বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার টয়লেট্রিজসহ ছয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে গত তিন বছরের পণ্য বিক্রি খাতে আয়-ব্যয় এবং ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। একই সঙ্গে চাল ব্যবসায়ীদের সব ধরনের চালের নমুনা জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইস্কাটন রোডে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে মামলার শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে সম্প্রতি চাল, আটা-ময়দা, ডিম-মুরগি, সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার বাজারজাতকারী এবং পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন। গত সোমবার এর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকালের শুনানি গ্রহণ করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন, এএফএম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম।
শুনানিতে বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, এরফান গ্রুপ, নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি, ডায়মন্ড এগের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অংশ নেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। তবে মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদারকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি বা তাঁর পক্ষে কোনো প্রতিনিধি আসেননি।
চাল ও আটা-ময়দার দামবিষয়ক মামলায় হাজির হন বসুন্ধরা ফুডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান রেদোয়ানুর রহমান এবং তাঁদের আইনজীবী মামুন চৌধুরী। তাঁরা বলেন, কমিশন বসুন্ধরা গ্রুপের নামে মামলা করেছে। প্রকৃতপক্ষে বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ আলাদা প্রতিষ্ঠান। পুরো গ্রুপকে দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়। তা ছাড়া বাজারে তাঁরা প্যাকেটজাত আটা-ময়দা বিক্রি করলেও কোনো ধরনের চাল বিক্রি করেন না।
তাঁরা জানান, আটা-ময়দার মূল উপাদান গম। দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি গম আমদানি করতে হয়। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমদানি কমে গেছে। ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে না। বিশ্ববাজারে গম ও জাহাজ ভাড়া, দেশে ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের দামে।
তাঁদের এসব যুক্তি উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বসুন্ধরা ফুডের চালের একটি প্যাকেটের ছবি দেখান। বলেন, 'যদি আপনারা বিক্রি না করেন, তাহলে কারা আপনাদের ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করছে তা খুঁজে বের করতে হবে।' এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে গত তিন বছরের আটা-ময়দা থেকে আয়-ব্যয়ের তথ্য এবং ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে ১৬ অক্টোবর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
চাল ও টয়লেট্রিজ পণ্য সংক্রান্ত মামলায় হাজির হয়ে স্কয়ার টয়লেট্রিজের দুই আইনজীবী বলেন, মিনিকেট নয়, শুধু 'চাষী' ব্র্যান্ডের সুগন্ধি চাল বিক্রি করেন তাঁরা। বাজারে তাঁদের মার্কেট শেয়ার খুবই কম। এ ছাড়া সাবান, শ্যাম্পু-জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বিশ্ববাজারে কাঁচামাল ও দেশে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেন তাঁরা।
এরপর কমিশন 'চাষী' চাল কোথায় বা কী ধান থেকে আসে তার বিস্তারিত তথ্য, চালের নমুনা এবং টয়লেট্রিজ পণ্যের আমদানি ও বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ২৬ অক্টোবর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিম সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ডায়মন্ড এগের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জায়গায় মুরগি ও ডিমের বড় পাইকারি বাজার রয়েছে। সেসব বাজার থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিদিন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেখানে দাম ওঠানামা করে। তা ছাড়া দাম বাড়ার জন্য মুরগির খাদ্য, জ্বালানির দাম ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেন তিনি।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, এসব কারণে চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম দুই থেকে আড়াই টাকা বাড়ার কোনো যুক্তি নেই। সর্বোচ্চ ১০ বা ২০ পয়সা বাড়তে পারে। নারিশ পোল্ট্রি ও ডায়মন্ড এগকে তিন বছরের মুরগি ও ডিমের উৎপাদন ব্যয়, বিক্রয়মূল্যসহ যাবতীয় তথ্য নিয়ে ১৬ অক্টোবর শুনানির জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়।