লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন পাটওয়ারী হত্যা মামলায় ফরিদ বাহিনীর প্রধান ও যুবদল নেতা একেএম ফরিদ উদ্দিনসহ ৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন হত্যা মামলায় ফরিদসহ ৫ অভিযুক্ত উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নেন। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ায় তারা এদিন লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় আরও ৩ আসামি কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল গণি, যুদবল নেতা আক্তার হোসেন, শিপন ও পারভেজ। তারা যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ফরিদ জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক। তিনি নিজ নামে ফরিদ বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারি পিপি জসিম উদ্দিন জানান, জেলা জজ  ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে অভিযুক্ত ৫ আসামি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জন্য জামিন নেন। সময় শেষ হওয়ায় তারা লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী হাছিবুর রহমান বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা। ফরিদ ও গণিসহ গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা উচ্চ আদালতে তাদের জামিন আবেদন করবো। উচ্চ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার ছেলে মেহেদি হাসান আকাশ বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আলাউদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে। তারা আলাউদ্দিনকে পোদ্দার বাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।