ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

আগের ঋণেও সুদহার বাড়াতে পারবে ব্যাংক

আগের ঋণেও সুদহার বাড়াতে পারবে ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

ওবায়দুল্লাহ রনি 

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ০৮:৪৯

সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় এখন আগে নেওয়া ঋণেও সুদ বাড়াতে পারবে ব্যাংক। রপ্তানি, কৃষিসহ সব ধরনের ঋণের সুদহার বাড়ানোয় আর বাধা থাকবে না। এ ছাড়া আগের পদ্ধতি ‘স্মার্ট’ কার্যকরের পর কোনো গ্রাহকের একবার সুদ বাড়ানোর ৬ মাস পার না হলে আবার বাড়ানো যেত না। এখন মঞ্জুরিপত্রে পরিবর্তনশীল উল্লেখ থাকলে এ নির্দেশনাও মানতে হবে না। 

আইএমফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে গত বুধবার ডলারের দর বৃদ্ধি, সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং নীতি সুদহার বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন এক সময়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চাপে আছে মানুষ। অর্থনীতিবিদরা বেশ আগে থেকে সুদহার এবং ডলারের দর বাজারভিত্তিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের বড় একটি অংশ ঋণ নেওয়া তো দূরে থাক, ব্যাংকেই যায় না। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আইএমএফ যেখানেই যাক গৎবাঁধা তিনটি কথা বলে– সুদহার বাজারের ওপর, ডলারের দর বাজারভিত্তিক এবং মুদ্রানীতির সংকোচন। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা তাদের এ নিয়ম অনুসরণ করে কোনো সুফল পায়নি। ফলে শুধু তাদের কথা না শুনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, সুদহার নয়ছয় করা ছিল বড় ভুল। ডলারের দর বা সুদহার ধরে রাখা কখনও ভালো নয়। এখন ভালোভাবে তদারকি করতে হবে। ডলারের দর বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থ পাচার ও হুন্ডি রোধে কঠোর হতে হবে। হুন্ডিওয়ালারা ১৩০ টাকা দিলে তো সেখানেই ডলার চলে যাবে।

ব্যাংকাররা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়মে খাত ও গ্রাহকভেদে সুদহারে ১ শতাংশ পার্থক্য রাখা যাবে। তবে আগে যেমন কৃষি ও রপ্তানিমুখী শিল্পের ঋণে সুদহার কম রাখার বিধান ছিল, এখন তা রাখা হয়নি। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার কেমন বাড়াতে হবে, তা নির্ভর করবে আমানতের সুদ কতটুকু বাড়াতে হচ্ছে তার ওপর। কেননা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই এখন সঞ্চয় ক্ষমতা কমেছে। সরকারি ট্রেজারি বিলে সাড়ে ১১ শতাংশের মতো এবং বন্ডে ১৩ শতাংশের মতো সুদ মিলছে। এর মধ্যে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে আমানত পেতে ব্যাংকগুলোকে সুদ বাড়াতে হচ্ছে। এখন আমানতের সুদ বাড়লে ঋণের সুদও বাড়বে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, সুদহার বাজারভিত্তিক করায় আগামী দুই-এক মাস হয়তো কিছুটা এদিক-সেদিক হবে। তবে শিগগিরই এটি ঠিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেননা, স্মার্ট অনুযায়ী সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে ব্যাংকগুলো নিচ্ছিল ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ। ফলে এখনও খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটা তদারকি থাকবে। ফলে কোনো ব্যাংক বাজারের বাইরে কিছু করতে পারবে না।

বেসরকারি মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিউল আজম সমকালকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমানতের সুদ বাড়াতে হবে। আমানতে সুদ বাড়লে ঋণের সুদ বাড়বে, এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, এখন মূল্যস্ফীতি রয়েছে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এ অবস্থায় ঋণকে ব্যয়বহুল করে বাজারে তারল্য কমানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশ। তবে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি শুরুর পর গত বছরের জুলাই থেকে সুদহার নির্ধারণে ‘স্মার্ট’ নামে নতুন পদ্ধতি চালু হয়। স্মার্ট বা সরকারি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদের সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে সুদহার নির্ধারিত হয়ে আসছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ গত মার্চের স্মার্ট প্রকাশ করে। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ঋণের সুদহারে সর্বোচ্চ সীমার কারণে ব্যাংকগুলোর এতো দিন আমানতে অনেক বেশি সুদ বাড়ানোর সুযোগ ছিল না। তবে এখন ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক করার কারণে আমানত সংগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবে ঋণের সুদহার বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন

×