হুন্ডি চক্রে জড়িত থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) কয়েক হাজার এজেন্টের এজেন্টশিপ বাতিল হয়। এতে গত আগস্টে এজেন্টের সংখ্যা কমে ১৫ লাখের নিচে নামে। তবে নতুন করে অনেকে এজেন্ট তালিকায় যুক্ত হওয়ায় সেপ্টেম্বরে তা আবার ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ১২৮টি।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠানের এজেন্টশিপের আড়ালে হুন্ডি চক্রে জড়িয়ে পড়েছে অনেকে। যে কারণে বিএফআইইউ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব পর্যালোচনার ভিত্তিতেও অনেকের এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে এজেন্ট সংখ্যা কমে আগস্টে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯৮টিতে নামে। গত জুনে সারাদেশে এজেন্ট সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১৫ লাখ ছাড়িয়েছিল। জুলাইতে আরও বেড়ে ১৫ লাখ ২৬ হাজার ২৩৯টি হয়।

বর্তমানে সারাদেশে ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ১৮ কোটি ৫৩ লাখ। একই ব্যক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলার সুযোগের ফলে হিসাব সংখ্যা এত বেশি বলে জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৭ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। আগের মাসেও যা ছিল ৮৭ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এর আগে এমএফএসের মাধ্যমে গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। ওই মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৪ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয় গত জুন মাসে।