কর্মকর্তাদের আন্দোলনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সৃষ্ট অচলাবস্থা গত পাঁচ দিনেও সমাধান হয়নি। দাবি আদায়ে গত ৩১ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে আসছিল পবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ রোববার থেকে তাঁরা বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে কর্মকর্তাদের আন্দোলনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবিগুলো হলো- অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নে আপডেট কমিটির প্রতিবেদন রিজেন্ট বোর্ডের সভায় অনুমোদন, সহকারী রেজিস্ট্রার পদের স্কেল ষষ্ঠ গ্রেড এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের স্কেল চতুর্থ গ্রেডে উন্নীত করা, অর্গানোগ্রাম কমিটিতে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রাখা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের প্রশাসনের বাইরে বদলি, প্রতি অর্থবছরে তিনটি বাছাই বোর্ড এবং তিনটি রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করা।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজকুরুনী জানান, দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানায় ৩১ জানুয়ারি থেকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন তাঁরা। রোববার থেকে তাঁদের কর্মসূচি প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত পালিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রুপের পরীক্ষা থাকে। তাঁদের আন্দোলনের তীব্র শব্দ ও কোলাহলে পরীক্ষা দেওয়ার পরিবেশ থাকে না। তাছাড়া প্রশাসন ভবনে কোনো কাজের জন্য গেলে কাউকেই পাওয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত সাংবাদিকদের বলেছেন, পদোন্নতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এজন্য কর্মকর্তাদের আন্দোলনের বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্দোলনের বিষয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে রোববার আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদী উপাচার্য।