বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় সবচেয়ে বিপদে পড়া প্রান্তিক মানুষকে রক্ষা করায়। প্রথমেই বেশি বেশি টেস্ট করার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। করোনা ছড়িয়ে পড়ছে এমন এলাকাগুলোতে টেস্ট করতে হবে। এসব এলাকা চিহ্নিত করার জন্য সাম্প্রতিক আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যা এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যার মতো 'প্রক্সি ভ্যারিয়েবল' ব্যবহার করা যেতে পারে। মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এমন এনজিওগুলো এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এ লক্ষ্য অর্জন খুবই সম্ভব। ইতোমধ্যেই জেকেজি হেলথ কেয়ার নামে একটি এনজিও সাউথ কোরিয়ান মডেল অনুসরণ করে প্রায় অর্ধশত করোনা টেস্টিং কিয়স্ক বসিয়েছে। অবশ্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগগুলোর ওপর জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় একেবারে সামনে থেকে যারা যুদ্ধ করছেন, সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক কিছু জটিলতা হলেও এখন আমরা একটি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছি। করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উন্নত করা গেছে। সত্যি বলতে, আমাদের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়ার এখনই সময়। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী নববর্ষের বক্তৃতায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ যারা জরুরি সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন এবং সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আশার কথা যে, সরকার করোনা মোকাবিলায় সম্পৃক্ত ডাক্তার ও নার্সদের থাকা-খাওয়ার জন্য বিভিন্ন হোটেলের ৫৮০টি কক্ষ বুক করেছে। এটি খুবই উত্তম উদ্যোগ।
আংশিক লকডাউনে বিপাকে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্দশা লাঘবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে। ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রয়ও চলছে। প্রধানমন্ত্রী তার নববর্ষের ভাষণেই জানিয়েছেন, কাজ হারানো নগরের বিপন্ন মানুষের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ পাঠানোর জন্য ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই মোবাইল ব্যাংক হিসাবেও এই অর্থ যাবে। তা ছাড়া বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল ব্যাপক আকারে বাড়ানো হয়েছে। আরও ৫০ লাখ নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করা হবে।
মানতেই হবে, এ উদ্যোগগুলো অল্প সময়ের মধ্যে না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারত। এসবের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা ছোট-বড় সব উদ্যোক্তার মনে আশার সঞ্চার করেছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধানতম দুই উৎস- গার্মেন্ট এবং রেমিট্যান্স এখন একরকম বন্ধ রয়েছে। এ সময় উদ্যোগগুলো অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়ক হবে। এসবই কার্যকর হবে এই স্বাস্থ্য সংকট কেটে যাওয়ার পর যখন অর্থনীতির পুনরুত্থান শুরু হবে। এখন সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন জীবন ও জীবিকা রক্ষার দিকে। যেমন : ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গ্রামের মানুষের আয় (নেট ইনকাম) ৮০ শতাংশ কমে গেছে, শহরে কমেছে ৬৯ শতাংশ। গ্রামের আয় এতটা কমে যাওয়ার পেছনে কারণ হলো ডেইরি, সবজি, ফলমূল ইত্যাদির চাহিদা বাজারে না থাকায় এগুলো এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে রাখা দরকার সচল কৃষিই এ দেশের অর্থনীতির মূল রক্ষাকবচ। সরকারও কৃষি খাতকে রক্ষার সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী কৃষির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কৃষকরা ঋণ পাবেন মাত্র ৪ শতাংশ সুদে। এই সময়োচিত পদক্ষেপ একদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখবে, অন্যদিকে দুর্যোগ ও তার পরবর্তী সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। এটি প্রাথমিক বরাদ্দ। নিশ্চয় প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সরকার এই অঙ্ক আরও কয়েকগুণ বাড়াবে। বুভুক্ষা থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী যে সামান্য দ্বিধা করবেন না, সেটি নিঃসংকোচে বলতে পারি। '৯৮-এর বন্যার সময় দেখেছি, তিনি একজন মানুষকেও না খেয়ে মরতে দেননি। তবে সমাজের বিত্তবানদেরও আরও প্রবলভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পক্ষে একা এত বড় দায় নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং বৈকি। সবাই মিলে বিপন্ন মানুষদের বাঁচাতে হবে।
সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো যথাযথই বলতে হবে। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর বিচারে আমাদের অর্থনীতি বেশ খানিকটা হুমকির মুখেই আছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ অনুসারে কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই এ বছর প্রবৃদ্ধি দুই-তিন শতাংশের বেশি হবে না বলা হয়েছে। তবে আমার ধারণা- যদি এই দুর্যোগ আর খুব বেশি দীর্ঘায়িত না হয় এবং যদি সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে আমাদের প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে অনেক বেশি হবে। আমরা অতীতেও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছি। কৃষি খাতসহ 'রিয়েল ইকোনমি'তে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বজায় রাখার মাধ্যমে আমরা মন্দার মুখেও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে পেরেছি। এবারও কৃষি খাতের দিকে সরকার যে মনোযোগ দিচ্ছে তা আমাদের মনে আশা জাগাচ্ছে। কৃষি একাই ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিতে পারে। এসএমই দিতে পারে আরও ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় প্রবৃদ্ধি একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থানেই থাকবে। এ নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
অনেকে প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে বাজারে টাকার সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ম্ফীতি নিয়ে ভাবিত হলেও আমি মনে করি, এসবের পরও মুদ্রাস্টম্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। কারণ আমাদের আমদানি এখন নেই বললেই চলে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও বহুলাংশে কমেছে। তা ছাড়া পণ্য ও সেবা মোটেও সচল নয়। বরং সরকার চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি আরও এক শতাংশের বেশি বাড়াতে পারে (কয়েক অর্থবছর ধরে আমাদের বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচেই আছে)। এ ছাড়াও আগামীতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এডিবির মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা ও দুর্যোগ সামাল দেওয়ার সক্ষমতার কারণেই তারা এ ঋণ দিতে চাইবে। আমাদের ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনও ৩০-এর কোঠায়। কাজেই দেখা যাচ্ছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা সরকারের আছে। ফলে আরও উদ্ভাবনী কর্মসূচি নেওয়া যেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারি এবং বে-সরকারি খাতের ভেতর গভীর সংযোগ ও সমন্বয় খুবই জরুরি।
নগদ সহায়তা বিশেষভাবে উপকৃত করবে কৃষকদের। নগদ অর্থ না থাকলে মাঠে থাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে না তারা। তবে অর্থ থাকার পরও কৃষি শ্রমিকের সংকট তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাশ্রমের সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কৃষককে ধান ঘরে তুলতে সহায়তা করা যেতে পারে এবং এমনটি কোথাও কোথাও লক্ষ্য করা গেছে। কৃষক যেন ফসল বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্য পায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আগামীতে খাদ্য সংকটে পড়তে পারে পুরো দেশ। কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এখনই তাদের কাছ থেকে ফসল কেনার উদ্যোগ নিতে পারে সরকার। দরকারে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই মূল্য পরিশোধ করা যেতে পারে। কৃষক পরবর্তী সময় সরকারকে তার উৎপাদিত ফসল সরবরাহ করতে পারে। পরবর্তী মৌসুমের বিশেষ করে আউশ ও আমন চাষের জন্য বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ যেন কৃষক সুলভে পায়, সে জন্য তাদের কাছে নগদ সহায়তা পৌঁছানো খুবই জরুরি। প্রয়োজনে এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পাশের দেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।
নগদ সহায়তাসহ কৃষকদের জন্য যে কোনো কর্মসূচিতে চর ও হাওরে রয়েছে এমন কৃষিনির্ভর পরিববারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা মানুষ স্বাভাবিক সময়েই বিভিন্ন সেবা তুলনামূলক অনেক কম পেয়ে থাকে। চলমান আংশিক লকডাউনে তাদের অবস্থা আরও সঙ্গিন হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ছাড়াও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে তাদের কাছে যে কোনো রকমের সহায়তা পৌঁছানোও তুলনামূলক বেশি কঠিন। তাই চর ও হাওরের প্রান্তিক পরিবারগুলো এ সময়ে বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহর বা গ্রামে যে কোনো স্থানেই নগদ সহায়তা পৌঁছানো এখন আর বড় চ্যালেঞ্জ নয়। এর পেছনে দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমত নির্বাচন কমিশন দেশের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে একটি এনআইডি নম্বর দিতে পেরেছে এবং একটি ডাটাবেজে তাদের তথ্য সংরক্ষণ করতে পেরেছে। দ্বিতীয়ত, দেশের ২ কোটির বেশি নিম্ন আয়ের নাগরিকের (যার অর্ধেকই কৃষক) এখন একটি নো-ফ্রিল ব্যাংক হিসাব রয়েছে আর রয়েছে প্রায় ৭ কোটি এমএফএস অ্যাকাউন্ট। এ ছাড়াও রয়েছে আরও কয়েক লাখ এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব। এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে এসব অ্যাকাউন্টে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নগদ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। ইতোমধ্যে এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাছে তাদের কয়েক মাসের বেতন পৌঁছানোর প্রশংসনীয় উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। বাকিদের জন্যও এমন উদ্যোগ নেওয়া খুবই সম্ভব। ইতোমধ্যে ব্র্যাক পার্বত্য চট্টগ্রামের
প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৫ হাজার পরিবারকে মোবাইল এবং অন্যান্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নগদ সহায়তা পৌঁছানের কর্মসূচি নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ওই পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে।
সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি খাত, সামাজিক সংগঠন, এনজিও, এমনকি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যেই এগিয়ে এসেছে। একইভাবে সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে নগদ সহায়তা কার্যক্রমকেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে কাদের কাছে এই সহায়তা সর্বাগ্রে পৌঁছানো দরকার তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সরকারকে বাকিরা সহায়তা করলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা যাবে। ইতোমধ্যে ব্র্যাক দরিদ্রদের অবস্থান চিহ্নিত করে একটি ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করতে শুরু করেছে। বাকিরাও এগিয়ে এলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও ত্বরান্বিত হবে। মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ভূমিকা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাঝেই ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিক একটি হাঙ্গার হটলাইন চালু করেছেন। যে কেউ টেলিফোন করলে তাকে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানও এ পথ অনুসরণ করতে পারে। সবার সম্মিলিত এবং সুসমন্বিত উদ্যোগে এই দুর্যোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা খুবই দরকার। আমরা তা পারব বলেই বিশ্বাস করি। কারণ আমাদের ইতিহাস হলো সংঘবদ্ধ মানুষের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে জেতার ইতিহাস।
dratiur@gmail.com
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর