ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কর্তব্য বুঝতে পারছে?

শিক্ষা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অব্যাহত সংগ্রামের ইতিহাস। লড়তে হয়েছে তাকে দুই ফ্রন্টে- একটি জ্ঞানের, অন্যটি সামাজিকতার। এই যুদ্ধটা সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। কিন্তু কম বিশ্ববিদ্যালয়কেই এই দ্বৈত কর্তব্য এমন মাত্রায় পালন করতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মাত্রেই জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য সংগ্রাম করে। এই জ্ঞান অর্জিত হয় সামাজিকভাবে। জ্ঞান চলে যায় সমাজে। মানুষের কাজে লাগে, উপকার হয়। সমাজ আবার বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণও করতে চায়। সম্পর্কটা একরৈখিক নয়, দ্বান্দ্বিক বটে।
আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলাতে লড়াইটা ছিল তীব্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশেই ছিল পরিবেশের ও পরিস্থিতির বৈরিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চ্যান্সেলর, বাংলার এক ইংরেজ গভর্নর, সমাবর্তনের এক অনুষ্ঠানে কৌতুক করে মন্তব্য করেছিলেন যে, ছাত্রদের যাকেই জিজ্ঞাসা করেন লক্ষ্য কী, বলে সার্ভিস। সার্ভিস অর্থ যদি সেবা হতো তাহলে তো ভালোই ছিল, কিন্তু সার্ভিস বলতে সেবা নয়, ছেলেমেয়েরা বোঝায় চাকরি। নিতান্ত মিথ্যা বলেননি।
সমাজ ছিল অনগ্রসর, অর্থনীতি অত্যন্ত পশ্চাৎপদ। ভারত সাম্রাজ্যের এক প্রান্তে বাংলা প্রদেশ, তারও প্রান্তে পূর্ববঙ্গ। ১৯২১ সালের আগে এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ঢাকা পূর্ববঙ্গের রাজধানী হয়েছিল; কিন্তু স্বল্পকালের জন্য। ১৯০৫-এ হয়েছে, ১৯১১-তে শেষ হয়ে গেছে। ইংরেজ শাসকরা বলেছিল ঢাকাকে একটা বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া গেল বঙ্গভঙ্গ রহিতকরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ আর কতটা দেবে, বিদেশি শাসকেরা সবটাই তো ছিল ক্ষতিকর। শত শত বছর ধরে বাংলার ধনসম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে, শাসকেরা যতটা সম্ভব নিয়ে গেছে নিজের দেশে। বাংলার নিঃস্বকরণ ঘটেছে। সেই দারিদ্র্যের মধ্যেই চালু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিমুখী সংগ্রাম। জ্ঞানের ও সামাজিকতার।
ছাত্ররা সমাজসেবা করুক এতে রাষ্ট্রের আপত্তি ছিল না। রাষ্ট্রের শাসকেরা খুশিই হতো ছাত্রদের ওই রকমের ব্যস্ততা দেখতে পেলে। কিন্তু যে ছেলেমেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে, নতুন জ্ঞান তো তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা দেখতে পেয়েছে সমাজসেবার আসল মানে কেবল বিপদ-আপদে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো নয়; দুর্গতি যাতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করা। সেটাই যথার্থ সমাজসেবা। সে জন্য সমাজকে বদলানো দরকার। সমাজকে পাহারা দেয় রাষ্ট্র। সমাজ পরিবর্তনে রাষ্ট্রের বিপদ ঘটে। ওই রকমের সমাজসেবাতে রাষ্ট্রের শাসকদের তাই ভয়ংকর আপত্তি। রাষ্ট্র চায় সমাজ যেমন আছে তেমনি থাকুক, অব্যাহত থাকুক শাসন-শোষণ। বিশ্ববিদ্যালয় বলে তা হবে না, তা হবে না; বদলাতে হবে, বদলাতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রের তাই দ্বন্দ্ব বেধেছে। সে দ্বন্দ্ব ব্রিটিশ আমলে ছিল, আজও আছে।
রাষ্ট্র যুদ্ধে নেমেছে, সমাজ তার মূল্য দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধরত সৈনিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাউনি পেতেছিল। তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি মর্মান্তিক ঘটনা যুদ্ধের কারণে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি। ১৯৪৩-এর সেই মন্বন্তরে বাংলার ত্রিশ লাখ নরনারী প্রাণ হারিয়েছে। সে ছিল এক গণহত্যা। তাতে সমাজ বিপর্যস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়েরও। ব্রিটিশ শাসকেরা আবার সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কানি দিত। ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই এক সম্প্রদায়ের ছাত্র আক্রমণ করেছে অন্য সম্প্রদায়ের সহপাঠীদের। হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটেছে। দাঙ্গার পরিণতি সাতচল্লিশের দেশভাগ। দেশভাগ পূর্ববঙ্গকে বিপর্যস্ত করল। অর্থনীতিতে ঘটেছিল রীতিমতো ছত্রভঙ্গ দশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিও মনে হয়েছিল অপূরণীয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষকরা একে একে চলে গেলেন, ছাত্রও চলে গেছে অনেক। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার এক পর্যায়ে দেখা দিয়েছে পাকিস্তানি রাষ্ট্রশক্তির বৈরিতা। শাসকেরা হরণ করতে চেয়েছে মানুষের নাগরিক অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদ করেছে। ১৯৬১-তে সামরিক শাসকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন যেটুকু ছিল তা কেড়ে নিয়েছে, ১৯৭১-এ গণহত্যার কালে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাদের আক্রমণের প্রথম লক্ষ্যবস্তু। বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে। প্রাণ দিয়েছে ছাত্র, প্রাণ দিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মচারী।
তারপর দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু স্বাধীন দেশেও এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে জ্ঞানের চর্চা করতে পারেনি। অপরিহার্য স্বায়ত্তশাসন নানাভাবে খর্বিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী থেকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। বারংবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
বৈরিতার এই পরিবেশের ভেতরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান যে কাজ- জ্ঞান আহরণ, জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান বিতরণ, সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। শিক্ষাদান চলেছে, শিক্ষকরা গবেষণা ও প্রকাশনা করেছেন। হ্যাঁ, কাজটা হয়তো সন্তোষজনক মাত্রার হয়নি, কিন্তু তার দায়-দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একার নয়, গোটা সমাজের।
বিশ্ববিদ্যালয় সমাজেরই অংশ, তবে সবচেয়ে অগ্রসর অংশ, তার কাজ তাই অগ্রসরতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া; সমাজপ্রগতির জন্য যে জ্ঞান অত্যাবশ্যক তা সরবরাহ করা। এই জ্ঞান উপকারী জ্ঞান। বিশ্ববিদ্যালয় গুদামঘর নয়, কারখানাও নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রবহমান নদী। বলা যায় বৃক্ষও। এই ভূমিতে বৃক্ষ প্রোথিত, কিন্তু সে আকাশমুখী। সমাজকে সে ছায়া দেয়, আশ্রয় দেয়, ফলও দিয়ে থাকে। ওদিকে আবার সমাজই ঠিক করে দিতে চায় এই বৃক্ষ কীভাবে বিকশিত হবে, কতটা উপকারী হবে।

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন সময় পালিত হচ্ছে, যখন আমরা আটক আছি ভয়াবহ এক অস্বাভাবিকতার ভেতরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেমন সমাজকে আক্রমণ করেছিল, এবার তেমনি এক আঘাত এসেছে করোনাভাইরাস থেকে। কেবল আমাদের সমাজকে নয়, সমগ্র বিশ্বকেই সে পর্যুদস্ত করতে চাইছে। এ এক বিশ্বযুদ্ধ, যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আবার দুটি বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়েছিল পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীরা, নিজেদের দখলদারিত্বের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এবারকার আক্রমণটি এলো গোটা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভেতর থেকেই। মানুষের সঙ্গে পুঁজিবাদের যে স্থায়ী শত্রুতা, তারই সর্বশেষ ও বিশ্বব্যাপী প্রকাশ ঘটেছে করোনার এই আক্রমণে। আগের দুই যুদ্ধের তুলনায় সে নিঃশব্দ, কিন্তু অনেক বেশি বিস্তৃত। এর আক্রমণ কেবল মানুষ করছে না, বিশ্বব্যাপী মনুষ্যত্ব বিপন্ন হয়েছে। মানুষের সভ্যতার যত অর্জন সমস্ত কিছুকে নাকচ করে দিয়ে করোনা মানুষকে তার আদিম অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, আদিম কালের মানুষের ভেতরেও পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল; এই মহামারি সেই দুই গুণকেও মুছে ফেলে দিতে চায়। বলে তুমি ঘরে থাকো, গুহায় ঢোকো। তুমি তোমার সামাজিক সত্তাটাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলো, কারও দিকে কোনো দিকে তাকিয়ো না; অন্যরা প্রত্যেকেই তোমার শত্রু, তোমার জন্য তারা বিপদ বহন করছে। আত্মীয় নেই, স্বজন নেই, প্রত্যেকেই তার নিজের তরে।
কিন্তু মানুষের সভ্যতা তো গুহাবাসী নয়, ছিল না কখনও, হবে না কখনও; হলে তার মৃত্যু ঘটবে। সভ্যতা চায় মানুষ সামাজিক হোক, একত্র হোক, বিশ্বজুড়ে হাত ধরাধরি করে চলুক একে অপরের। সভ্যতার আকাঙ্ক্ষা রোগের আন্তর্জাতিক নয়, স্বাস্থ্যের আন্তর্জাতিকতা। এটা তো জানাই আছে যে, রোগের সংক্রমণ খুবই সহজ, স্বাস্থ্যের বিস্তার অত্যন্ত দুরূহ। মানুষের সভ্যতা সহজের নয়, দুরূহের সাধনাই করে। মানুষের ইতিহাসকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তার কর্তব্য। করোনার কাজটা ঠিক উল্টো। করোনা হচ্ছে বিধ্বংসী, সভ্যতা সৃজনশীল। করোনা বিচ্ছিন্ন করে, সভ্যতা করে সংলগ্ন। পরিস্কারভাবেই দেখা যাচ্ছে যে, সভ্যতা ও করোনা পরস্পরবিরুদ্ধ অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। করোনার অন্তর্ধান মানুষের সভ্যতার জন্য নিজের কর্তব্যপালনের প্রধান শর্ত।
করোনা পরাস্ত হবে। মানুষ কখনোই আত্মসমর্পণ করেনি, করবে না এবারও। ওষুধ আবিস্কৃত হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। কিন্তু আগামীতে যে নতুন কোনো এবং আরও ভয়াবহ কোনো মহামারি দেখা দেবে না। তার নিশ্চয়তা কি? নিশ্চয়তা মোটেই নেই; বরং আশঙ্কা আছে।
সেটা যাতে না ঘটে সভ্যতার কাজ ঠিক সেখানটিতেই। তার জ্ঞানচর্চার উদ্দেশ্য মানুষের মনুষ্যত্বকে রক্ষা করা, মনুষ্যত্বকে আরও বিকশিত করে তোলা। ধ্বংসের হাত থেকে তাকে বাঁচানো। মানুষের জ্ঞানচর্চা সেই সত্যকেই সামনে নিয়ে আসবে করোনার ধ্বংসলীলা যাকে ধরিয়ে দিল। আসামি করল। সেই সত্যটা হলো এই যে, যাকে আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছিলাম তার অন্তরালে দারুণ অস্বাভাবিকতা ছিল। সেটি হলো কৃত্রিমতার। বলা চলে, আমানবিকতার উন্নতির নামে অমানবিকতার চর্চা চলছিল। বাড়ছিল ধনবৈষম্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের শত্রুতা। বৈষয়িক উন্নতি ঘটেছে, কিন্তু যত উন্নতি হয়েছে তত বেড়েছে ওই দুই দুর্বলতা। পুঁজিবাদী উন্নতি প্রধান নিরিখ দাঁড়িয়েছে মারণাস্ত্র আবিস্কার। এই উন্নতি মানুষকে নিরাপত্তা দেয়নি, দেবে না। বরং তাকে আরও বেশি অনিরাপদ করে তুলবে এবং তুলেছে।
করোনায় বৈষম্য বাড়বে। অসংখ্য মানুষ বেকার হবে। ভুগবে ক্ষুধায়। দরিদ্র দেশগুলো আরও দরিদ্র হবে, দরিদ্র মানুষের জীবনমান আরও নিচে নেমে যাবে। বৃদ্ধি পাবে সহিংসতা। ওদিকে সভ্যতা বলে মনুষ্যত্বের প্রমাণ হিংস্রতায় নেই, নেই মানুষকে মারার ও তার মনুষ্যত্বকে হরণ করার ভেতরে; আছে বিশ্বব্যাপী সুখ ও প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে। মানুষে-মানুষে এবং মানুষে-প্রকৃতিতে মৈত্রী যদি এগোয় তবেই সভ্যতা এগোবে, নইলে প্রলয় অনিবার্য। তাতে মানুষের সভ্যতা কেবল নয়, মানুষের অস্তিত্বই বিপদগ্রস্ত হবে।
পৃথিবীটাকে তাই বদলানো চাই। বদলানোর কাজে সবচেয়ে কার্যকর ও উপকারী অস্ত্র হচ্ছে জ্ঞান। জ্ঞানই পারে শক্তি জোগাতে, ক্ষমতা দিতে। আজ সেই জ্ঞান খুব বেশি দরকার যে বলে দেবে, যে একা কেউ বাঁচতে পারে না, বাঁচতে হলে মিলতে হবে। আর মিলনের প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে ব্যক্তিগত মালিকানা। করোনা পুঁজিবাদের ফসল ও প্রতিনিধি। ব্যক্তিকে সে একমাত্র সত্য করে তুলতে চায়, সমষ্টিকে ভুলিয়ে দিয়ে। করোনা জানিয়ে দিচ্ছে যে, সম্পদের সামাজিক মালিকানা ছাড়া বর্তমান পৃথিবীর জন্য মুক্তির অন্য কোনো উপায় নেই। করোনা সামাজিক দূরত্ব তৈরি করছে, করোনাকে এবং তার উৎপত্তিস্থলকে বিনষ্ট করতে হলে সমষ্টিগত উদ্যোগ দরকার। সেই উদ্যোগের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা। ব্যক্তিমালিকানা যা দেওয়ার ইতোমধ্যেই দিয়ে ফেলেছে, বাকি আছে প্রলয় সৃষ্টি করা। এই উপলব্ধিটা আজ জেগে উঠছে প্রতিটি দেশে, এবং সারা বিশ্বে। বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষা এখন তেমন সামাজিক মালিকানার, যা দেয়ালগুলো সব ভেঙে ফেলবে, বিশ্বকে করবে বিশ্বজনীন। বলাই বাহুল্য যে, সেই উপলব্ধিটাই হচ্ছে মানবজাতির প্রধান ভরসা।
জ্ঞানের চর্চা বিলাসিতা নয়; সে হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয়। তার চর্চাই পারে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে এবং মুক্তির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে। সে সৃষ্টি করতে চায় আন্তর্জাতিক সামাজিকতা। জ্ঞানের এই চর্চা মানুষের সভ্যতা বিকশিত করেছে, সেখানেই তার গৌরব ও চরিতার্থতা। জ্ঞানের এই চর্চা অব্যাহত থাকা চাই।
জ্ঞানের এই চর্চা মানুষের সভ্যতাকে বিকশিত করছে। সেখানেই তাদের চরিতার্থতা। এটা কেবল সভ্যতার কাজ নয়, দায়িত্ব গোটা সমাজের। বিশেষ করে তাদের, যারা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে মেনে নিতে চান না। করোনাভাইরাস বলে দিল যে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন দরকার এবং সেই আন্দোলনের জন্য জ্ঞানের চর্চা অত্যাবশ্যকীয়। জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত থাকুক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগেও দুর্যোগ ও যুদ্ধাবস্থা পার করে এসেছে। জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রেখেছে এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার মুক্তির কথা বলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভূমিকা কখনোই সহজ ছিল না। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতেও দেশের মানুষ দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়টির দিকে তাকিয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি তা উপলব্ধি করতে পারছে?
ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয় : শিক্ষা