স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ম্যানমেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ধরনের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়া দরকার। মঙ্গলবার এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 'এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষিতে পোশাক খাতের সরবরাহ চেইনে কৃত্রিম তন্তু' শীর্ষক কর্মশালাটি রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) এবং তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি কমে আসা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। তবে রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা তাঁকে জানিয়েছেন, এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আগামী মাসের মধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াবে রপ্তানি আয়। তিনি এ কথায় আশ্বস্ত।

কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ম্যানমেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে তৈরি পোশাক খাতে বহুমুখীকরণ আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক তন্তু ও কাপড়ের শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হলে স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ আরও শক্তিশালী হবে।

ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকপণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রাকৃতিক তন্তুর পাশাপাশি ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের বাজারের সম্ভাবনার বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতির লক্ষ্যে তৈরি পোশাক খাতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য এ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।

কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। ম্যানমেইড ফাইবারের পোশাক উৎপাদনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ আশরাফ। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী রফিকুল হাসান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএসজিপি প্রকরল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ।