এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেন ২৮০০ থেকে গতকাল ১৩০০ কোটি টাকায় নেমেছে। এমনকি আগের দিন রোববারের তুলনায় লেনদেন ৫১০ কোটি টাকার বেশি কমেছে। হঠাৎ কিছু শেয়ারের ব্যাপক লেনদেন প্রবণতা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্টরা।

গতকাল ডিএসইতে মোট এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষে থাকা ওরিয়ন ফার্মার ১১৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এবং বেক্সিমকো লিমিটেডের ১১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ দুই শেয়ার মিলে লেনদেন হয়েছে ২৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিএসইর লেনদেন ২৮০০ কোটি টাকা ছাড়ানোর দিনে এ দুই কোম্পানির ৭৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত ২০ মার্চ সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ লেনদেনের দিনে শীর্ষে থাকা পাঁচ কোম্পানির প্রায় ৭৩২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গতকাল এসব কোম্পানির ৩৯৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। তাছাড়া ওই দিনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা গতকাল ৫২১ কোটি টাকা কমেছে।

লেনদেন কমার কারণ জানতে চাইলে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের সিইও সাফফাত রেজা সমকালকে বলেন, দুটি আইপিওর সাবসক্রিপশনের জন্য বিনিয়োগকারীরা টাকা জমা দিয়েছেন। এছাড়া জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানির মুনাফা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অনেকে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। এর বাইরে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত শেয়ারগুলোর দর হঠাৎ করে অনেকটা বাড়ার পর এসব শেয়ারেও লেনদেন কমেছে। উদাহরণস্বরূপ- যখন কোনো শেয়ারের দর ১০ টাকায় ছিল, তখন অনেকের এ শেয়ার কেনার সামর্থ্য ছিল। শেয়ারটির দর ৫০ টাকা হওয়ার পর অনেকে শেয়ার কেনার সামর্থ্য হারাবেন, এটিই স্বাভাবিক। তাছাড়া অল্পপ্প সময়ে অনেক দরবৃদ্ধি পেলে ওই শেয়ারে বিনিয়োগে ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে অনেকে শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকেন। এ কারণেও লেনদেন কমেছে।

শুধু নির্দিষ্ট শেয়ারে নয়, খাতওয়ারী লেনদেনেও পরিবর্তন এসেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর খাতওয়ারী শীর্ষে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৪৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, যা ছিল ওই দিনের মোট লেনদেনের ২৬ শতাংশের বেশি। গতকাল এ খাতের লেনদেন ২০৬ কোটি টাকায় নেমেছে, যা মোটের ১৬ শতাংশেরও কম। গতকাল ডিএসইতে খাতওয়ারী লেনদেনের শীর্ষে থাকা বিবিধ খাতে ২৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ২১ শতাংশ। আবার এর মধ্যে পাঁচ কোম্পানিরই ২৫২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

সার্বিক হিসাবে গতকাল ৬১ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৩৭টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭৩টির দর। অন্যদিকে অন্তত ১৮০ শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ৬৫১১ পয়েন্টের নিচে।