খুলনা থেকে ১২ শতাধিক গাড়িতে করে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধলাখ নেতাকর্মী। মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রূপসা সেতুর টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে যায় এসব গাড়ির বহর।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ সমকালকে জানান, নগরীর পাঁচটি থানা থেকে প্রায় ৫০০ গাড়িতে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে যান।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী জানান, জেলার ৯ উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০০ বাস এবং ২০০ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও জিপে করে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে অংশ নিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে শহীদ হাদিস পার্ক পর্যন্ত আনন্দ র‌্যালি করা হয়। র‌্যালিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া, মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি ডা. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনায় বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জাতীয় অনুষ্ঠানমালা খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে খুলনায় নানা রঙের বেলুন উড়িয়ে মুহুর্তটি উদযাপন করা হয়।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ: মহিদ উদ্দিন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনা শহর ও স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা রঙিন পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সরকারি-বেসরকারি ভবনে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার ও স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে এলইডি স্ক্রিনে পদ্মা সেতুকে উপজীব্য করে নির্মিত বিশেষ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকাল ৪ টায় জেলা স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যান্ড দল ‘চিরকুট’ এবং ‘বাউল’ এর সংগীত পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যায় সেখানে ছিল আতশবাজি এবং লেজার-শো।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টায় সরাসরি সম্প্রচারিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুসসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর উপাচার্য সবাইকে মিষ্টি খাওয়ান।