দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী

বাঙালির বিদ্যাসাগর অপরাজেয়

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায়

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রাণপুরুষ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়েছে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে। তার জীবনকাল ১৮২০-১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দ। 'বিদ্যাসাগর' তার সাম্মানিক উপাধি। শিক্ষাদীক্ষায় তিনি প্রকৃতই ছিলেন বিদ্যার সাগর। একাধারে তিনি ছিলেন সুপণ্ডিত, বাংলা গদ্য রচনার পথিকৃৎ, সমাজ-সংস্কারক, শিক্ষাব্রতী এবং দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের সহমর্মী। দয়া এবং মমত্ববোধের জন্য তার আর একটি উপাধি হলো 'করুণাসিন্ধু' বা দয়ার সাগর। পার্থিব ধনদৌলত বা বংশগত আভিজাত্য বলতে তার তেমন কিছু ছিল না। যে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা অনেক সংগ্রামীর পক্ষেও সম্ভব হয় না, বিদ্যাসাগর সেগুলো অতিক্রম করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। তার চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বাঙালি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যথার্থই বলেছেন, 'অদৃষ্টেরে ব্যর্থ তুমি করলে বারংবার।'
ঈশ্বরচন্দ্রের শৈশবকালে বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় কর্মরত ছিলেন। তিনি উচ্চশিক্ষিত ছিলেন না, কিন্তু ছেলের শিক্ষার জন্য বিশেষ যত্নবান ছিলেন। ৯ বছর বয়সের ঈশ্বরচন্দ্রকে কলকাতায় এনে ভালো স্কুলে তার পড়ার ব্যবস্থা করেন। সংস্কৃত কলেজে তখন সংস্কৃত ও ইংরেজি দুটোই শেখানো হতো। ঈশ্বরচন্দ্র সেখানে ইংরেজি শিখলেন। তার সঙ্গে শিখলেন সংস্কৃত ভাষা এবং সাহিত্য ছাড়াও ব্যাকরণ, তর্কশাস্ত্র ও দর্শন। ১০ বছর ধরে সংস্কৃত কলেজে পড়ার সময় তিনি অনেক বৃত্তিও পেয়েছিলেন, যেগুলো আর্থিক দিক থেকে তার এবং তার পরিবারের সহায়ক হয়েছিল। কর্ম-সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য তিনি একবার হিন্দু আইনের পরীক্ষায় বসেন। তবে কর্মজগতে তার প্রথম প্রবেশ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত বা সংস্কৃত শিক্ষক হিসেবে। কয়েক বছর পরে তিনি সংস্কৃত কলেজে যোগদান করেন প্রথমে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে। ক্রমশ তিনি এই কলেজটির অধ্যক্ষের পদ পান এবং সঙ্গে সরকারের শিক্ষা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ, বাংলার কয়েকটি জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুলস হিসেবেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার আগে এই পদে কোনো ভারতীয় নিযুক্ত হননি। এই পদের সুবাদে তিনি বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে শিক্ষা বিস্তারের, বিশেষত, স্ত্রী-শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নিতে সমর্থ হয়েছিলেন।
বিদ্যাসাগরের সৃজনশীল এবং ব্যস্ত কর্মজীবনের কথা বিশদভাবে লিখতে গেলে কয়েকশ' পাতার বই হয়ে যাবে। তার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সাফল্যের ক্ষেত্র হলো- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য; সমাজ-সংস্কার, বিশেষত বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে তার প্রচেষ্টা; স্ত্রী-শিক্ষার প্রসার, বিশেষত গ্রামবাংলায়।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা ভাষার এক অসাধারণ বিকাশ ও উন্নতি হয়। এরই প্রভাবে উনিশ ও বিশ শতকের অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা সাহিত্যেরও উল্লেখযোগ্য সমৃদ্ধি ঘটে এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের সাহিত্যসৃষ্টি জগৎজোড়া খ্যাতি ও সমাদর লাভ করে। বিদ্যাসাগর-কৃত বাংলা ভাষার সংস্কার ছিল এই বিস্ময়কর উন্নতির প্রধান সোপান। বাংলা ভাষার খ্যাতিমান সাহিত্যস্রষ্টারা প্রত্যেকেই এজন্য বিদ্যসাগরের কাছে গভীরভাবে ঋণী। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার বিবর্তন ও উন্নতিতে বিদ্যাসাগরের অসাধারণ অবদান বিভিন্ন প্রসঙ্গে বারবার শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের বিচারে বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল বাংলা ভাষার আধুনিকীকরণ।
বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বর্ণপরিচয় প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ নামে বাংলা অক্ষর পরিচয়ের এবং ব্যবহারবিধির দুটি সুসংহত ভিত্তিপুস্তক প্রকাশ করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও দক্ষতা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে তাদের বাংলা ভাষা শিক্ষার জন্য এ দুটি ছিল প্রথম সোপান। বিদ্যাসাগর বাংলায় বেশকিছু প্রবন্ধ এবং ছোটগল্প লেখেন এবং তার সমাজ-সংস্কারের প্রচেষ্টাগুলোর সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে ছোট ছোট প্রচারপত্র প্রকাশ করেন। বাংলা, ইংরেজি এবং সংস্কৃতে স্বল্প দৈর্ঘ্যের লেখা ছাড়াও তিনি বাংলা, হিন্দি ও সংস্কৃতে কমবেশি এক ডজন বই প্রকাশ বা সম্পাদনা করেন। এই ভাষা ও সাহিত্য-সাফল্যগুলো তার প্রজ্ঞা, পাণ্ডিত্য এবং অধ্যবসায়ের পরিচায়ক।
শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক বিদ্যাসাগরের কিন্তু ব্যবসায়ী বুদ্ধিরও অভাব ছিল না। তিনি তার নিজের রচিত বইগুলোর মুদ্রণ ও বিক্রয়ের দায়িত্ব অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে 'সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি' নামে একটি পুস্তক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন এবং তার বইগুলো সরাসরি এখান থেকেই বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। তার রচিত পাঠ্যপুস্তকগুলোর বাজার এতই ভালো ছিল যে, বিদ্যাসাগরের আয় এক সময় বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়। যার ফলে তিনি তার সংস্কারমূলক কাজকর্মের যাবতীয় ব্যয়ভার নিজেই বহন করতে সক্ষম হন। জীবদ্দশায় তার রচিত বর্ণপরিচয়ের বিক্রয়-সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল তিন লাখেরও বেশি। তার পরও অকাতরে দান এবং সংস্কারমূলক কাজে খরচ করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তেন।

বিদ্যাসাগরের সাফল্য বহুমুখী। কিন্তু তিনি নিজে মনে করতেন সমাজ-সংস্কার। বিশেষত, হিন্দু বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করাই ছিল তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। তিনি ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বিধবা বিবাহের সপক্ষে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করলেন, যাতে পরাশর সংহিতার বিধবা বিবাহের পক্ষের বিধানগুলোর উল্লেখ ছিল। দ্য হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় এই প্রচারপত্র সম্পর্কে লেখা হয়েছিল, প্রচারপত্রটি যুক্তিগ্রাহ্য, ব্যবসায়িক দক্ষতায়, পরিস্কার সহজবোধ্য ভাষায় লেখা হয়েছে এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি সমাজে আলোড়ন তুলেছে। প্রচারপত্রের বৈপ্লবিক বাণী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছেছিল এবং বাঙালি সমাজকে তা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
বিদ্যাসাগরের প্রস্তাব ১৮৫৫ সালের নভেম্বর মাসে আইনসভায় পেশ করা হলো। দীর্ঘ তর্কবিতর্কের পর আইনসভা অবশেষে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের সব বাধা দূর করে ১৮৫৬ সালে পঞ্চদশ আইনটি পাস করল। শুধু আইন পাস করিয়েই বিদ্যাসাগর থেমে যাননি। ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৮৬৭ সালের মধ্যে নিজ উৎসাহে ও প্রচেষ্টায় এবং প্রায়শ নিজের খরচে তিনি প্রায় ৬০টি বিধবা বিবাহের ব্যবস্থা করেছিলেন। অনেক ব্রাহ্ম যুবক এই কাজে তার সহায়ক হয়েছিলেন, কিন্তু গোঁড়া হিন্দু সমাজের অনেকে তার বিরোধিতাই করেছে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও কিছু কিছু ব্যাপারে তার বিরূপ সমালোচকদের অন্যতম ছিলেন।
কিছু সমালোচক বললেন, অনাত্মীয়ের মধ্যে বিধবা বিবাহে সম্মতি থাকলেও বিদ্যাসাগর নিজের কোনো আত্মীয়ের ক্ষেত্রে সম্মতি দেবেন না। তার ছেলে যখন এক বিধবাকে বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করল, বিদ্যাসাগর ও তার পরিবারকে পরিত্যাগের হুমকি দিলো কিছু আত্মীয়। বিদ্যাসাগর তাদের দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিলেন, কোনো কিছুই ছেলের বিবাহস্থলে তার উপস্থিতি আটকাতে পারবে না। উৎফুল্ল বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে ছেলে নারায়ণ বিধবা ভবসুন্দরীকে বিবাহ করলেন। অবশ্য এই অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের পিতামাতা ও স্ত্রী যোগদান করেননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সাল থেকে জাতিসংঘ 'আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস' চালু করেছে। এটি প্রতি বছর ২৩ জুন পালিত হয়। এটি যেন সুদীর্ঘকালের ব্যবধানে এক বাঙালি সমাজসংস্কারকের যুগান্তকারী সুকীর্তিরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বিধবা বিবাহ প্রচলনের মতো আর একটি সমান দুরূহ কাজে বিদ্যাসাগর তার উদ্যম এবং পরিশ্রম নিয়োগ করেছিলেন। তা হলো, বাংলায় স্ত্রী-শিক্ষার প্রসার। বিদ্যাসাগর প্রত্যন্ত অঞ্চল ভ্রমণ করে স্থানীয় জনগণের কাছে তাদের কন্যাদের স্কুলের জন্য সহযোগিতা চাইলেন। সরকারি অনুদানে এবং কিছু ধনী ব্যক্তির আর্থিক সাহায্যে নভেম্বর ১৮৫৭ থেকে মে ১৮৫৮ সালের মধ্যে বাংলার চারটি জেলার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে ৪০টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বিদ্যাসাগর এমন উৎসাহের সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের ব্যাপারটি চালনা করছিলেন, জনগণের কাছে সরকারের সহায়তার ভূমিকাটি তেমনভাবে পরিস্ম্ফুট হচ্ছিল না। এতে করে ব্রিটিশ অফিসাররা অখুশি ছিলেন। এর ফলে শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতনও বন্ধ হয়ে গেল। প্রয়োজনীয় টাকার অঙ্কটা ছিল তিন হাজার। তখনকার দিনে এটা বিরাট অঙ্কের টাকা। বিদ্যাসাগর তার নিজের সামর্থ্য থেকে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেন। কিন্তু নতুন স্কুল খোলা তাকে বন্ধ করতে হলো।
এতে তিনি অপমানিত বোধ করলেন। সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের মতো মর্যাদাসম্পন্ন উচ্চপদ সমেত অন্যান্য যাবতীয় সরকারি পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন। এটা ছিল ১৮৫৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস। এক বছর পরে সরকার পিছু হটে বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোর আর্থিক অনুদান পুনরায় চালু করল। এর মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টা সরকারি স্বীকৃতি পেল। স্ত্রী-শিক্ষার কার্যক্রম চলতে থাকল। কিন্তু বিদ্যাসাগর সরকারি ব্যবস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তার কর্মকাণ্ড চালু রাখলেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বিদ্যাসাগরের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে। প্রায় চুপিসারে কলকাতা ত্যাগ করে সাঁওতাল পরগনার কারমাটাড় নামে এক ছোট পল্লিতে বাড়ি করে স্বেচ্ছানির্বাসনের জীবন শুরু করেন। কারমাটাড় বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের অন্তর্গত। এখানকার সাঁওতাল অধিবাসীরা বিদ্যাসাগরকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করল। তাদের কাছে তিনি ছিলেন 'নরদেহে ঈশ্বর'। সাঁওতাল ছেলেমেয়েদের জন্য তিনি একটি বিদ্যালয় এবং বড়দের জন্য একটি নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করেন। দুটোতেই তিনি পড়াতেন। অসুখ-বিসুখে তিনি তাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাও করতেন।
১৮৭৫ সালে নিজ হস্তাক্ষরে একটি উইল লিখে বিদ্যাসাগর তার সম্পত্তির থেকে ৪৫ জন প্রাপকের জন্য নিয়মিত মাসোয়ারার নির্দেশ দেন। এখানে উল্লেখযোগ্য, তাদের মধ্যে ২৬ জনই ছিলেন অনাত্মীয়। উইলে তিনি একটি দাতব্য চিকিৎসালয় এবং তার মায়ের নামে স্থাপিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ের জন্য নিয়মিত অর্থসংস্থান রাখেন। কিন্তু একমাত্র ছেলেকে অনৈতিক কাজকর্মের জন্য উইলের সুবিধাভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি।
এত সাফল্য সত্ত্বেও বিদ্যাসাগর ছিলেন প্রখর মর্যাদাবোধসম্পন্ন একজন সাদাসিধে মানুষ। তার পোশাক ছিল একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ধুতি, একটি চাদর এবং পায়ে এক জোড়া চামড়ার চটি, যা 'বিদ্যাসাগরী চটি' নামে বিখ্যাত হয়। তিনি গাড়ি ভাড়া বাঁচাতে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতেন। আবার কেউ সাহায্য চাইলে তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। তার দয়া ও মমত্ববোধের অনেক কাহিনি আছে। তিনি ছিলেন একজন গর্বিত বাঙালি, তবে নবজাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তার খ্যাতি ছিল ভারতজোড়া। বিদ্যাসাগর সম্পর্কে ভারতের পুনরুত্থানের আর এক মহানায়ক মহাত্মা গান্ধীর উক্তি- 'পৃথিবীতে বিদ্যাসাগরের মতো মানুষ খুব কমই জন্মগ্রহণ করেছেন।' ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগর, যতদূর জানা যায়, যকৃতের ক্যান্সার রোগে ভুগে তার উত্তর কলকাতার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইমেরিটাস অধ্যাপক, ম্যাসি ইউনিভার্সিটি নিউজিল্যান্ড