সহস্র স্বপ্ন নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসেন। মনে বাসনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিশ্ব নিয়ে ভাবব, শিক্ষকদের সহায়তায় উদ্ভাবনী শক্তির দ্বারা নতুন কিছুর উদ্ভাবন করব। যা দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে। দেশে বর্তমানে ৪৬টির মতো সরকারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এদের অনেকেই নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও সাফল্যের দ্বারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতা অর্জন করছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ১২ অক্টোবর ২০০৮ সালে রংপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রাখছে। বর্তমানে ২১টি বিভাগে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছেন। এ ছাড়া ৩০ শিক্ষার্থী ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এমফিলে অধ্যয়নরত।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা-অবকাঠামো বিনির্মাণে গড়িমসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যপক ড. এ. কে. এম নুরুন্নবীর আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে মারধর করেছিলেন। যার সুষ্ঠু বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বহিস্কার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী (ক্যাম্পাস সংবাদদাতা) নিউজ করেননি। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ' নামের একটি সংগঠন তাদের চাকরিচ্যুতির জন্য পত্রিকা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানায়। এ ছাড়াও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও এর আনুষঙ্গিক কাজ (শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ) করা হয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। ছাত্ররা কোনো ভুল করলে শিক্ষকরা এর ভালোমন্দ বুঝিয়ে তাদের আদর্শ মানব হিসেবে গড়ে তুলবেন এটাই চিরাচরিত নিয়ম। শিক্ষকরা সর্বদা ভাববেন কীভাবে তার সন্তানের মতো শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে, কীভাবে তাদের একটি ভালো ক্যারিয়ার বিল্ডআপে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে। অথচ শিক্ষক হয়ে যখন শিক্ষার্থীদের চাকরিচ্যুতির জন্য হস্তক্ষেপ করেন? একজন কর্মচারী কীভাবে শিক্ষার্থীকে মারধর করতে পারেন? কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গালাগাল করতে পারেন? শিক্ষার্থীরা ও সংশ্নিষ্ট সাংবাদিকরা কোনো ভুল বা অন্যায় করে থাকলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু কীভাবে তারা এমন অমানবিক হতে পারেন?

শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায়, উচ্চশিক্ষায়, গবেষণায়, শিক্ষার্থীরা সফলতা দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করে আসছেন। সর্বশেষ ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় ১২ জনের অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

শিক্ষা অর্জনের জন্য এসে তারা যদি এমন কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীর দ্বারা মানসিক-শারীরিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে কি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা তাদের ভুল ছিল? কাকে নালিশ করবেন তারা? তাদের নিরাপত্তাই বা কোথায়? আর কোথায়ই বা তাদের বাকস্বাধীনতা? বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেরোবি