ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ডিসেম্বর শেষে কমেছে খেলাপি ঋণ

ডিসেম্বর শেষে কমেছে খেলাপি ঋণ

.

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:০১

জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা অনেক ঋণ আর ফেরত না আসায় সংকটে পড়েছে বেশির ভাগ ব্যাংক। এসব নিয়ে অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মধ্যে কমেছে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকায় নেমেছে। তিন মাস আগে গত সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো আদায় জোরদার, পুনঃতপশিল, অবলোপনসহ বিভিন্ন উপায়ে খেলাপি ঋণ কমিয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ঘাটতির বিষয় নিয়ে বেশ আগে থেকে আলোচনা হলেও এতদিন তা খুব একটা আমলে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আস্থাহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকে চরম সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। ডলার সংকটের মধ্যে টাকারও সংকট থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে অনেক খারাপ অবস্থায় পড়া কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা, ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল ও আদায় জোরদারসহ বিভিন্ন উপায়ে খেলাপি কমানোর একটি পথনকশা প্রকাশ করা হয়েছে। চারটি সূচকের ভিত্তিতে আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণ, আমানত বন্ধসহ বিভিন্ন কঠোরতা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে বেনামি ও ভুয়া ঋণ ঠেকানোসহ সুশাসন ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া তিন বছরের পরিবর্তে আগামীতে দুই বছর মন্দমানের খেলাপি থাকলে অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ৪৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আগের প্রান্তিকের মতোই ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা রয়েছে। মোট ঋণের যা ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমে ৭০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা এবং তাদের বিতরণকৃত ঋণের ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। গত সেপ্টেম্বর ছিল যা ৮১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা এবং ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। 
বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৮৬ কোটি টাকা কমে ৩২শ কোটি টাকায় নেমেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে এসব ব্যাংকের ৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল খেলাপি। ২০২২ সাল শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতিতে নাম আসা ব্যাংকই খেলাপি ঋণের শীর্ষে। অবশ্য নানা উপায়ে কিছু ব্যাংক অনাদায়ী বা বেনামি ঋণ নিয়মিত দেখাচ্ছে। ফলে খারাপ অবস্থায় থাকা সব ব্যাংক এই তালিকায় নেই। গত ডিসেম্বর শেষে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের হার ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের। ব্যাংকটির মোট ঋণের ৯৮ দশমিক ২২ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের হারে এর পরের অবস্থানে রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৮৭ শতাংশ, বেসিক ব্যাংক ৬৪ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৫২ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংক ৪৬ শতাংশ, বিডিবিএল ৪২ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ২৯ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ২৬ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ২১ শতাংশ এবং জনতা ব্যাংক ১৯ শতাংশ।
আইএমএফ শর্ত মেনে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশের নিচে নামাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫ শতাংশের নিচে এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনকার মতো শিথিল পদ্ধতিতে হিসাব করে এ তথ্য প্রকাশ করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খেলাপি ঋণ হিসাব করার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে শিথিলতা রয়েছে, শিগগিরই তা তুলে নিয়ে আগের মতোই আন্তর্জাতিক পদ্ধতির আলোকে হিসাব শুরু হবে। 

আরও পড়ুন

×