ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

আইএমএফের ঋণের বিকল্প আছে কি?

আইএমএফের ঋণের বিকল্প আছে কি?

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি প্রাপ্তিবিষয়ক সংশয় দেখা দিয়াছে। ইহার উৎপত্তি খোদ সরকারের অভ্যন্তরেই বলিয়া জানাইয়াছে বুধবারের সমকাল।

আইএমএফের ঋণপ্রাপ্তির সকল শর্ত পূরণ হয় নাই বলিয়াই এই উদ্বেগের উদ্ভব। আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে তদারকি কাজে গঠিত সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এইরূপ আশঙ্কার কথা সরকারকে জানাইয়াছে।

আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাইবার প্রধান দুটি শর্ত হইল বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ ঋণযোগ্যতার উপযুক্ত হওয়া এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করিতে পারা। আইএমএফের দেয় শর্ত অনুযায়ী গত জুন মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকার দরকার ছিল ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। অথচ তাহা ছিল ২০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঘাটতির পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। শুধু তাহাই নহে, শর্ত অনুযায়ী এই বৎসরের ডিসেম্বরে রিজার্ভকে অবশ্যই ২৬ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করিতে হইবে।

এইদিকে রপ্তানি আয় অপেক্ষা আমদানি ব্যয় অধিক; প্রবাসী আয় হুন্ডির সুড়ঙ্গ দিয়া সরকারকে ফাঁকি দিয়া চলিতেছে; দেশে সরকার নির্ধারিত দরে ডলার ক্রয়-বিক্রয় বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য দেখাইতেছে। নেতিবাচক প্রবণতারই জোর যেথা বেশি, সরকারের আর্থিক খাত সংস্কারের ফল সেথায় অতীব কমজোরি। এহেন পরিস্থিতিতে জাদুবলে রিজার্ভ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উঠিয়া আসিবে বলিয়া ভাবিবার কারণ নাই।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, শিল্পোৎপাদন ও ব্যবসার পরিবেশ এমন নাই যে, রাজস্ব বাড়িতে পারিবে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করিতে পারে নাই এনবিআর। আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনা এইরূপ অকার্যকর থাকিল কেন– সেই প্রশ্ন তো স্বাভাবিকভাবেই উঠিবে।

অধিকন্তু জ্বালানি খাতে আমরা যেই মাত্রায় বিদেশনির্ভর হইয়াছি; ডলারের শ্রাদ্ধ করিবার ব্যবস্থা করিয়াছি; এই সকল ক্রিয়ার পরিণাম হইল অদ্যকার এই অবস্থা। অর্থনীতির সংকট ভূমিকম্পের মতো আসে না; বন্যার পানির মতো তাহা ধীরে ধীরে বাড়ে। দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায় এই সংকট মাথা তুলিয়াছে। অথচ তাহা মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনার কোনোরূপ দূরদর্শিতা কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় নাই।

অথচ এই রকম মূল্যস্ফীতির সমস্যায় যখন মানুষ জর্জরিত, তখন সরকারের তরফে পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত এবং দারিদ্র্যে নিপতিত মানুষের সহায়তায় সরকারি কর্মসূচি থাকা দরকার ছিল। কিন্তু দেখা যাইতেছে, ঋণের ভারে সরকার নিজেই নিমজ্জিত। আয় সংস্থানের পথও সংকুচিত হইয়া আসিতেছে। এই অবস্থায় জনগণের সহায়তায় সরকার আসিতে পারিতেছে কোথায়? অথচ বারবার বলা হইতেছিল, বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মাধ্যমে মুদ্রা পাচার বন্ধে কঠোর হউন। সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতা আনুন।

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হইয়া আসিয়াছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি লইয়া যুক্তরাষ্ট্র উত্তরোত্তর কঠোর অবস্থান গ্রহণ করিতেছে। সেই যুক্তরাষ্ট্রই আবার আইএমএফের ২৬ শতাংশ ভোটের মালিক। কোনো দেশকে ঋণ পাইতে হইলে মোট ৭৫ শতাংশ ভোট পাইতে হয়। আমেরিকার ভোট ছাড়া তাহা ভয়াবহ কঠিন। এ অবস্থায় সরকারকে সকল দিক হিসাব করিয়া পদক্ষেপ লইতে হইবে।

আরও পড়ুন

×