বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্তকতা আরও বাড়াতে হবে। অর্থবছরের শুরুতেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থবছরের শুরু থেকেই বাস্তবায়নেও জোর দিতে হবে। যাতে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং জনগণ বুঝতে পারে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

সোমবার 'ওপেন বাজেট সার্ভে ২০২১ ফলাফল ও প্রতিচ্ছবি' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ। ওপেন বাজেট সার্ভে প্রতিবেদন তুলে ধরেন র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ। সংস্থার চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাজেট সরকারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি উন্মুক্ত থাকা দরকার। সরকারও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে। এক সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের যেখানে বাজেটের কাজ হতো ভবনের সে তলাটি তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। এখন তা করা হয় না। এখন বাজেট নিয়ে জনগণেরও আগ্রহ বেড়েছে। বাজেট প্রণয়নে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়। সব তথ্য জনগণের জানার অধিকার আছে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। এমনকি করোনার প্রতিকূলতার মধ্যেও কার্যকর বাজেট দিয়েছে সরকার। তবে গোটা বাজেটের সব প্রক্রিয়া আরও সহজবোধ্য এবং উন্মুক্ত হওয়া উচিত। সব তথ্য সহজলভ্য হওয়া উচিত। অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, ওপেন বাজেট সার্ভেতে জনগণের প্রতি সরকারের যে বিশ্বস্ততা ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। স্বচ্ছতায় বাংলাদেশের স্কোর ৩০। বৈশ্বিক গড় যেখানে ৪৫ শতাংশ। জনসম্পৃক্ততায় বৈশ্বিক গড় স্কোর ১৪, আর বাংলাদেশের ১৩ শতাংশ।

সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বাজেট বাস্তবায়নের বাস্তবায়নের তথ্য-উপাত্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং সহজবোধ্য হওয়া প্রয়োজন, যাতে জনগণ সহজেই তার অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারে।