বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধকালে সমাজতন্ত্রের কথা শোনা গিয়েছিল। ঊনসত্তরেই জাতীয়তাবাদী নেতারাও সমাজতন্ত্রের পক্ষে বলাবলি শুরু করেছিলেন। অর্থাৎ বাধ্য হয়েছিলেন বলতে। উদ্দেশ্য আন্দোলনরত মানুষকে নিজেদের বেষ্টনীর ভেতর ধরে রাখা। নতুন রাষ্ট্রের সংবিধানে যে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকবে, সেটাও ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক; উজ্জ্বল অক্ষরে সেটা লেখাও হয়েছিল। কিন্তু যতই সময় পার হতে থাকল, ততই অনেকটা প্রভাত কাটিয়ে ভরদুপুরের আগমনের মতো পরিস্কার হয়ে উঠল এই সত্য যে, রাষ্ট্র ধরেছে পুরোনো পথ, চলেছে সে পুঁজিবাদী ধারাতেই। প্রথমে একটু ইতস্তত করেছে, তার পরে মহাউৎসাহে, প্রবল প্রতাপে এবং ক্রমবর্ধমান বিক্রমে এগিয়ে গেছে ব্যক্তিমালিকানার সড়ক ধরে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমাজতন্ত্রের জন্য কোনো সম্ভাবনাই নেই। সমাজে মধ্যবর্তী স্তরটা বসে যাবে। ভাগ হয়ে যাবে শিক্ষার পৃথিবী-দুই ভাগে; একপাশে ইংরেজি মাধ্যম, অন্যপাশে মাদ্রাসা। বাংলা মাধ্যম দেবে যাচ্ছে, আরও দাববে।

কিন্তু এমনটা যে ঘটবে কেউ কি কখনও ভেবেছিল? বাংলাদেশের অভ্যুদয় ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রেরণা ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয়েছে ঠিকই, না হয়ে উপায় ছিল না; কিন্তু রাষ্ট্রের ভাষা হয়নি। স্বপ্ন ছিল একটি অভিন্ন শিক্ষাধারা গড়ে তোলার; সে স্বপ্ন কুপোকাৎ হয়ে স্বাপ্নিকদের লজ্জা দিচ্ছে। সবকিছুই ঘটল একটি কারণে। সেটি হলো, সমাজতন্ত্রীদের অকৃতকার্যতা। মুক্তির সংগ্রামে জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন, সমাজতন্ত্রীরাও ছিলেন; সমাজতন্ত্রীরাই ছিলেন মূলশক্তি, তারাই আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, এগিয়ে নিয়ে গেছেন; কিন্তু নেতৃত্বে থাকতে পারেননি। নেতৃত্ব চলে গেছে জাতীয়তাবাদীদের হাতে। জাতীয়তাবাদীরা মুখে যাই বলুন বা বলতে বাধ্য হোন, ভেতরে তারা পুঁজিবাদী; তাদের বিশ্বাস তখন যেমন ছিল এখনও তেমনি রয়ে গেছে ব্যক্তিমালিকানাতেই। বক্তৃতায়, বিবৃতিতে, আওয়াজে সমষ্টির কথা বললেও স্বাধীনতা তাদের জন্য ব্যক্তিগত সুখ আনবে, এমনটাই ছিল তাদের প্রত্যাশা। স্বাধীনতা পেয়ে তারা ব্যক্তিমালিকানার লাইনে চলা অক্ষুণ্ন রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক এবং সেটাই তারা করেছেন। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাতে প্রবল দুর্বলকে যে হটিয়ে দেবে, এটা অনিবার্য। কাপ্তাই হ্রদে সম্প্রতি 'পিরানহা' নামে একটি রাক্ষুসে মাছ ধরা পড়েছে, ওই মাছ যেখানে থাকে, সেখানে অন্য মাছেরা বিপদে পড়ে। কারণ 'পিরানহা' বাঁচে অন্য মাছ ভক্ষণ করে। বাংলাদেশের সর্বত্র এখন ওই মাছের দৌরাত্ম্য; অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সর্বত্র সে ব্যাপক হারে ছোট মাছেদের উদরস্থ করছে। স্বভাবতই তার বিশেষ চোখ দুর্বলদের ওপর। বাংলাদেশে এখন তাই এমন সব ঘটনা ঘটছে কখনও, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি। শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে, ধর্ষণের পরে তারা নিহতও হচ্ছে। গণপরিবহনে রাস্তাঘাটে কিশোরী-তরুণী-যুবতী ধর্ষকের থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আবরাররা নিহত হয়। অন্যের অপরাধে মন্টু মণ্ডল জেল খাটেন। সগিরা মোর্শেদ বাঁচতে পারেন না।

ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো করছিল। আমাদের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই বিশ্বমাপে উন্নীত হয়েছেন। জাতির জন্য তারা গৌরব বয়ে নিয়ে এসেছেন; কিন্তু অবস্থানটা ধরে রাখতে পারছেন কি? পারছেন না। কারণ পুঁজিবাদ সেখানেও ঢুকে পড়েছে। দেশের শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট প্লেয়ার যিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার। সাময়িকভাবে তিনি খেলার জগৎ থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন। জানা গেছে, আমাদের খেলোয়াড়রা কেউ কেউ অত্যন্ত বেশি টাকা উপার্জন করেন। তাদের বাজারদর খুবই চড়া। অন্যরা অতটা দাম পান না এবং নিজেদের বঞ্চিত জ্ঞান করেন। এর মধ্যে ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা বোর্ডের আয়-রোজগারও বেশ ভালো। বোর্ড নাকি খেলোয়াড়দের তাদের যা প্রাপ্য, তা দেয় না। অধিকাংশ খেলোয়াড়ই তাই অসন্তুষ্ট। তাদের বিক্ষোভ উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে; তারা ধর্মঘট পর্যন্ত করেছেন। এসব প্রভাব স্বভাবতই গিয়ে পড়েছে খেলার মানের ওপর। জাতীয় সম্মানবোধের যে চেতনা নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেটা এখন যে আর অক্ষত নেই, তা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। তাদের ঐক্য এখন আর অনড় নয়, ঐক্যের ভেতরে ব্যক্তিস্বার্থের অন্তর্ঘাত চলছে। সবকিছু ভাঙছে, খেলোয়াড়দের দেশপ্রেম কেন ভাঙবে না? সবাই সর্বক্ষেত্রে জিজ্ঞেস করে, আমি কী পেলাম? পেতে চায়, দিতে ভুলে গেছে। অথচ দিয়েছে তো। প্রাণ দিয়েছে মুক্তিসংগ্রামে। শুরুটা যার অনেক আগে, একটা পরিণতি একাত্তরে। একাত্তরের মুক্তির সুফল এখন ব্যবসায়ীদের হাতে এবং ব্যবসায়ের অধীনে চলে গেছে রাজনীতি। রাজনীতির লোকেরা যখন একাত্তরের কথা খুব জোরে জোরে বলেন, তখন সন্দেহ হয় ভেতরটা শূন্য এবং তালটা মুনাফার। পণ্য হিসেবে একাত্তরকে ব্যবহার করছেন। একাত্তরের চেতনাটা ছিল সমাজ বিপ্লবের; সেটাকে ঢেকে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা একাত্তরের শহীদদের ও যোদ্ধাদের অপমান করা বৈকি। বুঝুন আর না-ই বুঝুন, ওই কাজটা যারা করেন, তাদের উদ্দেশ্য মুনাফা লোভই, অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বড় ও প্রথম আয়োজনে যে ঘুষ প্রদান ঘটে সেটা হলো, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট প্রদান। ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকরিতে উন্নতি, পারমিট লাইসেন্স হাতিয়ে নেওয়া, চাকরিপ্রাপ্তি, সম্পত্তি জবরদখল, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা, সব চলতে থাকল।

মুক্তিযুদ্ধে যারা গিয়েছিলেন, তারা কেউই সার্টিফিকেট লাভের আশার দ্বারা চালিত হননি। তাগিদটা ছিল পুরোপুরি দেশপ্রেমিক, সার্টিফিকেট দান ব্যবস্থা চালু করে দেশের প্রতি ওই প্রেমকে পরিণত করার চেষ্টা হলো মুনাফালিপ্সাতে। সুযোগ করে দেওয়া হলো ওই হস্তগতকরণকে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই বঞ্চিত হলেন। শত শত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখা গেল। উড়ে এলো। জুড়ে বসল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চাকরিতে কোটার ব্যবস্থা করা, সেই কোটাকে পুত্র-কন্যা এবং পরে নাতি-পুতিদের পর্যন্ত প্রসারিত করে দিয়ে যুদ্ধের প্রতি কেবল যে অসম্মান প্রদর্শনের স্থায়ী আয়োজন তৈরি করা হলো তাই নয়, বঞ্চিতদের মনে যোদ্ধাদের প্রতি বিদ্বেষ উৎপাদনের জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তুতও হয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, ভাতা বৃদ্ধি, জাল সার্টিফিকেট তৈরি, সবকিছুর মধ্য দিয়েই পরিমাপ ঘটতে থাকল মুক্তিযুদ্ধের সমাজ বিপ্লবী চেতনা থেকে রাষ্ট্রের সরে যাওয়ার। রাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল হানাদার শয়তানদের বিচার। নিকৃষ্টতম অপরাধী হিসেবে ১৯৫ জনকে চিহ্নিতও করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র তাদের বিচার করতে পারল না। অপরাধীরা সবাই চলে গেল তাদের দেশে। এত বড় অপরাধের যখন বিচার হলো না, তখন আশঙ্কা করা স্বাভাবিক হলো যে, এ রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার পাওয়াটা সহজ হবে না। পরবর্তীকালে প্রমাণ হয়েছে যে, আশঙ্কাটা অমূলক ছিল না।

আমাদের এ রাষ্ট্র পুঁজিবাদী। বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এক প্রান্তে তার অনাত্মসচেতন অবস্থান; পুঁজিবাদের গুণগুলো যেমন-তেমন, পুঁজিবাদের যত দোষ আছে সবগুলোই সে আত্মস্থ করে ফেলেছে এবং ক্রমবর্ধমান গতিতে বিকশিত করে চলছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটা অসংশোধনীয় রূপে পিতৃতান্ত্রিক; যে জন্য এই ব্যবস্থায় মেয়েরা নিরাপত্তা পায় না এবং নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়। পদে পদে তাদের বিপদ। গৃহে সহিংসতা, পরিবহনে হয়রানি। একাধিক জরিপ বলছে- বাংলাদেশে মেয়েরা জানিয়েছে, তাদের শতকরা ৯৮ জন উন্মুক্ত জায়গাতে হয়রানির শিকার হয়। মেয়েরা এখন গায়ে বোরকা চাপিয়ে, হিজাবে চেহারা লুকিয়ে রেখেও রক্ষা পায় না। মেয়েমানুষ, তার এত দেমাক কেন, এই নীতিতে দীক্ষিত সগিরা মোর্শেদকে শাস্তি দেন তার ভাশুর, যিনি একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক হিসেবে যতই তার পসার হোক না কেন, একজন পিতৃতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ভিন্ন অন্য কিছু নন। তার স্ত্রী, যার প্ররোচনায় তিনি ওই কাজে ব্রতী হয়েছেন, সে ব্যক্তি একজন নারী ঠিকই; কিন্তু আসলে পিতৃতান্ত্রিক অর্থাৎ কিনা কর্তৃত্ববাদী, অসহিষুষ্ণ। ব্যবস্থাটা এ রকমেরই যে, স্বৈরাচারীরা অতিসহজে পার পেয়ে যায় এবং পুনর্বাসিত হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটে ঠিকই; কিন্তু লোকটি আবার ফেরতও আসে। তার জেল হয়; কিন্তু লোকটির আসল যে দুটি অপরাধ, সে দুটির কোনোটিরই বিচার হয় না। আজ তিনি নেই বটে; কিন্তু এসব নেতিবাচক বিষয়গুলো বারবার আলোচনায় আসবে। মস্ত বড় অপরাধ ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখল করা। সেটি নির্জলা রাষ্ট্রদ্রোহ। তার বিচার না করে আলতু-ফালতু সব অপরাধ নিয়ে টানাটানি করা হয়। এরশাদের দ্বিতীয় অপরাধ মঞ্জুর হত্যায় তার চেষ্টার সংশ্নিষ্টতা। এই অপরাধটির জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। আদালতের আদেশে তদন্ত হয়েছে; কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলো না; পুনঃতদন্ত, তারপর আবার তদন্ত, বিচারক বদলি- এসব সময়ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে তিনি পরলোকে চলে গেলেন। রাষ্ট্র উদাসীন এমন কথা কেউ বলতে পারবে না; কিন্তু প্রয়োজনমাফিক সে উদাসীন হতে জানে বৈকি।

এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের অনুঘটকদের মধ্যে দু'জন ছিলেন প্রধান, ডা. শামসুল আলম খান মিলন এবং নূর হোসেন। এটা ভেবে লজ্জায় ও দুঃখে আমাদের অধীর হতে হয় যে, তাদের হত্যার কোনো বিচার হয়নি। মিলনের মা বলেছেন, বিচার পাওয়ার আশা তিনি এখন আর করেন না। ঘাতক এরশাদ তো চলেই গেছেন। নূর হোসেনের মা বিচার পাওয়ার আশা তো ছেড়ে দিয়েছেনই, উল্টো মৃত সন্তানকে অপমানের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অবস্থান ধর্মঘট করেছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে (আর কোথাও কি জায়গা আছে যাওয়ার)। নূর হোসেনের অসম্মান করেছেন পতনের পরে উত্থিত এরশাদের জাতীয় পার্টির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান রাঙ্গা সাহেব। তিনি বলেছেন, নূর হোসেন কোনো বিবেচনাযোগ্য ব্যক্তি ছিল না; তাকে নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থবাদীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হৈচৈ করেছে, নূর হোসেন আসলে ছিল একজন ভবঘুরে, নেশাখোর; সে ইয়াবা ও ফেনসিডিল সেবন করত। বলার পরে মহামতির খেয়াল হয়েছে যে, নূর হোসেনকে যখন তাদের মহান নেতা স্বৈরাচারী এরশাদ সাহেব হত্যা করেন, তখন দেশে ইয়াবা তো নয়ই, ফেনসিডিলেরও প্রচলন ছিল না। তবে খেয়াল তিনি মোটেই করতেন না, যদি নূর হোসেনের বিধবা মা সন্তানের সম্মান রক্ষার জন্য উদ্যোগটা না নিতেন। এরশাদ সাহেব জেলে গিয়েছিলেন, জেল থেকে বের হয়ে শহীদ নূর হোসেনদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন মাফ চাওয়ার জন্য; জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন। আজ তিনি প্রস্থান করেছেন; কিন্তু তার সুযোগ্য রাজনৈতিক চেলা রাঙ্গা সাহেব নূর হোসেনকে দিব্যি অপমান করেছেন। এমন যে ঘটছে, তার কারণটা কী? কারণ হলো- স্বৈরাচারী যায় ঠিকই, কিন্তু স্বৈরাচার যায় না; থেকে যায় এবং ব্যবস্থার আনুকূল্য পেয়ে রয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আরও খলবল হয়ে ওঠে। আমাদের দেখতে ও সহ্য করতে হয়েছে আইয়ুব খানের পতনের পর তার চেলা ইয়াহিয়া খান স্বৈরাচারের ব্যাপারে আপন প্রভুকেও ছাড়িয়ে ওঠার ঘটনা। কারণ ওই একই, হাকিম বদলায়, হুকুম বদলায় না এবং হাকিমের হুকুম দেওয়ার ক্ষমতাটা আরও বৃদ্ধি পায়।

তাহলে ভরসা কোথায়? একটা ভরসা এই যে, দুষ্ট লোকেরা যতই ক্ষমতাবান হোক, ভালো মানুষেরাও আছেন এবং তাদের সংখ্যাই অধিক। ধরা যাক বগুড়ার লাল মিয়ার কথা। লাল মিয়া সামান্য রিকশাচালক। কিন্তু তিনি অসামান্য এক কাজ করেছেন। একজন যাত্রী ভুল করে লাল মিয়ার রিকশাতে ২০ লাখ টাকার নোটভর্তি একটি ব্যাগ ফেলে যান। লাল মিয়া যাত্রীকে খুঁজতে থাকেন। না পেয়ে ব্যাগ নিজের জিম্মায় রেখে দেন, মালিক ব্যাগের সন্ধান করবেন এই আশায়। মালিক ঠিকই সন্ধান করেছেন এবং যা তিনি ঘটবে বলে ভরসা করেননি তাই ঘটেছে, লাল মিয়া নিজের কাছে রাখা ব্যাগটি মালিককে ফেরত দিয়েছেন। আমাদের সরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা যখন লোপাট হয়ে যায়, তখন এই ভালো মানুষের খবরটা আশা জাগায় বৈকি। ঘটনাটি যে ব্যতিক্রম তাও বলা যাবে না। এ রকমের ভালোমানুষির দৃষ্টান্ত প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যাবে। কিন্তু ভালো মানুষরা তো দুর্বল, তাদের ক্ষমতা নেই, তারা বিচ্ছিন্ন, একাকী ও গোটা ব্যবস্থাটা তাদের বিরুদ্ধে। তবে ভালো মানুষরা পারেন যখন তারা একত্র হন। একত্র হয়েছিলেন বলেই আইয়ুব খানের পতন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, এরশাদের বিদায়, এসব ঘটনা ঘটেছে

লেখক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্নেষক