ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

সন্ত্রাসীর জামিনে মুক্তি উদ্বেগজনক

সন্ত্রাসীর জামিনে মুক্তি উদ্বেগজনক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

তেজগাঁওয়ের ব্যস্ত সড়কে সোমবার রাত্রে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুনকে লক্ষ্য করিয়া প্রতিপক্ষ সানজিদুল ইসলাম ইমন বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ রাজধানীর সন্ত্রাসমণ্ডিত সেই সকল দিনের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছে। একদা ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে বিচিত্র নামের সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণহানি ও রক্তপাত লাগিয়াই থাকিত।

সোমবার নূতন করিয়া পাদপ্রদীপে আসা দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর গড়িয়া তোলা ইমন-মামুন বাহিনীও একদা ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁওয়ের আতঙ্ক ছিল। ঐদিন যেই প্রকারে দুই পথচারী গুলিবিদ্ধ; প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে পড়িয়া নিরীহ অনেকে প্রাণ হারাইতেন। ২৬ বৎসর পর মামুন সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাইয়াছে। ইমন বর্তমানে কারান্তরীণ থাকিলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে থামিয়া নাই, সোমবার পুনর্বার প্রমাণ হইল। আমাদের প্রশ্ন, বিভীষিকাময় দিনগুলি ফিরাইয়া আনা হইতেছে কাহাদের স্বার্থে?

শুধু মামুন নহে; সাম্প্রতিককালে সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাইবার হার যে বাড়িয়া গিয়াছে; সতর্কতার সহিত দৃষ্টি রাখিলেই বোঝা যাইবে। যেমন তেজগাঁওয়ে দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির দিনেই সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুও জামিন পাইয়াছে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রকাশ্য সড়কে সাংবাদিক হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীও যখন তিন মাসের মধ্যে জামিন পায়; প্রশ্ন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এমনকি কুমিল্লার যুবলীগ নেতা জামাল হত্যা মামলার আসামি সোহেল সিকদারও চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জামিন আদেশের দিনই যেই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মুক্তি পাইয়াছিল, খোদ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি উহা লইয়া প্রশ্ন তুলিয়াছেন।

বস্তুত চলতি বৎসরের প্রথমদিকে সহযোগী একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়াছিল, উক্ত সময় পর্যন্ত কয়েক মাসে অন্তত ৫০ জন শীর্ষ ও মাঝারি সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পাইয়া ‘আত্মগোপন’ করিয়াছে। এই আশঙ্কা অমূলক হইতে পারে না; ‘প্রয়োজন’ হইলে তাহারা আত্মপ্রকাশ করিবে এবং নাগরিকের জানমাল ঝুঁকিগ্রস্ত করিয়া তুলিবে। নির্বাচনের পূর্বে সন্ত্রাসীদের জামিন পাইবার হার বৃদ্ধির নজির নূতন নহে।

সাম্প্রতিক জামিনগুলির সহিতও সেই পরম্পরা রহিয়াছে কিনা খতাইয়া দেখা জরুরি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তো বটেই, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও এই চিত্র উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন

×