ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির দায়িত্ব আবার মূল মালিক মোহাম্মদ রাসেলের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার খবরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার জড়ো হন শত শত পাওনাদার। সকাল থেকেই তাঁরা সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন। 'ইভ্যালি মার্চেন্ট অ্যান্ড কনজিউমার কো-অর্ডিনেশন' কমিটির ব্যানার নিয়ে হাজির হন তাঁরা। নিজেদের পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি তাঁরা রাসেলের মুক্তিও দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার রাসেলের স্ত্রী এবং ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন আদালত গঠিত পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। ওই পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন এ কথা বলে জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গ্রাহকের টাকা উদ্ধার করার দায়িত্ব তাঁদের দেওয়া হয়নি। বরং ইভ্যালি কেন সমস্যায় পড়ল, কতটা সমস্যা হয়েছে, উত্তরণের উপায় কী- এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পেলে ইভ্যালি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইভ্যালি মার্চেন্ট অ্যান্ড কনজিউমার কো-অর্ডিনেশন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক সাকিব হাসান পাওনা টাকা উদ্ধার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানির তখন চলতি দায় ছিল ৫৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চেন্ট বা পণ্য সরবরাহকারীরা পাবেন ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বাকি ৩১১ কোটি টাকা সাধারণ গ্রাহকদের পাওনা।
গ্রাহক ঠকানোর মামলায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে চেয়ারম্যান করে ইভ্যালির জন্য একটি পর্ষদ গঠন করে দেন হাইকোর্ট। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব মিলনকে করা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান শামীমা। তবে এখনও কারগারে রয়েছেন রাসেল।