বিশ্ব অর্থনীতি ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কিন্তু গত বছরের বহুমুখী ধাক্কা এবং চ্যালেঞ্জের কারণে ২০২৩ সালে অর্থনীতি স্থবির হতে পারে। যে তিন রাষ্ট্রকে (যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীন) বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন মনে করা হয়, তাদের প্রবৃদ্ধি মন্থর হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন আন্তর্জাতিক সংস্থা। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এবং ক্রমাগত মূল্যস্টম্ফীতি, কঠোর আর্থিক অবস্থা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী কভিড-১৯ মহামারি এবং সরবরাহ-চাহিদার অসংগতি আরও মন্থর করেছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এমন মত দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞদের মতে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে জোর প্রচেষ্টা চালানো উচিত। আর্থিক নীতির উদ্দেশ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য সতর্কতার সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার লক্ষ্য হতে হবে শ্রম-বাজারের সীমাবদ্ধতা কমানো, শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানো, বাস্তুচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বণ্টন এবং দাম বৃদ্ধির চাপ কমানো। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে কার্যকর নীতি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইসিসিবির মতে, যদিও বাংলাদেশ মন্দায় নাও পড়তে পারে, তবে রপ্তানি পণ্য ও ঝুড়িকে বহুমুখীকরণ, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো, সরকারি খাতের ব্যয় সুবিন্যস্ত করা ও মেগা অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রকল্প যৌক্তিককরণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে উল্লেখযোগ্যভাবে মন্দার নানান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি তীব্রভাবে বেড়েছে। কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্টম্ফীতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে সুদের হার বাড়িয়েছে। মূল্যস্ম্ফীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যেসব নীতিমাল অনুসরণ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয় বলে এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত দেয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি সরবরাহ ব্যাহত না হয় এবং শ্রমবাজারের চাপ কমে যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ম্ফীতির হার উচ্চ থাকতে পারে।