পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য ৪ ডিসেম্বর থেকে সাড়ে তিন মাসের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলরুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রেলওয়ে। ফলে ওই রুটে যাতায়াত করা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়বেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

যাত্রী অধিকার ফোরাম বলছে, বাস মালিকদের ষড়যন্ত্রে দীর্ঘ মেয়াদে ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় তাদের সমাবেশ ঠেকাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে।

ঢাকার নটর ডেম কলেজের ছাত্র হাসান পারভেজ জানান, এ রুটে ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা। ডেমো ট্রেনে ২০ টাকা। অন্যদিকে বাসের ভাড়া ৫৫ টাকা। ভাড়া কম হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তো বটেই, বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ট্রেনে চলাচল করেন। ট্রেন বন্ধ হলে এ রুটের যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে প্রতিদিন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। বাসের ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ট্রেনকেই সাধারণ মানুষ এখন যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আজকে মানুষের জীবন-জীবিকা যখন চরম সংকটে, তখন রেল কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত মানুষের সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, করোনার আগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৩২টি ট্রেন চলাচল করত। করোনার কারণে এটি কমিয়ে ১২টিতে নামিয়ে আনা হয়। এরপর করোনা চলে গেলেও এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি। উল্টো এখন পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের অজুহাতে ট্রেন সাড়ে তিন মাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব দেখে আমাদের মনে হয়, এসবই বাস মালিকদের ষড়যন্ত্রের অংশ।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক এমপি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকার সমাবেশ সামনে রেখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে লাখ লাখ কর্মী বিএনপির এ সমাবেশে যোগ দেবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে বিএনপি কর্মীদের সমাবেশে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তেমনি নারায়ণগঞ্জ থেকেও বিএনপি কর্মীদের ঢাকায় যেতে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এই ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া।