ঢাকা সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩

গভর্নরকে আহসান এইচ মনসুরের পরামর্শ

রিজার্ভ আর কমতে দেওয়া যাবে না

রিজার্ভ আর কমতে  দেওয়া যাবে না

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। ফাইল ছবি

Advertisement
Advertisement

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৫:২৫ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৫:২৫

মূল্যস্ফীতির চাপ, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণ এখন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কোনোভাবেই আর কমতে দেওয়া যাবে না । এছাড়া সবার আগে মূল্যস্ফীতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে এক বৈঠকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন। 

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানতে চাইলে আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, সামনে নির্বাচন তাই অর্থনীতিতে এখনই বড় ধরনের সংস্কার করতে চাইবে না সরকার। অর্থনীতির সংকট থেকে উত্তরণে তিনি আপাতত স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ক্রমান্বয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসছে। তবে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ধরে রাখার স্বার্থে রিজার্ভ আর কমতে দেওয়া ঠিক হবে না। এ জন্য রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি উৎস থেকে সহজ শর্তে ঋণের অনুসন্ধান চালাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে সরকারকে ব্যয় করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। একসঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও সরকারি অর্থ ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। 

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, মূল্যস্ফীতি, ডলারের দামের অস্থিতিশীলতা এবং খেলাপি ঋণ এ সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সবার আগে মূল্যস্ফীতি কমানোর পরামর্শ দেন আহসান এইচ মনসুর। পাশাপাশি নতুন করে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ না দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

মেজবাউল হক আরও বলেন, বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, বর্তমানে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমিয়েছে সরকার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এখন আর ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। সরকারও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এখন ঋণও নিচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে সরকার।বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কার্যক্রমে পরামর্শ নিতে অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথমে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর। 

গত জুন ও জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্ট মাসে তা আবার বেড়েছে। গত মাসে (আগস্ট) মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। এই সময় দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হঠাৎ অনেকটা বেড়ে গেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার উঠেছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এক সপ্তাহে রিজার্ভ কমেছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার : গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ডলার কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ নামে ২১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে। এক সপ্তাহ আগে রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ডলার সংকটের কারণে আমদানির দায় মেটাতে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করার কারণে গত এক সপ্তাহে রিজার্ভ কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে রেকর্ড সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া রেমিট্যান্সে ভাটা পড়েছে।





আরও পড়ুন