কাশ্মীর নিয়ে আবার আগুন জ্বলে উঠবে?

কালের আয়নায়

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

একটা 'নিষিদ্ধ' বিষয় নিয়ে লিখছি। এটি কাশ্মীর সমস্যা। কাশ্মীর নিয়ে লিখতে কোনো নিষেধাজ্ঞা কেউ আরোপ করেনি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের যে মৈত্রী ও সহযোগিতা, তাতে কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে কিছু লিখে এই মৈত্রী ক্ষুণ্ণ করা সমীচীন মনে হবে কি? কিন্তু কাশ্মীর সমস্যাটি এখন এমন বিস্ম্ফোরক হয়ে উঠেছে, এ সম্পর্কে কিছু না লিখলে বিবেক-পীড়া অনুভব করছি।

৭২ বছরের পুরনো কাশ্মীর সমস্যা এখন এমন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে যে, তার বিস্ম্ফোরণে শুধু কাশ্মীরে নয়, সারা উপমহাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যেতে পারে। কাশ্মীর নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষ- ভারত এবং পাকিস্তান দুইয়ের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র আছে। এই দুই দেশের মধ্যে যদি কাশ্মীর নিয়ে যুদ্ধ হয় এবং তাতে কোনো এক পক্ষের অসতর্কতার জন্য পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার হয়, তাহলে উপমহাদেশের ছোট-বড় সব দেশের মতো বাংলাদেশও দারুণভাবে বিপন্ন হবে। সুতরাং সমস্যাটিকে এখন আর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

আমাদের মনে রাখতে হবে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ হয়েছিল মূলত ইউরোপে। শেষের দিকে এশিয়ায় ছড়িয়েছিল। এই যুদ্ধের সময় মনুষ্য-সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশে ৫০ লাখ নর-নারী মারা পড়েছিল। এবার কাশ্মীর নিয়ে যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণুযুদ্ধ হয়, তাহলে বাংলাদেশও সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচবে না।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিবাদ চলছে সেই ভারত-ভাগের সময় থেকেই। মাঝে মাঝে উত্তপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। যুদ্ধও হয়েছে একাধিকবার। ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে বড় রকমের যুদ্ধ হয়, তা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় বন্ধ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতের ইন্দিরা সরকার কাশ্মীরের জাতীয় নেতা শেখ আবদুল্লার সঙ্গে আপস করেন। তিনি আবার কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৯৬৫ সালের তাসখন্দ চুক্তি এবং ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত সিমলা চুক্তিতে কাশ্মীরে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে দু'পক্ষ সম্মতি জানায়। এই স্থিতাবস্থা হলো ভারত অধিকৃত এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর- এ দুই অংশের সীমান্তে সংঘর্ষ বন্ধ রাখা এবং এই ভাগ মেনে চলা।

পাকিস্তান এই চুক্তি বেশিদিন মেনে চলেনি। সীমান্ত সংঘর্ষ আবার শুরু হয়। কাশ্মীরের অভ্যন্তরেও ভারত-বিরোধিতা শুরু হয়। কাশ্মীরের মানুষ ভারতভুক্তি মেনে নেয়নি। তারা আন্দোলন শুরু করে। দিল্লি ক্রমবর্ধমান এই বিক্ষোভ দমনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। শুরু হয় কাশ্মীরে ব্যাপক সন্ত্রাস। কাশ্মীরে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ছিল প্রথমে অসাম্প্রদায়িক। পাকিস্তানকে প্রথমে তারা মিত্র মনে করেনি। কারণ, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (যাকে বলা হয় আজাদ কাশ্মীর) অধিবাসীদের অবস্থা ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের চাইতেও খারাপ।

আজাদ কাশ্মীর নামেই আজাদ, তার নাগরিকদের কোনো অধিকার নেই। এখানেও পাকিস্তানের তাঁবেদার সরকার ও সেনাশাসন চলছে। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন হয় এবং নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসে এবং এলাকাটির উন্নয়নও হয়েছে প্রচুর। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর আমার আজাদ কাশ্মীর এবং ভারতের অধিকৃত কাশ্মীরের আখনুয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন দুই কাশ্মীরের অবস্থার তারতম্য নিজের চোখে দেখতে পেয়েছি।

ভারতের দাবি, কাশ্মীর স্বেচ্ছায় ভারতে যোগ দিয়েছিল। কথাটা সঠিক নয়। কাশ্মীরে মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কখনও ঢুকতে পারেনি। শেখ আবদুল্লা ছিলেন হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব কাশ্মীরির নেতা এবং তার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ছিল কাশ্মীরের সবচেয়ে মুখ্য এবং জনপ্রিয় দল। শেখ আবদুল্লা ছিলেন পণ্ডিত নেহরুর ব্যক্তিগত বন্ধু।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার সময় অন্যান্য দেশীয় রাজ্যের মতো কাশ্মীরের ভাগ্যও অনির্ধারিত থাকে। কাশ্মীরবাসীর ইচ্ছা ছিল ভারত ও পাকিস্তান এই দুই ডমিনিয়নের কোনোটাতেই যোগ না দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন দেশ হিসেবে থাকার। প্রথম দিকে এই ব্যবস্থায় নেহরু নিমরাজি ছিলেন। কিন্তু ভারত-ভাগ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কাশ্মীর স্বাধীন থাকলে পাকিস্তান সৈন্য পাঠিয়ে কাশ্মীর দখল করে নেবে। শেখ আবদুল্লা এই আশঙ্কায় কাশ্মীরের হিন্দু ডোগরা রাজাকে ভারতে যোগদানের ঘোষণা দিতে সম্মতি দেন। তবে কতিপয় শর্তে।

এই শর্তগুলো হলো- কাশ্মীর ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে না। হবে বিশেষ মর্যাদার বা স্পেশাল স্ট্যাটাস রাজ্য। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা থাকবে ভারতের হাতে। আর সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যের। কাশ্মীরের আলাদা পতাকা, আলাদা সংবিধান থাকবে এবং রাজ্যের সরকারপ্রধানকে মুখ্যমন্ত্রীর বদলে প্রধানমন্ত্রী বলা হবে। নেহরু সরকার এসব শর্ত মেনে নেয় এবং কাশ্মীর ভারতে যোগ দেয়। রামচন্দ্র কাকের জায়গায় শেখ আবদুল্লা হন প্রধানমন্ত্রী।

কাশ্মীরে প্রথম হামলাকারী পাকিস্তান। কাশ্মীরবাসীর মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে কাশ্মীর দখলের জন্য পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাশ্মীরের প্রায় অর্ধাংশ দখল করে নেয়। এই হামলা ঠেকানোর জন্য ভারত সৈন্যবাহিনী পাঠায় এবং রাজধানী শ্রীনগরসহ কাশ্মীরের বাকি অর্ধাংশের বেশি রক্ষা করে। কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে ভারত প্রথম জাতিসংঘে যায় এবং গণভোটে কাশ্মীরবাসী সিদ্ধান্ত দেবে- জাতিসংঘের এই প্রস্তাব মেনে নেয়।

গণভোট অনুষ্ঠানের এই অঙ্গীকার নেহরু কখনও পালন করেননি। বরং নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে চলতে থাকেন। কাশ্মীরে গণঅসন্তোষ বাড়তে থাকে। এই গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান ট্রেনিং দেওয়া সন্ত্রাসী দেশটিতে পাঠাতে থাকে। দুই কাশ্মীরের সীমান্তে অনবরত সংঘর্ষ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে বড় ধরনের যুদ্ধ হয়। দুই দেশের মধ্যে তাসখন্দ ও সিমলা চুক্তিও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।

কাশ্মীর সমস্যা সৃষ্টির জন্য কোনো এক পক্ষকে দায়ী করে লাভ নেই। এজন্য দুই দেশই দায়ী। সমস্যা সৃষ্টির মূলে রয়েছে, পাকিস্তানের আগ্রাসী নীতি (সামরিক শক্তি প্রয়োগে অথবা সন্ত্রাসী চালান দিয়ে কাশ্মীর দখল করে নেওয়ার প্রয়াস) এবং অন্যদিকে ভারতের ভ্রান্ত ও অঙ্গীকার ভঙ্গের নীতি। শুধু গণভোট অনুষ্ঠান দ্বারা কাশ্মীরবাসীকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার দানের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, সেই নেহরু আমলেই শেখ আবদুল্লাকে দেওয়া সাংবিধানিক অঙ্গীকারগুলো ভঙ্গ করে দাবি করা হয় 'কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ'।

বিজেপি এখন কাশ্মীরে দিল্লির প্রত্যক্ষ শাসন কায়েম, অশুভ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যটি নিয়ে বিভক্ত রাজ্যটিকে আবারও দ্বিখণ্ডিত করা, রাজ্যটিতে ব্যাপক সেনা সমাবেশ করা, রাজ্যের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করা এবং কাশ্মীরবাসীর অবশিষ্ট নাগরিক অধিকার রক্ষার সংবিধানিক রক্ষাকবচগুলোও বাতিল করার যে ব্যবস্থা করল, তা যতই অগ্রহণযোগ্য হোক, সেজন্য মোদি সরকারের সমালোচনা করার আগে ভারতের নেহরু সরকারসহ আগের কংগ্রেস সরকারগুলোর অঙ্গীকার ভঙ্গের ইতিহাস স্মরণ করতে হবে।


যে শেরে-ই-কাশ্মীর শেখ আবদুল্লা তার বন্ধু নেহরুকে এত বিশ্বাস করতেন, তিনি এক মধ্যরাতের দিল্লি-নিয়ন্ত্রিত ক্যু দ্বারা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন। বখশি গোলাম মোহাম্মদের অধীনে একটি তাঁবেদার সরকার ক্ষমতায় বসানো হয়।

নেহরু সরকারের পর অন্যান্য কংগ্রেস সরকার একে একে কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস, তার আলাদা সংবিধান এবং স্বশাসনের সংবিধানসম্মত অধিকার সবকিছু বাতিল করে এবং রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদটিকে মুখমন্ত্রীর পদ বলে ঘোষণা করা হয়। তদুপরি কাশ্মীরকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো একটি অঙ্গরাজ্য বলেও ঘোষণা করা হয়। এতকাল পর দিল্লির বিজেপি সরকার কাশ্মীরবাসীর অবশিষ্ট অধিকার কেড়ে নিয়ে এবং অন্যান্য রাজ্যের যে সমমর্যাদা কাশ্মীরের ছিল, তাও বাতিল করে কাশ্মীর সমস্যার শবাধারে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল। সুতরাং বলা চলে, কাশ্মীরবাসীর অধিকার হরণে কংগ্রেসও কম দায়ী নয়।

নেহরু জীবনের শেষলগ্নে নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন, তিনি কাশ্মীর সমস্যাকে তৎকালীন দুই বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধে জড়াতে দিয়ে ভালো করেননি। কাশ্মীরবাসীর দাবি-দাওয়াকে আমলে না এনে পাকিস্তানের সঙ্গে রাজ্যটিকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করে চরম ভুল করেছেন। কাশ্মীরের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রধান শক্তি ন্যাশনাল কনফারেন্স ও শেখ আবদুল্লাকে দমন করে কাশ্মীরের জনগণকে সাম্প্রদায়িকতার পথে ঠেলে দিয়েছেন। তাই পাকিস্তানের ট্রেনিংপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ঢুকে তার নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার। নেহরুর মৃত্যুর পরবর্তীকালে ইসলামী জঙ্গিরাও ব্যাপকভাবে কাশ্মীরের ভারতবিরোধী আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটায় এবং ব্যাপক সন্ত্রাস চালায়।

যাহোক, ষাটের দশকের গোড়াতে মৃত্যুর আগে এই উপলব্ধি থেকে পণ্ডিত নেহরু তার বন্ধু শেখ আবদুল্লাকে জেল থেকে মুক্তি দেন এবং কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের একটি যৌক্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পাকিস্তান এই পরিকল্পনা গ্রহণ করবে কি-না তা জানার জন্য শেখ আবদুল্লাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানে পাঠান।

ভারতের প্রয়াত সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার শেখ আবদুল্লার লাহোর সফরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার আভাস দিয়েছিল, নেহরু-আবদুল্লা ভালো-মন্দ যে শান্তি ফর্মুলাই দিয়ে থাকুক, তা তারা বিবেচনা করবে। কুলদীপ নায়ার লিখেছেন, শেখ আবদুল্লা লাহোরে পৌঁছার পর লাখ লাখ নর-নারী শের-ই-কাশ্মীর জিন্দাবাদ ধ্বনি তুলে তাকে স্বাগত জানায়।

নায়ার তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, আবদুল্লা পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলাপে বসতে যাবেন, এই সময় খবর এলো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরু আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন, লাহোরে লক্ষাধিক লোকের জনসভায় শেখ আবদুল্লা অশ্রুনয়নে বলেছেন, 'আমার বন্ধু নেহরু নেই। আমার স্বপ্নেরও সমাধি হয়েছে। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়তো আমার এ জীবনে আর দেখে যাব না।'

শেখ আবদুল্লার কথা সত্য হয়েছে। নেহরুর মৃত্যুর পর তার ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা আর এগোয়নি। প্রথম বিজেপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ি পাকিস্তানের সঙ্গে মৈত্রী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। বিজেপির তখনকার শীর্ষ নেতা এলকে আদভানি করাচিতে জিন্নার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে তার গুণগান করেছেন। তাতে পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের মন গলেনি। তাদের মনে ভারতবিদ্বেষ প্রচণ্ড।

নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন। তার জেনারেলরা কারগিলে যুদ্ধ বাধিয়ে তার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। নরেন্দ্র মোদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নওয়াজ শরিফের সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করেছিলেন। নওয়াজ শরিফের সামরিক অভিভাবকেরা তাকে এগোতে দেয়নি।

কিছুদিন আগে কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশতের কাছাকাছি ভারতীয় সৈন্য মারা যাওয়ার পর মোদি সরকার পাকিস্তানকে দায়ী করেছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বোমা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানও পাল্টা বোমা হামলা চালিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক শেষ তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কাশ্মীরবাসীর সব অধিকার কেড়ে নেওয়া সমস্যার সমাধান করবে না। বরং কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও কাশ্মীরের মানুষের অধিকার হরণ বিশ্ববাসীর চোখে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে মলিন করবে।

ভারতের যুদ্ধের হুমকির মুখে পাকিস্তানও পাল্টা যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, 'শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তারা ভারতকে প্রতিহত করবেন।' একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাজছে যুদ্ধের দামামা। একই সঙ্গে যদি দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এতদিনের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় তাহলে সারাবিশ্বেই ধ্বংসের আগুন জ্বলে উঠবে।

এই মুহূর্তে প্রয়োজন ভারত এবং পাকিস্তান দুটি দেশকেই যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা এবং যত অসম্ভবই হোক দু'পক্ষকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনা। ১৯৬৫ সালে এ কাজটি করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের ছিল নারদমুনির ভূমিকা। এবারও কি রাশিয়ার পুতিন এই মধ্যস্থতার কাজে এগিয়ে আসবেন- এটাই সম্ভবত এখন একমাত্র ভরসা।

লন্ডন, ৮ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, ২০১৯