ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

এফবিসিসিআইয়ের বাজেট প্রতিক্রিয়া

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২১ | ১৩:২২

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সার্বিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট বলছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে সংগঠনটি বলেছে, অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারসহ তাদের কিছু দাবি মানা হয়নি। বাজেট পাসের সময় এসব দাবি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বাজেট পেশ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এফবিসিসিআই। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এ সময় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট করেছে। বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট কর কমানো হয়েছে। মেইড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় অটোমোবাইল থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার উৎপাদনকারী কোম্পানি, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন শিল্পে ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত টার্নওভার ৭০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের যন্ত্রপাতিতে ১ শতাংশ শুল্ক্ক আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু পদক্ষেপ উল্লেখ করেন তিনি। এসএমই খাতে দেওয়া প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, এ ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ এখনও বিতরণ হয়নি। ব্যাংক হিসাব না থাকায় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রণোদনার সুবিধা নিতে পারেননি।
বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটের আকার বাড়ছে। তবে এর বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। সুশাসন ও যথাযথ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও নির্বাহী দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তদারকির মান উন্নয়ন জরুরি।
জসিম উদ্দিন বলেন, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাটের ৪ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছিল এফবিসিসিআই। বাজেটে আগাম কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু অগ্রিম আয়কর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এ প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বাড়বে। বাজেট পাসের আগে আগ্রিম আয়কর ও আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের উৎসে কর ও অগ্রিম কর চূড়ান্ত কর হিসেবে সমন্বয় করার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার করা উচিত। সর্বমোট প্রাপ্তি তিন কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যক্তি করদাতাদের ব্যবসায়িক টার্নওভার করহার কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই হারে কর দেওয়ার সুপারিশ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা বাড়াতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি কাজে টিআইএন নম্বরের পাশাপাশি কর পরিশোধের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব উপজেলা পর্যায়ে আয়কর ও ভ্যাট অফিস স্থাপন করতে হবে। এনবিআর ভ্যাট আদায়ে অল্প কিছু ইসিআর মেশিন দিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। সবাইকে ইসিআর মেশিন দিলে ভ্যাট আদায় বাড়বে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্দা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শুল্ক্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করতে হবে। একটি জনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব ও উৎপাদনশীল রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

আরও পড়ুন

×