বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বেশি অস্থিতিশীল। এখানে বিনিয়োগ ঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি। এ কারণে বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ারে বিনিয়োগে খুব বেশি আগ্রহী নয়। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বীমা কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আহ্বান জানালে এমন মত দিয়েছেন বিভিন্ন বীমা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে বৈঠকে ২৬ বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব বা প্রধান অর্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকে বীমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন সংস্থার (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে আমন্ত্রণ জানালেও সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ অংশ নেন।
বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম জানান, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা আগামী কিছু দিন নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট আছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন বীমা কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আইনি ছাড় দিয়ে ২৬ বীমা কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বিএসইসি। শর্ত হচ্ছে, মূলধনের অন্তত ২০ শতাংশ তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। এরই মধ্যে যেসব কোম্পানি এ শর্ত মেনে তালিকাভুক্ত হয়েছে, তারা শর্ত পরিপালনে কী করছে, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি আরও যেসব কোম্পানি এ শর্ত মেনে আইপিও আসার প্রক্রিয়ায় আছে, তাদের এখন থেকেই বিনিয়োগ শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল আলম। জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অনুরোধ জানানোর পর বিভিন্ন বীমা কর্মকর্তারা শেয়ারবাজারে ওঠানামা বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সবার কথা হচ্ছে, এ বাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানের ভয় থাকে। বীমা কোম্পানিগুলোর প্রায় সব টাকাই বীমা গ্রহীতাদের। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে গ্রাহকের অর্থ তাঁরা ঝুঁকিতে ফেলতে চান না। তার পরও বিএসইসির অনুরোধে সবাই কিছু কিছু করে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, উদ্বেগের জবাবে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। তবে গবেষণা ও বিশ্নেষণনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি অন্য যে কোনো মাধ্যমের তুলনায় শেয়ারবাজার থেকেই সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো বীমা পলিসির বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল পায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার সুযোগ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় বেশি। বীমা কোম্পানি চাইলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দিতে সার্বিক সহায়তা দেবে বিএসইসি।
বৈঠকে বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা ফ্লোর প্রাইস আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইপিওতে আসতে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেশি থাকতে হবে কিনা, জানতে চান। বিএসইসির কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে সব শেয়ারের লেনদেনে সর্বনিম্ন মূল্যসীমা বেঁধে দিয়েছে বিএসইসি। শেয়ারদর ও সূচক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হলে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে। অপর প্রশ্নের জবাবে বিএসইসির কর্মকর্তারা জানান, আইপিও বিধিমালা ইপিএস ধনাত্মক থাকার কথা বলা হয়েছে। বেশি বা কম থাকার কোনো শর্ত নেই।