাংকের মতো ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ব্যাংকের চেয়ে দ্বিগুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

গত জুন শেষে দেশে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি ছিল ৬৯ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা, যা মোট স্থিতির ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ব্যাংক খাতে জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। ব্যাংকে ঋণ বিতরণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। ওই সময়ে ব্যাংক খাতের ঋণ স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের মাত্রা এর হার বিবেচনায় নির্ধারিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ নানা অনিয়ম। গত কয়েক বছরে কিছু প্রতিষ্ঠানে ঋণ জালিয়াতির নানা ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সঙ্গে আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত পি কে হালদারের সম্পৃক্ততা ছিল। অনিয়মের কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমানতের মেয়াদপূর্তিতে টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এ নিয়ে আমানতকারীরা অভিযোগ করেছেন। অন্য কোনো কারণ আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার কারণে ২০২০ ও '২১ সালে ঋণ আদায়ে বেশ শিথিলতা ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই নির্দেশনা ছিল- কোনো গ্রাহক যদি করোনার প্রভাবে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তাহলে তার ঋণ যাতে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০২২ সালে এসে তা আরও শিথিল করা হয়েছে। এর প্রভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ প্রান্তিক শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৬৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৪ হাজার ২৩২ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর তিন মাস আগে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের ঋণ স্থিতির ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ হিসাবে তিন মাস আগের চেয়ে গত জুনে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। আর ৬ মাস আগের চেয়ে বেড়েছে ২ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এ খাতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনেক ভালো করছে। সুশাসনের অভাবে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পিপলস লিজিং ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ঋণ বিতরণ করেছে কিংবা ঋণ বিতরণে কর্মকর্তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি, তাদের অবস্থা খারাপ হয়েছে।

প্রসঙ্গত ঝুঁকি বিবেচনায় তিন মাস অন্তর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশে কার্যরত ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।