উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া রাজশাহীর দুর্গাপুরের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাইদ সিদ্দিক ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর কাছ থেকে উপহার সামগ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত। একইসঙ্গে জুনাইদের মা-বাবাও এ বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে জুনাইদের বাবা সিরাজুল ইসলাম ভুল করে তাঁর নগদ মোবাইল আর্থিক সেবার গোপন পিন নম্বর অন্যদের কাছে দিয়ে দেওয়ায় টাকা বেহাত হয়ে যায় বলেও স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অনুতাপের কথাও জানান তিনি।

“পিন শেয়ার করে আমি ভুল করেছি এবং ঠকেছি। তবে আশা করব আমার মতো বোকামি কেউ করবেন না,” নগদ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেন সিরাজুল ইসলাম।

“আমি বলব গোপন পিন এবং ওটিপি কারো কাছে শেয়ার করা উচিত নয়। এইসব গোপন তথ্য শেয়ার করলে আর টাকা নিরাপদ থাকবে না,” বলেন প্রবাস ফেরত সিরাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি জুনাইদ সিদ্দিকের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় নিজের দুর্ভোগের কথা জানায় সে। পরে তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ফেসবুকে সেটি পোস্ট করেন এবং যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে যায়।

ঘটনার অধিকতর তদন্তের পর রোববার নগদ-এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জুনাইদের জন্য নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা-বই, রঙ পেন্সিল এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী এবং তার বাবা-মায়ের জন্য সৌজন্য উপহার নিয়ে তাঁদের দূর্গাপুরের বাড়িতে হাজির হন।

উপহার পেয়ে ছোট্ট জুনাইদ তার খুশি ধরে রাখতে পারছিল না। “সবকিছুর মধ্যে ব্যাগটা আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। কাল থেকে আমি এই ব্যাগ নিয়েই স্কুলে যাব।”

বড় হয়ে বাবা-মায়ের জন্য অনেক বেশি আয় করার প্রতিশ্রুতির কথাও জানিয়েছে সাত বছরের জুনাইদ।

কথার মধ্যেই তেবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাইদ তার জন্য নেওয়া বই-খাতা আর রঙ পেন্সিলগুলো নেড়ে চেড়ে দেখছিল মুগ্ধ নয়নে। 

শিক্ষা উপকরণ কেনার টাকা না পাওয়া বিষয়ে নগদ অধিকতর তদন্ত করে। পরে জানা যায়, যথাসময়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো জুনাইদ সিদ্দিকের নামের সঙ্গে থাকা মোবাইলেও উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ কেনার টাকা বিতরণ করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টটি যিনি ব্যবহার করছিলেন সেটি হয়তো অন্য কেউ জেনে থাকতে পারে। পিন কপি করে সেটি ব্যবহার করার সুযোগ নিয়েই উপবৃত্তির টাকা বেহাত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে জুনাইদের নামের বিপরীতে থাকা মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বরে শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতা এবং উপবৃত্তির অর্থ পৌঁছেছে। ঠিক সময়ে সেই অর্থ তুলে জুনাইদের শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারও করেছেন তার বাবা। 

তবে এবার যেহেতু সিরাজুল ইসলাম বঞ্চিত হয়েছেন, সে কারণে নগদ-এর পক্ষ থেকে সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে জুনাইদের নামে তার বাবার হাতে দিয়ে আসেন নগদ কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জুনাইদ বলেছিল, “এরপর যেন এমন না হয়।”

ছেলের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে রাজশাহী শহরে নগদ অফিসে যোগাযোগ করেন সিরাজুল ইসলাম। তখনই বিষয়টি নগদ-এর দৃষ্টিগোচর হয় এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লেখে জুনাইদ, যা তার বাসার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

গ্রাহকের তথ্য ও লেনদেনের নিরাপত্তা বিষয়ে নগদ-এর হেড অব পাবলিক কমিউনেকেশন্স জাহিদুল ইসলাম সজল বলেন, নগদ সব সময়ই গ্রাহকের প্রতিটি অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। তবে কোনো গ্রাহক যদি তার গোপন পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তখন নগদ-এর পক্ষে আর খুব বেশিকিছু করার থাকে না।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া জুনাইদের চিঠিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে শনিবার মীনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুনাইদ সিদ্দিককে আমন্ত্রণ জানায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে তার হাতে স্কুল ব্যাগ, ছাতা, খাতা, রংপেনসিল ও কলম দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিতি ছিলেন।