ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১২ লাখ টাকা করাসহ দশ দাবি আদায়ে সারাদেশে লাগাতার ধর্মঘট আহ্বান করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। শ্রমিকদের এ ধর্মঘটে লঞ্চশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল বন্দর রাজধানীর সদরঘাট। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। শনিবার রাত ১২ টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু করেন তারা।

রোববার সকাল থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দর সদরঘাটে ঘুরে দেখা যায়, বৃহত্তম এ বন্দরটি লঞ্চ শূন্য হয়ে আছে। দুই শতাধিক লঞ্চের মধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ টি লঞ্চ চলাচল করলেও এদিন প্লাটুনে কোন লঞ্চের দেখা মেলেনি। নৌ শ্রমিকরা লঞ্চ গুলো নিয়ে মাঝ নদীতে সারিসারি রেখে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে, নৌ শ্রমিকদের এ ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সদরঘাট থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে যাতায়াতকারী বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ধর্মঘটের খবর না জানায় প্রতিদিনের মতো অনেক যাত্রীরা আসেন সদরঘাটে। লঞ্চ ধর্মঘটের খবর শুনে কেউ ফিরে যান আবার কেউ অপেক্ষা করতে থাকেন লঞ্চ চলার অপেক্ষায়। এমনই একজন যাত্রী বকুল হোসেন। চাঁদপুর যাবার উদ্দেশ্যে সকালে সদরঘাটে আসেন তিনি। পরে জানতে পারেন লঞ্চ শ্রমিকদের ধর্মঘট। বাধ্য হয়ে সায়েদাবাদ বাস কাউন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'বাসে চলাচল করতে অসুবিধা হয় তাই লঞ্চে চলাচল করি। ধর্মঘটের খবর আগে জানা ছিলো না তাই বাধ্য হয়ে বাসেই যেতে হবে'। অপর আরেক যাত্রী রেশমা বেগম। খুব সকালে দুই মেয়েসহ সদরঘাটে এসে দেখেন ঘাটে কোন লঞ্চ নেই। দুই মেয়েকে নিয়ে ফিরে যান তিনি। তিনি বলেন,'সকাল সকাল বিপদে পড়লাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠে এসেছি লঞ্চ ধরার জন্য, এসে দেখি লঞ্চ নাই'।লঞ্চ বন্ধ থাকায় বকুল ও রেশমার  মতো অনেকে এদিন সকালে সদরঘাটে এসে নিরুপায় হয়ে ফিরে যান।

নৌ শ্রমিকদের দশ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানান নৌ- যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা অনেক দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি কিন্তু তাতে কতৃপক্ষ কোন কর্ণপাত করছে না। একের পর এক আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোন বাস্তবায়ন নেই। শ্রমিকদের দাবিগুলো না মানা হলে ধর্মঘট চলবে।

একই কথা বলেন নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। তিনি জানান, এর আগে গত শুক্রবার শ্রম দপ্তরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মনিজ্জান সুফিয়ানের সাথে বৈঠক হয়।কিন্তু শ্রমপ্রতিমন্ত্রী তাদের দাবির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। পরবর্তী আলোচনায় শ্রমিকদের দশ দফা দাবির মধ্যে থেকে বিশেষ তিন দাবি উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মুলমজুরী ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, মৃত্যুকালীন ক্ষতি পূরণ বৃদ্ধি ও ভারতগামী নৌশ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ল্যান্ডিং পাসের অনুমোদন। এসকল দাবি না মানা হলে ধর্মঘট আরো কঠিন রুপ ধারণ করবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামাল বাদল বলেন, "নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট করেছে কিন্তু এখন আমাদের করার কিছু নেই। শ্রম মন্ত্রনালয়ে বৈঠক হয়েছে। শ্রমিক-মালিক সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।"

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনের যুগ্ম পরিচালক শহীদুল্লাহ বলেন, " নৌ শ্রমিকদের দাবির বিষয়টা মন্ত্রণালয়ের ব্যপার। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। সদরঘাটে শান্তিপূর্ণভাবেই ধর্মঘট করছে শ্রমিকরা।"