পুঁজিবাজারে শেয়ার কিনে দেশি-বিদেশি অন্তত ১৪ লাখ বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে গেছে। টাকার অঙ্কে লগ্নির পরিমাণ যাই হোক, ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সবারই একই হাল। লাভের আশা নিয়ে যাঁরাই শেয়ার কিনেছিলেন, এখন তাঁরা বিক্রির সুযাগ পাচ্ছেন না। চিকিৎসা কিংবা অতি জরুরি প্রয়োজনে লোকসানে যে শেয়ার বিক্রি করবেন, সে উপায়ও নেই। কারণ, ক্রেতা নেই বাজারে।

গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩৯০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০০টির কেনাবেচা হয়েছে। গতকাল এজিএম সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে চারটি শেয়ারের লেনদেন স্থগিত ছিল। এর বাইরে ৮৬ শেয়ারের ১ টাকারও লেনদেন হয়নি। পুরো দিনে ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার কেনাবেচা হয়েছে আরও ৭৩ শেয়ারের। লেনদেনে শীর্ষে থাকা মাত্র ১০ শেয়ারের লেনদেন ছিল মোটের সাড়ে ৩৯ শতাংশ। আর ১০০ শেয়ারের লেনদেন ছিল মোটের ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ লেনদেনের নিচের দিকে থাকা বাকি ২০০ শেয়ারের লেনদেন ছিল মোটের ২ শতাংশ। লেনদেনের শেষ দিকে দুই শতাধিক শেয়ার ছিল পুরোপুরি ক্রেতাশূন্য। তার ওপর যে ৩০০ শেয়ারের কেনাবেচা হয়েছে, টাকার অঙ্কে এর মূল্য ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। এ লেনদেন গত বছরের ৫ এপ্রিল বা ২০ মাসের সর্বনিম্ন। শেয়ার লেনদেনে এমন ভাটার চিত্র এখন প্রতিদিনের।

এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানত ফ্লোর প্রাইসকে দুষছেন শেয়ারবাজার বিশ্নেষকরা। তাঁরা বলেছেন, ক্রেতা না থাকার কারণেই প্রায় ৮০ শতাংশ শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে বা সর্বনিম্ন দরসীমায় আটকে গেছে। এক মাস আগেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। তখন দিনেই হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দিনে দিনে ফ্লোর প্রাইসে নেমে আসা শেয়ার সংখ্যা যতই বেড়েছে, পরিস্থিতি ততই খারাপ হয়েছে।

পুঁজিবাজারে ক্রেতা না থাকার কারণ কী- এমন প্রশ্নে সংশ্নিষ্টরা মনে করেন, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অবাধ কারসাজি শেষে জুয়াড়িরা বিনিয়োগ তুলে নিয়ে নিষ্ফ্ক্রিয় বা প্রায় নিষ্ফ্ক্রিয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এমনই এক বাজার, এখানে দুই সপ্তাহে কোনো শেয়ারের ২০ শতাংশ দর বাড়লে নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায়, কারসাজি হয়েছে। করোনা মহামারির বছর ২০২০ সালের জুলাইয়ে একের পর এক বীমার শেয়ারদর হু-হু করে বেড়ে ১০ থেকে ২০ গুণ হয়ে যায়। এরপর অন্য খাতের অনেক শেয়ার এভাবে বহু গুণ হয়। বড় ধরনের কারসাজি এক থেকে দুই বছরের বেশি স্থায়ী হয় না। কারসাজি শেষে জুয়াড়ি চক্র মুনাফা তুলে নিয়ে নিষ্ফ্ক্রিয় হয় বা বের হয়ে যায়। এরপর শেয়ারবাজারও দীর্ঘ মন্দায় পড়ে, যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের কারসাজির পর। এখনকার অবস্থাও তেমনই।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কারা, কখন, কীভাবে, কোথা থেকে এবং কোন শেয়ার নিয়ে কারসাজি করছে- এর সবই জানে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মালিকদেরও একটি অংশ কারসাজিতে জড়িত ছিল বা আছে, এটাও জানে সংস্থাটি। তবে কখনোই এ সংস্থা কারসাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও নিচ্ছে না। এর ওপর খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকা বা কারসাজিকে উস্কে দেওয়ার তথ্যও আসছে।

শেয়ার কারসাজি, দুর্নীতি এবং অনিয়মের বাইরে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতি ঘিরে নানা শঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের নতুন লগ্নিতে অনাগ্রহী করছে। করোনার ধকল কাটিয়ে ওঠার মুহূর্তে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও সংকটে ফেলেছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে ডলার সংকট। মাত্র ছয় মাসে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ২০ শতাংশের ওপর বেড়েছে। বাড়তি দরেও ডলার না মেলায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না। যতটুকু পারছে, তাতে আমদানি খরচ বেড়েছে। ফলে পণ্যের দামও বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে বিক্রিতেও নেমেছে ভাটা। উভয় কারণে মুনাফা কমছে কোম্পানির। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংঘাত-সংঘর্ষের শঙ্কা বাড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নেন।

শেয়ারবাজারের অন্যতম প্রধান মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ার আগেই শেয়ারবাজারে পড়ে। কোম্পানির মুনাফা কমার শঙ্কা থাকলে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা আগাম শেয়ার বিক্রি করে লোকসান কমাতে চান। অন্যদিকে এ সময়ও যারা বিনিয়োগ করতে চান, তারা অপেক্ষা করেন কম দামে শেয়ার কেনার। বর্তমান অবস্থা তেমনই।

এ মতকে পুরোপুরি সমর্থন করেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাজার ধুঁকছে ফ্লোর প্রাইস নামক 'ভুল' সিদ্ধান্তের কারণে। এটা দিয়ে বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থবির করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভালো শেয়ারগুলো কেনাবেচা হচ্ছে না। মন্দ শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে। যে শেয়ারদর ও সূচক দেখানো হচ্ছে, এটা প্রকৃত দর ও সূচক নয়। কেউ কেউ এটা দেখে মিথ্যা সান্ত্বনা নিচ্ছেন। এটা প্রকৃত বাজার নয়।

ঢাকার শেয়ারবাজারের ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, পরিস্থিতি জটিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ শেয়ার কিনতে চাইছে না। আবার ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বহু ক্ষতি হয়ে যাবে, এমন ভয়ে ফ্লোর প্রাইসও তুলতে চাইছে না শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ দুইয়ের মধ্যে পড়ে শেয়ারবাজারই হয়ে পড়েছে স্থবির।

বিশেষজ্ঞ মত: শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদের ভাষায় ফ্লোর প্রাইসেই 'ফেঁসে' গেছেন বিনিয়োগকারীরা। এ মুহূর্তে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেই শুধু দর ওপরের দিকে যেতে পারবে, নিচের দিকে নয়। খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এটা চায়। এটা অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য। যত বড় সংকটই হোক, শেয়ারবাজারে দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এমন নিয়ম চালু বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। গত জুলাইয়ের শেষে যখন ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়, তখন বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খুবই সাময়িক সময়ের জন্য এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে গত চার মাসেও ওই 'সাময়িক সময়' শেষ হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা কে জানে। আগামী এক বছরেও যদি যুদ্ধ শেষ না হয়, ততদিন কী বাজার এভাবে থাকবে- এমন প্রশ্ন তাঁর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষক ড. আল-আমিন মনে করেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি যখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধেয়ে চলে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিজের পুঁজি সুরক্ষিত রাখতে হয় বিদ্যমান টাকা তুলে নিতে থাকেন, অন্যথায় নতুন করে বিনিয়োগ করা কমিয়ে দেন। ফলে বাজার মন্দার চক্রে পড়ে। বর্তমান শেয়ারবাজারের পরিস্থিতিটাও এখন এমন।

উত্তরণ কোন পথে: ফ্লোর প্রাইস না তুলেই বাজারকে স্বাভাবিক করার পথ খুঁজছে বিএসইসি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করতে পারলেই উদ্দেশ্য সাধন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, এখন অনেক শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে পড়ে আছে। তারল্য সংকটও আছে। কমিশন মনে করছে, বাজারের চলতি অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হলে ক্ষুদ্র লগ্নিকারীরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সপ্তাহে বীমা খাতের ২৬ কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হবে। মূলধনের অন্তত ২০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে- এমন শর্তে এসব কোম্পানিকে আইপিওতে আসার কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এ শর্ত মেনে কয়েকটি বীমা কোম্পানি এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তারা শর্ত পরিপালন করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকিগুলো তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় আছে, তাদের মূলধনের ২০ শতাংশ বিনিয়োগে অনুরোধ করা হবে। এর বাইরে যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণে বন্ডের অনুমোদন নিয়েছে বা নিতে আসছে, তাদেরও মূলধনের অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে বলা হবে।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, জোর করে বিনিয়োগ হয় না। কমিশন এর আগে এ নিয়ে অনেক মিটিং-সিটিং করেছে, কাজ হয়নি। বীমা কোম্পানিকে জোর করে বিনিয়োগ করালে এবং তাতে লোকসান হলে তার দায় কে নেবে। বিশ্বের আর কোনো দেশে কাউকে এভাবে বিনিয়োগে বাধ্য করা হয়- প্রশ্ন তাঁর। আবু আহমেদ বলেন, এ মুহূর্তে সরকার যদি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আইসিবি বা ব্যাংকগুলোকে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শেয়ার কিনতে বলে, তাহলে কিছুটা কাজ হতে পারে। তবে সরকার এত টাকা কী দেবে? ২০১০ সালের ধসের পরও তো এত টাকা দেয়নি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু অর্থের জোগান আসছে না, তাই এ মুহূর্তে ভালো সমাধান হতে পারে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া। এতে কিছুদিন দরপতন হবে, এটা ঠিক। তবে যখনই শেয়ারের দর কমতে থাকে, তখনই কোনো না কোনো পর্যায়ে ক্রেতা জুটে যায়। শেয়ারদর, সূচক ও সার্বিক শেয়ারবাজারও ঘুরে দাঁড়ায়। এটাই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। এ নিয়মেই ভরসা রাখতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি এ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, একবারে না হলেও ধীরে ধীরে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া উচিত। তার আগে বিক্রির চাপ কমাতে এখন ব্লক মার্কেটে ফ্লোর প্রাইসের তুলনায় যে ১০ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তাকে আরও 'স্মার্ট'ভাবে ব্যবহার করতে হবে। আবু আহমেদ বলেন, ব্লক মার্কেটে ৫ লাখ টাকার নিচে শেয়ার কেনাবেচা করা যায় না। এ সীমা আপাতত ২ লাখ টাকা করা উচিত। কারণ এ বাজারের দুই-তৃতীয়াংশ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ মূল্য ৫ লাখ টাকার কম।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, সমাধান একটাই- ফ্লোর প্রাইস তুলে দিতে হবে। এটা তুলে দিলে লেনদেন হবে, হয়তো শেয়ারদর কমে যাবে। তবে এক সময় বাজার নিজের ক্ষত নিজেই সারিয়ে তুলবে। এটাই শেয়ারবাজারের ধর্ম। যে কৃত্রিম ব্যবস্থায় বাজারকে ধরে রাখা হয়েছে, তা আজীবন চলতে পারে না। এটা দিয়ে শেষ রক্ষা হবে, এমনটা বিশ্বাস করি না।

অবশ্য ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও এখন ফ্লোর প্রাইস তুলে না দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস দেওয়ার সিদ্ধান্তটাই ছিল ভুল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তুলে নেওয়া হবে আরও বড় ভুল সিদ্ধান্ত। আগে ফ্লোর না দিলে বাজার খারাপ হতে হতে নিজে থেকেই ঠিক হতো। এখন তুলে দিলে এত খারাপ হবে যে, তার ধকল নেওয়ার ক্ষমতা অনেকের নেই। তাই অর্থনীতির খারাপ সময় কেটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প আছে বলে তিনি মনে করেন না।

একইভাবে 'অনিশ্চিত সুদিন'-এর দিকে তাকিয়ে থাকার পক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, আগামীতে পোশাক রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। রেমিট্যান্স বাড়বে। আইএমএফের ঋণও আসছে। আশা করা যায়, জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি ভালো হবে।

আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশের ডলার সংকট মিটিয়ে দেবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে- এমন ধারণায় সবার ভরসা নেই। আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেবে, এমনটাও বিশ্বাস করেন না বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানই স্বপ্ন দেখিয়েছেন- দিনে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হবে, শেয়ারবাজার সূচক ১২ হাজার পার হবে। এখন ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে সূচক ও লেনদেনে ধস নামার শঙ্কা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই ভীতির কারণেই ফ্লোর প্রাইস তুলতে চাইছে না।