বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে এ দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতিবিদদের পরাজয় ঘটেছিল। কিন্তু পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়েই দেশকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ দাবি উচ্চারণ করতে পারবে। দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা আছে শুধু কাগজ-কলমে। সাম্প্রদায়িতকতার বিস্তার ঘটেছে গোটা রাষ্ট্র ও সমাজে।

শনিবার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও তার পরিণাম’ শীর্ষক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে। 

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু প্রথম বক্তৃতায় বলেছিলেন, দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি করেছিলেন। জিয়া, এরশাদ, খালেদা-নিজামির সময় পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজে এমনভাবে বিস্তৃতি ঘটিয়েছে যে, জামায়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে ‘ব্লাসফেমি আইন’ প্রণয়নের দাবির দুঃসাহস দেখায়। 

মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িকতাই দুর্নীতি, বৈষম্য ও শোষণমুক্তির লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাম্প্রতিক শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। জিয়া-এরশাদ-খালেদা এবং বর্তমান আমলেও ধর্ম নিয়ে রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মসভা ও ইউটিউবে ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচার করা হচ্ছে। তারই ফলশ্রুতি এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মূল বিষয় বাদ দিয়ে দোষারোপের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হতে হলে তার আবশ্যিক ভিত্তি হতে হবে অসাম্প্রদায়িকতা- স্বাধীনতার ৫০ বছরে এটাই হোক সবার প্রত্যয়।

সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ওয়ার্কার্স পার্টির অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুন হাসান মানিক, জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান, শাহজাহান তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ফিরোজ, গোলাম হোসেন, ফাইজুল হক ফারাহিন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নীলু।