ত্রুটি সারিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে। আজ সকাল ১১টায় দিনের লেনদেন শুরু হয়। যদিও অন্যান্য দিনের মত আজ সকাল সাড়ে ৯টায় দিনের লেনদেন শুরুর কথা ছিল।

বিলম্বে লেনদেন শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক লেনদেন শেষ হওয়ার সময়ও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দিন স্বাভাবিক লেনদেন শেষ হয় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে। আজ তা শেষ হবে দুপুর আড়াইটায়। তাছাড়া ক্লোজিং সেশনের লেনদেন চলবে আরও ৫ মিনিট। 

এদিকে লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় ৩১৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে এসেছে। এর মধ্যে ৫৭টি দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। বাকিগুলোর মধ্যে ৮৫টি দর হারিয়ে এবং ১৭২টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছে।

দুপুর ১২টায় অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩৪১পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত এ বাজারে ৩৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

আজকের লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে ডিএসইর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গত তিন দিনে লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে ৬৬ কোম্পানির শেয়ার দরে সার্কিট ব্রেকার ফ্রি থাকার কথা ছিল। কিন্তু লেনদেন শুরুর আগে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ৩৮৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের সবগুলো সার্কিট ব্রেকার ফ্রি অবস্থায় যাচ্ছে। এ অবস্থায় লেনদেন শুরু হলে আইনি জটিলতা হওয়ার শঙ্কা ছিল। এমনকি সব লেনদেন বাতিল করতে হতো। এ কারণে লেনদেন শুরু করা হয়নি।

ডিএসইর শফিকুর রহমান সমকালকে জানান, লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তি কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের দর ওঠানামার কোনো সীমা থাকে না। এ অবস্থাকে সার্কিট ব্রেকার ফি অবস্থা বলা হয়। আজ রোববার লেনদেনে এমন ৬৬টি শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ফ্রি থাকার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তালিকাভুক্ত সব শেয়ার সার্কিট ব্রেকার ফ্রি অবস্থা তৈরি হয়। এভাবে লেনদেন শুরু হলে আইনগত জটিলতা তৈরি হত বিধায় লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দরপতন রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব শেয়ারের দর ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছে গত ৩১ জুলাই। মাঝে অনেক শেয়ারের দর ফ্লোর প্রাইস ছেড়ে ওপরে উঠলেও সাম্প্রতিক দরপতনে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারই ফ্লোর প্রাইসে নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার দিনের লেনদেন শেষে তালিকাভুক্ত ৩৮৮ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫৯টিই ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল।