ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দর পতনের ধকল কাটিয়ে উঠছে শেয়ারবাজার

দর পতনের ধকল কাটিয়ে উঠছে শেয়ারবাজার

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:৪১

শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর গত দুই সপ্তাহে ৭৩ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ দর হারিয়েছে ১৪৬ শেয়ার। তবে গত সপ্তাহে ৪৪ শতাংশের দর হারানোর বিপরীতে ৪৬ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা শেয়ারগুলোর মধ্যে ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকা শেয়ারই ছিল বেশি। প্রথম সপ্তাহের দর পতনের ধকল দ্বিতীয় সপ্তাহে কাটিয়ে ওঠার লক্ষণ আছে বাজারে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরের পরিবর্তন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। গত ১৮ জানুয়ারি ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ২১ জানুয়ারি তা কার্যকর হয়। তখন ফ্লোর প্রাইসের ওপরে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৭৪টি এবং ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল ২১৮টি শেয়ার।
ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, গত সপ্তাহে অনেক শেয়ারের দর বেড়েছে, আবার কমেছেও। তবে আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব আছে বলে মনে হয় না। এখন শেয়ারদর ওঠানামায় কোনো অযাচিত ও অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা পছন্দমতো শেয়ার কেনাবেচা করছেন।

বাজার দর পতনের ধারা কাটিয়ে উঠেছে কিনা– এমন প্রশ্নে ডিবিএ সভাপতি বলেন, ২০ মাসের অবরুদ্ধ বাজার দুই সপ্তাহেই ঠিক হয়ে যাবে আশা করা ঠিক নয়। বাজারকে পুরোপুরি নিজের স্বতঃস্ফূর্ত ধারায় ফিরতে দুই থেকে তিন মাস সময় দিতে হবে। এরই মধ্যে গত জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন এসেছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে ব্যাংক এবং বহুজাতিক কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন আসবে। এগুলো দেখে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস করবেন। এর পরই বাজার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে তিনি মনে করেন।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রত্যাহারের আগে যে ২১৮ শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল, প্রথম সপ্তাহে সেগুলোই দর হারিয়েছিল বেশি। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসব শেয়ারের দরই বেড়েছে তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে এগুলোর মধ্যে ৯৭টির দর বেড়েছে এবং  কমেছে ৮৮টির। বাকি ৩৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে, ফ্লোর প্রাইসের ওপরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলোরও প্রথম সপ্তাহে দর পতন হয়েছিল। যদিও তা ছিল তুলনামূলক কম। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে এমন ১৭৪ শেয়ারের মধ্যে সমান ৮৪টি করে শেয়ারের দর বেড়েছে ও কমেছে।

গত সপ্তাহে ৯ থেকে ৬০ শতাংশ দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ৩০ শেয়ারের মধ্যে ১৩টি ছিল ফ্লোর প্রাইসের ওপরের থাকা শেয়ার, বাকি ১৭টি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকা শেয়ার। যেমন– ফ্লোর প্রাইসের ওপরে থাকা খুলনা প্রিন্টিংয়ের দর গত সপ্তাহে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের দর ৩৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল। একইভাবে ফ্লোর প্রাইসের ওপরে থাকা আরামিট সিমেন্ট এবং আফতাব অটোর দর ৩১ শতাংশ করে বেড়েছে। এ ছাড়া ইভিন্স টেক্সটাইল ও সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ২১ শতাংশ। বিপরীতে ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকা এসএস স্টিলের দর বেড়েছে ২১ শতাংশ। এ ছাড়া সায়হাম কটন, ফার্মা এইডস, বিডি থাই ফুড, কপারটেক এবং শাশা ডেনিমের দর ১৭ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

গত সপ্তাহে পৌনে ২০ শতাংশ দর হারিয়ে দর পতনের শীর্ষে ছিল স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। যদিও গত বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দর পৌনে ৩ শতাংশ বেড়েছিল। শেয়ারটি ফ্লোর প্রাইসের ওপরে ছিল। দর পতনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চে ছিল জিএসপি ফাইন্যান্স। বৃহস্পতিবার সাড়ে ৩ শতাংশ দর বৃদ্ধির পরও এক সপ্তাহে  ১৬ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। গত সপ্তাহে ৩৬টি শেয়ার ৫ থেকে ১৫ শতাংশ দর হারিয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ছিল ফ্লোর প্রাইসের ওপরে থাকা শেয়ার। বাকি ২৪টি ফ্লোর প্রাইসে ছিল। ফ্লোর প্রাইসের ওপরে থাকা দর হারানো শেয়ারগুলোর মধ্যে ১৫ শতাংশ দর হারিয়েছে কেঅ্যান্ডকিউ। ৫ থেকে ১১ শতাংশ দর হারিয়েছে এমারেল্ড অয়েল, জুট স্পিনার্স, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, শমরিতা হাসপাতাল, অ্যাপেক্স ফুড,  ইমাম বাটন, মুন্নু সিরামিকসহ কয়েকটি কোম্পানি। অন্যদিকে, ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকা শেয়ারগুলোর মধ্যে গত সপ্তাহে প্রগ্রেসিভ লাইফ, বিডি ফাইন্যান্স, এসিআই, আইপিডিসি এবং ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১০ থেতে ১২ শতাংশ কমেছে।

দর পতনের ধারা কাটিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত আছে সূচকে। গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬২১৪ পয়েন্টে উঠেছে। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আগে সূচকটি ছিল ৬৩৩৬ পয়েন্টে। প্রথম সপ্তাহের দর পতনে সূচকটি ১৮০ পয়েন্ট হারিয়েছিল। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন

×