বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারে অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা ও চলমান একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে ফিলিপাইনে গেছেন বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। অর্থ উদ্ধারে অগ্রগতি বিষয়ে দেশটির আইন বিভাগ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবেন তাঁরা। আজ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস দেশটির উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল যাওয়া প্রতিনিধি দলে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, বিএফআইইউ ও সিআইডির দু'জন করে কর্মকর্তা। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাঁদের সঙ্গে সেখানে যোগ দেবেন। প্রতিনিধি দল ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে। এ সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ছাড়াও ফিলিপাইনের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের সম্পত্তি ক্রোকের এক মামলায় সাক্ষ্য দেবে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে এ শুনানি হবে।

এমন একসময়ে ফিলিপাইনে এ সফর হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিলিপাইনের আরসিবিসিসহ ৬ বিবাদীর 'মোশন টু ডিসমিস' বা মামলা না চালানোর আবেদন খারিজের বিষয়টি আলোচনায়। গত ১২ জানুয়ারি এ রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলায় কোনো বাধা থাকল না। যদিও ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরসিবিসিসহ অন্যদের সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট কোর্ট।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত পায় বাংলাদেশ। ফিলিপাইনে নেওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ক্যাসিনো মালিক কিম অং দেড় কোটি ডলার ফেরত দিলেও ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।