সরকারের বিরুদ্ধে ডানে-বামে এক সুর

কালের আয়নায়

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন আমার খুবই প্রিয়জন ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একজন ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর একসময় ভাবতাম, ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করবেন। স্বৈরাচারী উচ্ছেদ ও জাতীয় মুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। তিনি তা দিতে পারেননি এবং দেননি। তাতে দুঃখ ছিল না। অনেকেই অনেক কাজ পারেন না। সে জন্য তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ড. কামাল হোসেনকেও দেব না। কিন্তু যখন দেখলাম, তার গণতন্ত্রপ্রীতির চেহারার আড়ালে যার চেহারা গণতন্ত্রের, অসাম্প্রদায়িকতার শত্রুদের মিত্রের, এখন তার এই মুখোশের উন্মোচন করাটাই আমার সাংবাদিক দায়িত্ব বলে মনে করেছি। তিনি আমার ব্যক্তিগত শত্রু নন। যেহেতু তিনি এখন দেশের গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার শত্রুদের মিত্র ও সহযোগী এবং মুক্তিযুদ্ধে তার কোনো অবদান নেই, তবু দাবি করেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা; সে জন্য তাকে অপছন্দ করি। তার বিরুদ্ধে কলম ধরা একটি দায়িত্ব বলে মনে করি।
ড. কামাল মধ্যবাম রাজনীতিক ছিলেন, এখন তিনি চরম ডান প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপের নেতা। অন্যদিকে আমার পছন্দের এক বাম নেতা আছেন, যাকে আগে আমি পছন্দ করতাম, এখনও করি। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি ড. কামালের মতো চরিত্রভ্রষ্ট হননি। স্বাধীনতার শত্রুদের মিত্র হননি। তিনি এখনও সংগ্রামের মাঠে জনগণের মিত্র; কিন্তু আমার মতে, পথভ্রষ্ট হয়েছেন।

এক জায়গায় ড. কামাল হোসেন ও মুজাহিদুল ইসলামের রাজনীতির মধ্যে বিরাট মিল। এই মিলটি দু'জনেরই রাজনৈতিক জীবনের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। রাজনৈতিক জীবনে বারবার ব্যর্থ হয়ে ড. কামাল হয়তো এই বাত ও বার্ধক্যের জীবনে রাজনীতি থেকে অবসর নিতেন। এমন সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন। দলের কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব অপরকে দিয়েছেন। জনগণ তাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তথাপি তার রাজনীতির মাটি আঁকড়ে থাকা, এমনকি স্বাধীনতার শত্রুদের শিবিরে গিয়ে যোগ দেওয়ার পেছনে কারণটা কী?

অন্যদিকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রাশিয়ার গর্রাচেভের তথাকথিত পেরেস্ত্রোইকার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বাংলাদেশেও কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে গেলে তার খণ্ডাংশকে ধরে রেখে কমিউনিস্ট পার্টিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচান এবং এখন তার সভাপতি। স্বাধীনতার পর তার দল কমিউনিস্ট পার্টি (মণি সিংহ) সুখে-দুঃখে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ঘর করেছে এবং বাকশালে পর্যন্ত অঙ্গীভূত হয়ে গিয়েছিল। দলের অনুগত কমরেড হিসেবে সেলিমও শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন।

তাহলে এখন এমন কী ঘটল, যাতে খণ্ড কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হওয়ার পর মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকারের ওপর এমন রেগে গেলেন? তিনি বামপন্থি এবং নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক। তিনি ড. কামালের মতো সুবিধাবাদী রাজনীতিকও নন। ক্ষমতার রাজনীতিও করেন না। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির নাম ও আদর্শ এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। তাহলে ড. কামালের সঙ্গে একটি জায়গায় তাদের আশ্চর্য মিল কেন?

তারা দু'জনেই শেখ হাসিনার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করেন। ড. কামাল তো নীতি ও চরিত্র দুটিই বিসর্জন দিয়েছেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর উদগ্র বাসনায়। অন্যদিকে সেলিম হাসিনা ও আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষটি লাভ করেছেন তার পূর্বতন মুজিব-বিদ্বেষ থেকে। এটা আমার ধারণা। তার মধ্যে কখন কী কারণে মুজিব-বিদ্বেষ জন্ম নিয়েছিল, তা আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধু এখন নেই। সেলিমের রাগ ও বিদ্বেষ এখন সম্ভবত রূপান্তরিত হয়েছে তার কন্যা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর।

এসবই আমার ধারণা। তবে এই ধারণা পোষণের কিছু বাস্তব ভিত্তি আছে। এই বাস্তব ভিত্তি কী, তা পাঠকদের জানাতে চাই। আগে ড. কামাল হোসেনের কথা বলি। কামাল-চরিত্র বিশ্নেষণ দ্বারা আমার সিদ্ধান্ত, বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর বিশাল জনপ্রিয়তার যুগে এই দলে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছেন। তা না হলে তা অর্জন করতে পারতেন না।

বঙ্গবন্ধু তার সব স্খলন ক্ষমা করেছিলেন; যেমন করেছিলেন খন্দকার মোশতাককে। এই ক্ষমা প্রদর্শনই বঙ্গবন্ধুর কাল হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ড. কামাল আশা করেছিলেন, শেখ হাসিনাকে তার মুঠোয় নিয়ে অন্তরালে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন। তারপর সুযোগ বুঝে হাসিনাকে সরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হবেন। সেটা হয়নি। যদি সেটা হতো তাহলে আওয়ামী লীগের অবস্থা দাঁড়াত গণফোরামের মতো। বিএনপি-জামায়াত এখনও মহাসুখে রাজত্ব চালাত।
১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি আওয়ামী লীগে একটি দলীয় ক্যু ঘটানোরও চেষ্টা চালান। হাসিনা নেতৃত্ব সেই ক্যুয়ের মুখেও বেঁচে যায়। ক্রুদ্ধ ড. কামাল দলত্যাগ এবং গণফোরাম গঠন করেন। কাগজে-কলমে গণফোরামের লক্ষ্য- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা; আসল লক্ষ্য, স্বাধীনতার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হলেও হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ। তাতে যদি জামায়াতিরাও ক্ষমতায় আসে, তার আপত্তি নেই। এই ব্যক্তিগত বিদ্বেষকে পুঁজি করে তিনি রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, তাতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন।

এবার আসি কমিউনিস্ট পার্টি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কথায়। ড. কামাল ও সেলিম দু'জনেই রাজনীতির দুই মেরুতে বাস করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও হাসিনা-বিদ্বেষ পোষণে দু'জনের মধ্যে আশ্চর্য মিল। দু'জনেই মনে করেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একটি 'ফ্যাসিস্ট সরকার'। হাসিনা দেশে স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছেন। এই শাসনের উচ্ছেদ দু'জনেরই লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে দু'জনে কেন এক হতে পারছেন না, সেটাও আমার বিস্ময়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যখন ভেঙে যায়, তখন দলের অনেক কমরেডসহ তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকও গণফোরামে যোগ দেন। মানিক গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন।

ড. কামালের অত্যন্ত কাছে একসময় গিয়েছিলাম বলে তার চরিত্র সহজে বিশ্নেষণ করতে পারি। কিন্তু সেলিমের সঙ্গে অত সখ্য ছিল না বলে তার চরিত্র বিশ্নেষণ আমার পক্ষে সহজ নয়। তবে তিনি আমার ভালো বন্ধু। ভদ্র ও অমায়িক। তিনি ড. কামালের মতো ব্যক্তিগত গালাগালি এবং অভব্য ভাষায় আওয়ামী-বিদ্বেষ প্রকাশ করেন না। সম্প্রতি ড. কামাল নাকি বলেছেন, 'লাথি মেরে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে তাড়াতে হবে।' এ ধরনের কথা বলার সাহস তিনি জিয়া ও এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনামলে দেখাননি। তখন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশেই বসবাস করছেন এবং সরকারকে অভব্য ভাষায় গালাগালি করে প্রমাণ করছেন, দেশে বাকস্বাধীনতা আছে।

সেলিম ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র এবং কথাবার্তাও ভদ্র। তিনিও আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষ পোষণ করেন। তবে তার প্রকাশ ঘটান গালাগালি দ্বারা নয়, রাজনৈতিক ভাষায়। ড. কামালের সঙ্গে তার মিল সম্পর্কে আগেই বলেছি। দু'জনেই আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিস্ট সরকার বলে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তবে তাদের এই বিদ্বেষ প্রকাশের ধরন এক নয়। ড. কামাল যে ধরনে আওয়ামী সরকারকে গালাগালি করেন, তাতে মনে হয় না, আওয়ামী লীগ সরকার যদি ফ্যাসিস্ট সরকারই হতো, তা হলে তিনি এভাবে কথা বলতে সাহস করতেন না। এই সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলকে তিনি আদালতকক্ষে বসে 'বাস্টার্ড' গালি দিয়ে পার পেয়ে গেছেন।
আবারও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কথায় আসি। তিনি অশোভন কথাবার্তা বলেননি; তবে ড. কামালের মতোই আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিস্ট সরকার বলে আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ একজন ডান নেতা, অন্যজন বাম নেতা- দু'জনেই আওয়ামী লীগ সরকারকে 'ফ্যাসিস্ট সরকার' বলে সহমত পোষণ করেন। দু'জনই আওয়ামী লীগ সরকারকে উচ্ছেদের ডাক দিয়েছেন। আমার পাঠকেরা যদি এতে বিস্মিত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের জানাব- ডান ও বামের এই কণ্ঠবদলের কারণ রাজনীতি নয়, দু'জনারই আওয়ামী লীগ তথা হাসিনার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণ।

ড. কামালের আওয়ামী লীগ ফোবিয়ার কারণ আগেই উল্লেখ করেছি। এবার সেলিমের এই বিদ্বেষ পোষণের কারণটা জানার চেষ্টা করতে পারি। তার আগে তিনি ঢাকায় বাসদের (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় কী বলেছেন, তার দিকে একবার নজর দেওয়া যাক। তিনি বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ কার্যত একদলীয় আধিপত্যের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করে বসে আছে। যে কোনো সময় রাজনীতিতে একটা ভারসাম্য থাকে। বিদেশি শক্তি-দেশি শক্তি মিলিয়ে-ঝিলিয়ে এক ধরনের স্থিতাবস্থা ছিল। অতিসম্প্রতি আমি স্পষ্ট দেখছি, স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার এখনই সঠিক সময়। এখন তার দলের প্রধান কাজ, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা।' তিনি বাম দলগুলোর কাছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের শাসন থেকে উচ্ছেদের ডাক দেন। তিনি বলেন, 'বামপন্থি দলগুলোর লক্ষ্য এক; তাহলে তারা কেন এক হতে পারছে না?' সেলিমের ধারণা, আওয়ামী লীগ সরকারের এটাই সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্ত। এখনই এই সরকারকে আঘাত করার প্রকৃষ্ট সময়। নইলে আর বেশি সময় পাওয়া যাবে না।

সেলিমের এই বক্তব্য শুনে রাশেদ খান মেননের সতর্কবাণী মনে পড়েছে। তিনি বলেছেন, 'ডান আর তথাকথিত বামেরা একজোট হয়ে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ওপর আঘাত হানার চক্রান্ত করছে। সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই এই আঘাত হানার প্রস্তুতি চলছে।' ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক রাজপথে নামার ডাক এবং সেলিমের 'আওয়ামী লীগকে আঘাত হানার এটাই প্রকৃষ্ট সময়' বলা ওই দুইয়ের মধ্যে কোনো প্রচ্ছন্ন সম্পর্ক আছে কি?

মনে হয়, দু'জন নেতারই আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষ মাত্রা ছাড়িয়েছে। কোনো ধরনের আন্দোলন ও জনগণকে সঙ্গে নেওয়ার কথা না বলে সেলিম সরকারকে আঘাত হানার এটাই সঠিক সময় বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার অর্থ কী? রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়া সরকার উচ্ছেদ করা যায় চক্রান্ত দ্বারা। ড. কামালের মতো ডেসপারেট হয়ে সেলিম কি সেই চক্রান্ত দ্বারা সরকার উচ্ছেদ করতে চান? কথাটা তিনি খোলসা করে বলেননি। তবে এই চক্রান্ত সফল করতে চাইলেও তিনি পারবেন না। তিনি মনে করেন, 'দেশের সব বাম দলের লক্ষ্য এক। না, তার দাবিটি সঠিক নয়। তিনি যে সভাতে আওয়ামী সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের ডাক দিয়েছেন, সেই সভাতেই অন্য একটি বাম দলের নেতা টিপু বিশ্বাস বিএনপির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টার সমালোচনা করেন এবং বলেন, সরকার পরিবর্তন আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য।'

টিপু বিশ্বাস বামদের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সঠিক কথাই বলেছেন। সেলিম বামদের এই মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে ডানদের কাতারে নেমেছেন। কারণ একটাই, ডানপন্থি কামালের মতো তিনি বামপন্থি হয়ে একই আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষ ও হাসিনা-ফোবিয়ায় ভুগছেন। সেলিমের এই আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষের কারণ জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭২ সালের একটি রক্তাক্ত ঘটনায়। তখন থেকেই এই বিদ্বেষের শুরু।

[শেষাংশ আগামী সপ্তাহে]
লন্ডন, ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, ২০২০