আগেই বলে রাখি এটি কোনো গল্প নয়, স্পেনের এক শহরে ঘটনাটি ঘটেছে এবং খবরটি স্পেনের কাগজে তো বটেই, লন্ডনের কাগজেও বেরিয়েছে। আমি শুধু তাকে গল্পের রূপ দিয়েছি। স্পেনের রাজধানীর প্রায় শ'খানেক মাইল দূরে এক শহরে করোনাভাইরাসের হামলায় শহর প্রায় জনশূন্য। দশ সদস্যের একটি পরিবারে সবাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত। মাত্র তিন সদস্য বেঁচে আছেন। ৮০ বছর বয়সের দাদু, তার আট বছর বয়স্ক নাতি ও বালকের চল্লিশ বছর বয়স্ক পিতা।

শহরটিতে মহামারির তাণ্ডব এতটাই যে, মৃতদেহ কবরস্থ করার পর্যন্ত লোক ছিল না। তখন শহরের রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এই অবস্থা দেখে শোকার্ত স্পেনীয় পরিবারের আট বছরের নাতি তার দাদুকে জিজ্ঞাসা করল- দাদু, পৃথিবীতে কি আর মানুষ বেঁচে থাকবে না? পরিবারের আর সব সদস্যের মৃত্যুতে দাদু তখন শোকে সন্তপ্ত। তিনি বললেন- না, কোনো মানুষ বাঁচবে না। নাতি ফের জিজ্ঞাসা করল- দাদু, আমরাও কি বাঁচব না? দাদু বললেন- না, আমরাও বাঁচব না। দেখতে পাচ্ছিস না সবাই চলে গেছে। আমরাও যাব।

বালক ভয়ে কেঁদে উঠল, পাশে বসা ছিল তার যুবক বাবা। সে প্রায় চিৎকার করে বলে উঠল- 'হ্যাঁ, আমরাও মরে যাব। পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। হাজার হাজার মহাপুরুষ এসেছেন বিশ্বে। তারা মানুষকে বলেছেন, তোমরা দানব হয়ো না, মানব হও। মানব সভ্যতাও গত দুই হাজার বছরে শীর্ষে পৌঁছেছে। তবু মানুষ মানুষ হয়নি। এখনও তারা প্রস্তর যুগের মানুষের মতো পরস্পরকে হত্যার জন্য সেকালের অস্ত্র নয়, মারণাস্ত্র বানায়। সভ্যতা ধ্বংস করে। নারী-শিশুদের ওপর অত্যাচার চালায়। মানুষ দাবি করে সে সভ্য হয়েছে। কিন্তু চরিত্রে সে বন্যজন্তুই রয়ে গেছে। এদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। প্রকৃতির উচিত গোটা মানব জাতিকেই ধ্বংস করে দেওয়া।'

স্পেনেরএকটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের বালক তার বুড়ো দাদুকে জিজ্ঞাসা করেছে, আমরা মারা গেলে পৃথিবী তো আর ধ্বংস হবে না। এই চাঁদ-তারা, ফল-ফুল-পাখি সবই থাকবে। তখন পৃথিবীতে কারা থাকবে দাদু? দাদু বললেন- কেন, তোদের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে পড়িসনি, পৃথিবীতে যখন মানুষ ছিল না, তখন ডাইনোসর নামের এক অতিকায় প্রাণীর রাজত্ব ছিল। তারপর আরও কত প্রাণী এসেছে পৃথিবীতে, শেষ পর্যন্ত উন্নত প্রাণী হিসেবে মানুষ এসেছে।

বালকের পিতা বক্রস্বরে বলল, মানুষ উন্নত প্রাণী? বাবা, তুমি বলছ কী? মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে অসভ্য প্রাণী। এদের অসভ্যতার কোনো সীমা নেই। দাদু আর বাবাকে কথা বলতে দেখে বালক এক ফাঁকে জিজ্ঞাসা করেছে, আমরা চলে যাওয়ার পর পৃথিবীতে কারা আসবে দাদু? দাদু বলেছেন, হয়তো মানুষের চেয়ে উন্নত কোনো প্রাণী! তারা মানুষের মতো অসভ্য হবে না। নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করার জন্য মারণাস্ত্র বানাবে না।

কভিড-১৯-এর হামলায় আজ যখন মানবসমাজ ও মানবসভ্যতা বিপন্ন, তখন এর কারণ সম্পর্কে একটি একেবারে সাধারণ স্পেনীয় পরিবার যে কথা আলোচনা করেছিল, সেই একই কথা শোনা যাচ্ছে বিশ্বের সেরা ভাইরোলজিস্ট শি জেঙ্গেলির কণ্ঠে। তিনি চীনের জীবাণু সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। প্রথমে তিনি ভয় পেয়েছিলেন, চীনের উহানের ল্যাব থেকেই এই ভাইরাস-দানব জন্ম নিয়েছে। পরে দীর্ঘ তদন্ত করে যখন দেখেছেন, চীনের ল্যাব থেকে এই দানব তৈরি হয়নি, তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিশ্ব মহামারি তাহলে কোথা থেকে এসেছে? শি জেঙ্গেলি বলেছেন, 'I swear on my life that it has nothing to do with our labarotory’ (Sunday Times, April 19, 2020)' 'আমি শপথ করে বলছি, আমাদের ল্যাবরেটরির (উহান) সঙ্গে এই ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই।' একই তারিখের সানডে টাইমস আরও জানিয়েছে, পিটার ডেস জ্যাক নামে আরেক বিজ্ঞানী, তিনি আমেরিকার বিখ্যাত গবেষণাগার ইকো হেলথ অ্যালায়েন্স নামক রিসার্চ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, তিনিও শি জেঙ্গেলির সঙ্গে দীর্ঘকাল গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চীনের কোনো ল্যাব থেকে এই ভাইরাসের জন্ম হয়নি। তাহলে আমেরিকাই কি এই দানবের সূতিকাগার? এই প্রশ্নেরও জবাব কেউ দেননি।

শি জেঙ্গলি বা পিটার ডেস জ্যাক দু'জনই মতপ্রকাশ করেছেন, প্রকৃতিই মানুষকে তাদের অসভ্যতার জন্য এই শাস্তি পাঠিয়েছে। তারা বলেছেন,‘The novel 2019 coronavirus is nature punishing the human race for keeping uncivilised living habits’ (Sunday Times, April 19, 2020)'  'মানুষ যেহেতু অসভ্য জীবনযাপন করছে, এটা সে জন্য প্রকৃতির শাস্তি।' মানুষকে প্রকৃতি শাস্তি দিচ্ছে তাদের নিজেদের অপরাধের জন্য। বিশ্বের দু'জন শ্রেষ্ঠ ভাইরোলজিস্টের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করি কীভাবে?

তবে সবিনয়ে এ কথা বলতে হয়, মানুষ যে সভ্যতার শীর্ষে পৌঁছেও অসভ্য জীবনযাপন করছে, তার জন্য বিজ্ঞানীরাই বেশি দায়ী। তারা জানতেন আদিম মানুষ গাছ কাটা, পাথর কাটা শিখেছে ঘরবাড়ি বানানোর জন্য। শিকার ধরে অন্নের সংস্থান করার জন্য। আগুন জ্বালানো শিখেছিল আলো ও উত্তাপ পাওয়ার জন্য। বিজ্ঞানীরাই মানুষকে শেখালেন কী করে পাথর দিয়ে অস্ত্র বানিয়ে কী করে তা দিয়ে মানুষ হত্যা করতে হয়। আগুন দিয়ে অন্যের ঘর পোড়াতে হয়।

এ যুগেও একদল বিজ্ঞানী আণবিক শক্তি আবিস্কার করেছিলেন মানুষের কল্যাণের জন্য। আরেক দল বিজ্ঞানী তা দিয়ে বোমা-মিসাইল-মারণাস্ত্র বানিয়ে বিশ্বের ক্যাপিটালিস্ট নেতাদের হাতে তুলে দিলেন মানুষ হত্যার জন্য এবং এখনও সে কাজটি তারা করে চলেছেন। ভয়াবহ জীবাণু অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় এখনও মেতে আছে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীনসহ বড় দেশগুলো। এই জীবাণু-অস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে কোনো দেশের ল্যাবরেটরি থেকে এই দানবটি মুক্তি পায়নি, তা কে বলবে। চীনা ভাইরোলজিস্ট শপথ করে বলেছেন, তাদের উহান ল্যাবরেটরি থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু তাদের অন্য ল্যাবরেটরি বা অন্য দেশের ল্যাবরেটরি তা ছড়ায়নি তা কে বলবে?

মানুষ যত সভ্য হচ্ছে, ততই তার লোভ, হিংস্রতা, অসভ্যতা বাড়ছে। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ক্রমাগত পরীক্ষায় পৃথিবীর জলবায়ু, আবহাওয়া দারুণভাবে বিষাক্ত হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং একদিন তা গোটা মানবসমাজের জন্য ধ্বংসের কারণ হবে, এ কথা প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা বারবার বলছেন। কিন্তু পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলো- বিশেষ করে আমেরিকা এই সতর্ক বাণী শুনতে নারাজ। ইদানীং প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের গভীরতা কমে গিয়ে বিশ্বে উষ্ণতা বাড়ছে। এই উষ্ণতা বাড়ার দরুন হিমালয়ে সঞ্চিত বিশাল বরফ গলে গিয়ে এমনভাবে সমতলে নেমে আসবে যে, তাতে বিশ্বব্যাপী মহাপ্লাবনে বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। একদল বিজ্ঞানী এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন, আরেক দল বিজ্ঞানী বিশ্বের জলবায়ু দূষিতকরণের কাজে সাহায্য জুগিয়ে চলেছেন। সে জন্যই বলতে হয়, প্রকৃতি যদি সত্যই মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষান্ত দিতে চায়, তাহলে সমগ্র মানবসমাজকে সেই শাস্তি না দিয়ে প্রথমে এই মানবতাধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরির বিজ্ঞানীদের এবং তারপর ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং, নেতানিয়াহু, মোদি, পুতিন প্রমুখ বড় রাষ্ট্রের নেতাদের এই শাস্তি হওয়া উচিত।

স্পেনের সেই বালকের কথায় ফিরে আসি। সে তার দাদুর কাছে জানতে চেয়েছিল, ডাইনোসরের মতো যদি মনুষ্য সমাজও করোনার আবির্ভাবে পৃথিবী থেকে লোপ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অধিকারী কারা হবে? এই বালক মনের প্রশ্নটি এখন পৃথিবীর অনেক বয়স্ক মনেরও। সারাদিন গৃহবন্দি থাকি, তাই সময় কাটানোর জন্য হাতের কাছে যা পাই পড়ি, ইন্টারনেটেও অনেক সময় কাটাই। কয়েকদিন আগে সুইডেনের এক সমাজবিজ্ঞানীর একটি লেখা চোখে পড়ল, তাতে ভবিষ্যতের মানবসমাজের একটি ছবি তিনি এঁকেছেন।

এই সমাজবিজ্ঞানীর মতে, এই করোনাভাইরাস মনুষ্যসৃষ্ট, বিষাক্ত জীবাণু অস্ত্র তৈরির পরীক্ষা থেকেই এ ভাইরাসের উদ্ভব। পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষাগার অথবা বৃহৎ রাষ্ট্রের ফেলে দেওয়া আণবিক বর্জ্য থেকেও এই ভাইরাস জন্ম নিতে পারে। এখন সাবধান না হলে অদূর ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভয়ানক ভাইরাসের জন্ম ও বিস্তার ঘটতে পারে।

এই সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানী একটি আশার বাণীও শুনিয়েছেন। তার মতে, কভিড-১৯ বিশ্বের মানবসমাজ ধ্বংস করতে পারবে না। আগামী জুলাই মাস থেকে এর পিকআওয়ার শেষ হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাপান অথবা সুইডেনের বিজ্ঞানীরা করোনার প্রতিষেধক তৈরি করতে পারবেন।

করোনা-পরবর্তী পশ্চিমা সমাজ আয়তনে ছোট হবে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বাড়বে। অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য-অফিস-আদালত এমনকি স্কুল-কলেজও চলবে। পশ্চিমা দেশগুলো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যেমন এশিয়া-আফ্রিকা থেকে আসা বহিরাগতদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পূরণ করতে চেয়েছিল। করোনা-পরবর্তী যুগে তা তারা আরও বেশি করে চাইবে। আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ কমবে। ভারতে বিজেপি জনপ্রিয়তা হারাবে। এশিয়া-আফ্রিকার মানুষ অনেক ধর্মীয় কুসংস্কারমুক্ত হয়ে বিজ্ঞানমনস্ক হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে ভবিষ্যদ্বাণী এই সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানীর, তা হলো তিনি মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফুকিয়ামার ভবিষ্যদ্বাণী রদ করেছেন। ফুকিয়ামা বলেছেন, নয়া উদারতাবাদ বিশ্বে আরও শক্তিশালী হবে এবং সমাজবাদের মাথা তোলার সম্ভাবনা নেই। আর এই সমাজবিজ্ঞানী বলেছেন, করোনাভাইরাসের হামলার পর বিশ্বে যে ব্যাপক খাদ্যাভাব এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে তা পশ্চিমা ধনতন্ত্রবাদ সম্মিলিতভাবেও ঠেকাতে পারবে না। ইউরোপকে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর জন্য সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের পরিকল্পনায় ফিরে যেতে হবে। পূর্ব ও পশ্চিম দুই ইউরোপেই সোশ্যাল ডেমোক্রেসি আরও শক্তভাবে পুনর্জাগরিত হবে।

নিজের যুক্তির পক্ষে উদাহরণ টেনেছেন এই সুইডিশ সমাজবিদ। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ব্রিটেন জয়লাভ করেছিল চার্চিলের দক্ষ নেতৃত্বে। ১৯৪৫ সালে মহাযুদ্ধ শেষ হয় এবং সারা ব্রিটেনে ধ্বনি উঠেছিল, চার্চিল জাতির সেভিয়ার বা ত্রাণকর্তা। কিন্তু ওই বছরেই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ক্যাপিটালিজমে বিশ্বাসী চার্চিল বিরাটভাবে পরাজিত হন এবং সোশ্যালিস্ট এটলি নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করেন। ধনতন্ত্রে বিশ্বাসী চার্চিল যে জাতির ত্রাণকর্তা- এ কথা স্বীকার করে নিয়েও ব্রিটিশ জনগণ সোশ্যালিস্ট মন্ত্রিসভাকে ভোট দিয়েছে। তার কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে সমাজতান্ত্রিক নীতি আবশ্যক। ধনতান্ত্রিক পচনশীল ব্যবস্থা এই পুনর্গঠনে সক্ষম হবে না।

করোনা-পরবর্তী বিশ্ব সমাজ পুনর্গঠনেও ওবামার মাইল্ড ধনবাদী ওষুধ কোনো কাজে দেবে না। থ্যাচারিজম ও রেগানোমিকস অচল প্রমাণিত হবে। সোশ্যাল অর্থনীতির যত সীমাবদ্ধতা থাক, মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিকস যে কাজ করে, সমাজতান্ত্রিক কমান্ড অর্থনীতি সমাজদেহে সেই কাজ করবে। এশিয়া-আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ধনবাদী ও স্বেচ্ছাচারমূলক শাসনের অবসান সূচিত হবে এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেসির প্রসার ঘটবে। এই সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানী সাহস করে এমন ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন যে, আগামী দিনের পৃথিবীতে ট্রাম্প, মোদি, নেতানিয়াহু যুগের অবসান হবে এবং নিওকলোনিয়ালিজম থেকে প্যালেস্টাইন, কাশ্মীর, কুর্দি প্রভৃতি জাতি মুক্তি পাবে। মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফুকিয়ামার ভবিষ্যতের ধনতন্ত্র প্রভাবিত বিশ্ব সম্পর্কে বলেছেন, গ্লোবাল ক্যাপিটালিস্ট প্রচণ্ড ধাক্কা খাবে এবং শিগগিরই প্রমাণিত হবে আণবিক দাঁত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব ধনতন্ত্র আসলে কাগজের বাঘ।

সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানীর এই প্রেডিকশন কতটা সঠিক হবে জানি না। কিন্তু করোনা-উত্তর মানবসমাজ যে বেঁচে থাকবে এবং মানবতা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে- এই আশ্বাসে করোনা আতঙ্কে বন্দি মন নতুন মুক্তির আলোর আভা দেখছে। সুখবর ঝুট হলেও ভালো।

লন্ডন, ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার, ২০২০