ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ব্যাংক পরিচালক হওয়ার শর্ত কঠিন করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক পরিচালক হওয়ার শর্ত  কঠিন করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

.

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:৩১

এখন থেকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার ন্যূনতম বয়স হবে ৩০ বছর। আবার একজনের নামে শেয়ার কিনে আরেকজনকে প্রতিনিধি পরিচালক করা যাবে না। আদালতের পাশাপাশি এখন থেকে কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে দণ্ডিত ব্যক্তি পরিচালক হতে পারবেন না। এ ছাড়া পরিচালকরা এখন থেকে প্রতি বৈঠকের জন্য ১০ হাজার এবং স্বতন্ত্র পরিচালকরা প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার স্থায়ী ভাতা পাবেন। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে পরিচালকদের দায়িত্ব ও নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন করে এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিচালক হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে আগে থেকেই অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা ছিল। এই অভিজ্ঞতা কবে থেকে ধরা হবে তা স্পষ্ট করা ছিল না। যে কারণে নির্ধারিত বয়স হওয়ার আগেই দুটি ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে একটি ব্যাংকের পরিচালক পদে অনাপত্তি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা আটকে যায়।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিচালকের ন্যূনতম বয়স হবে ৩০ বছর। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই অভিজ্ঞতার হিসাব ধরা হবে ১৮ বছরের পর থেকে। বর্তমানের মতো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত, জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য কোনো অবৈধ কাজে জড়িত ব্যক্তি পরিচালক হতে পারবেন না। ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে বিরূপ পর্যবেক্ষণ থাকলেও তাঁকে পরিচালক করা যাবে না। এখন থেকে আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতি লঙ্ঘনের কারণে দণ্ডিত ব্যক্তি পরিচালক হতে পারবেন না। আবার এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন যার নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বা প্রতিষ্ঠান অবসায়িত হয়েছে তিনিও পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা হারবেন।

এতে বলা হয়েছে, আমানতকারীর স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করলে পরিচালক বা চেয়ারম্যানকে অপসারণ বা পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পর্ষদ দৈনন্দিন কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়োগ-পদোন্নতির কমিটিতে পরিচালকদের কেউ থাকতে পারবেন না। কেবল এমডির নিচের দুই স্তরের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পর্ষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। প্রত্যেক সভার অন্তত দুই দিন আগে সব সদস্যের কাছে পর্ষদের এজেন্ডা পাঠাতে হবে। এজেন্ডাবহির্ভূত বিষয়ে পর্ষদ বিবেচনায় নিতে পারবে না। কোনো বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলে কার্যবিবরণীতে তা লিখতে হবে। পর্ষদ সভায় পরিচালক, এমডি ও কোম্পানি সচিবের বাইরে বহিরাগত কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা প্রধান কার্যালয় বা যে শহরে প্রধান কার্যালয় সেখানে করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে অন্য শহরে করলে ৭ দিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিতির জন্য প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সম্মানী নিতে পারবেন। পরিচালনা পর্ষদ বা বিভিন্ন কমিটির সভা যথাসম্ভব সীমিত রাখতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে অনেক বেশি সভা করা প্রয়োজন হলেও প্রতি মাসে পর্ষদের সর্বোচ্চ দুটি, নির্বাহী কমিটির চারটি, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি করে সভার জন্য সম্মানী নেওয়া যাবে। এই সম্মানীর বাইরে স্বতন্ত্র পরিচালকরা প্রতি মাসে স্থায়ী সম্মানী পাবেন ৫০ হাজার টাকা। আর পরিচালক হওয়ার পর নিজের, শেয়ার ধারক প্রতিষ্ঠান, পরিবারের বিস্তারিত তথ্য ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিতে হবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নোটিশ দেওয়ার ২ মাসের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা পরিচালক নিয়োগের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে মিথ্যা তথ্য দিলে অথবা যোগ্যতার ঘাটতি দেখা দিলে আইনের ১৭ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট পরিচালকের পদ শূন্য হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একই সময়ে একক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ তিনজন পরিচালক হতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন
দুটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক রাখা যাবে। এখন থেকে ব্যক্তি শেয়ারধারকের পক্ষে আরেকজনকে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫ বছর না হলে, ইচ্ছাকৃত খেলাপির তালিকা থেকে অব্যাহতির ৫ বছর অতিবাহিত না হলে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আবার নিজে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণ বা করখেলাপি হলে, একই সময়ে অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা বা কোনো সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, উপদেষ্টা, পরামর্শক বা অন্য কোনোভাবে লাভজনক পদে থাকলে, আদালত থেকে কখনও দেউলিয়া হলে পরিচালকের যোগ্যতা হারাবেন। কোনো পরিচালক টানা তিন মাসের বেশি নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের বাইরে থাকলে তার পক্ষে বিকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×