ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রাষ্ট্রীয় পাঁচ ব্যাংকে ঋণ অবলোপন কমেছে

রাষ্ট্রীয় পাঁচ ব্যাংকে ঋণ অবলোপন কমেছে

.

 ওবায়দুল্লাহ রনি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:১০

আদায় জোরদারসহ বিভিন্ন উপায়ে অবলোপন করা ঋণের স্থিতি কমিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০২৩ সাল শেষে এসব ব্যাংকের অবলোপনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। এক বছর আগে যা ১৬ হাজার ৬৭ কোটি টাকা ছিল। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে গত বছর অবলোপন বেড়েছে কেবল বেসিকের। ব্যাংক খাতের বহুল আলোচিত আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে বিতরণ করা অনেক ঋণের সুবিধাভোগীই পায়নি ব্যাংকটি। কমিশনসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। ফলে ব্যাংকটি অনেক দিন ধরে পরিচালন লোকসানে চলছে। ঋণ আদায়েও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওপর প্রস্তুত করা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণ কমে ৬ হাজার ৬১১ কোটি টাকায় নেমেছে। আগের বছর শেষে ছিল ৬ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণ আগের বছরের ৩ হাজার ৩০১ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকায় নেমেছে। গত ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণের স্থিতি নেমেছে ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকায়। আগের বছর শেষে ছিল ৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের আগের বছরের ৫৭৯ কোটি থেকে কমে ৫৬৮ কোটি টাকায় নেমেছে। বিডিবিএলে এক বছরে অবলোপন স্থিতি ১৮ কোটি টাকা কমে গত বছর শেষে ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকায় নেমেছে। আর বেসিক ব্যাংকে ২ হাজার ৪৬ কোটি থেকে বেড়ে গত বছর শেষ হয়েছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ব্যাংকের মন্দমানে শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। বর্তমানে একটি ঋণ তিন বছর মন্দমানে খেলাপি হলে তা অবলোপন করা যায়। খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে শিগগিরই এই নীতিমালা শিথিল করে দুই বছর মন্দমানে শ্রেণীকৃত থাকলেই অবলোপনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এভাবে ৪৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অবশ্য চাইলেই একটি ব্যাংক ঋণ অবলোপন করতে পারে না। অবলোপনের আগে ব্যাংকের মুনাফা বা উদ্যোক্তা মূলধন থেকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। আবার পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের ঋণ অবলোপনের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মামলা করতে হয়।

ব্যাংক খাতের সুশাসনের ঘাটতি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সম্প্রতি একটি পথনকশা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই পথনকশার পেছনে ভূমিকা রয়েছে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির। সংস্থাটির শর্তের আলোকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ১০ শতাংশের নিচে এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথা বলা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাগজে-কলমে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

আবার করোনাসহ বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক বছর ধরে ঋণ পরিশোধ না করেও নিয়মিত দেখানোর মতো শিথিলতা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্দশাগ্রস্ত তথা অবলোপন ও পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত দেখানো ঋণ আগামী দিনে ব্যালান্স শিটে আলাদাভাবে দেখাতে হবে। আর প্রকৃত আদায় ছাড়া এ ধরনের ঋণের বিপরীতে আয় দেখানো যাবে না। আইএমএফের শর্ত মেনে সর্বশেষ ২০২২ সালের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী গত বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি বা মোট ঋণের ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। যদিও কাগজে-কলমে খেলাপি দেখানো হয় ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

একটি সময় যে কোনো অঙ্কের খেলাপি ঋণ অবলোপনের আগে মামলা করতে হতো। তবে ক্ষুদ্রঋণে মামলা খরচের চেয়ে অনেকাংশে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কম হয়। যে কারণে ২০১৩ সালে মামলা না করেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৯ সালে এই অঙ্ক বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়। আর গত বছরের জানুয়ারিতে তা আরও বাড়িয়ে করা হয় পাঁচ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন

×