বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন ও বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি মুখ্য পোষক প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে বিসিক। দেশে করোনা সংক্রমণ হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৭৬টি শিল্পনগরীতে অবস্থিত শিল্প ইউনিটগুলোকে পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অব্যাহত রেখেছে বিসিক। শিল্পমালিকদের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে তিন মাসের জন্য সব ধরনের সার্ভিস চার্জ ও বিসিকের নিজস্ব তহবিল ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রণয়ন করা হয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রটোকল। এর পাশাপাশি বিসিকের প্রতিটি কার্যালয়ে স্থাপিত হয় হেল্পডেস্ক।\হকরোনার প্রভাবে যেখানে দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানাই বন্ধ ছিল, সেখানে বিসিকের শিল্প ইউনিটগুলোতে নিয়মিতভাবে মেডিকেল পণ্য যেমন- অক্সিজেন, পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার, চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দা, সুজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এবং কৃষিযন্ত্রাংশ, কীটনাশক ও সার উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়। লবণের দাম স্থিতিশীল রাখতে লবণ চাষ এবং লবণ মিলগুলোতে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্যলবণ উৎপাদনেও সার্বিক সহায়তা করছে বিসিক। ফলে ভোক্তারা পূর্বনির্ধারিত দামেই পাচ্ছে লবণ।
শিল্প খাতের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন, শিল্প খাতভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণ বিষয়ে সুপারিশ, মাইক্রো ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের জন্য সিড মানির প্রস্তাব, জেলা পর্যায়ে শিল্পঋণ বিতরণ ও মনিটরিং কমিটি গঠন, নিয়মিতভাবে অনলাইন সভা এবং রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিসিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত 'বঙ্গবন্ধু যুবঋণ' কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবদের ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
করোনাকালে ওয়ানস্টপ সার্ভিস আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিসিক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন এক জায়গা থেকেই কম সময়ে ২৭টিরও বেশি সেবা পাবেন। ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনে অন্তর্ভুক্তি বিসিকের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিসিকের প্রধান কার্যালয়সহ, আঞ্চলিক কার্যালয়, শিল্প সহায়ক কেন্দ্র ও শিল্পনগরীগুলোতে ই-নথি কার্যক্রম চালু হয়েছে। ই-নথি চালুর ফলে কাজে গতি ও স্বচ্ছতা এসেছে। ঘরে বসেই ফাইলে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ১৯৫৭ সালের আইনে চলছে বিসিক। সম্প্রতি পুরোনো এই আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করতে কাজ শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তাই বিসিকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নসহ নতুন নতুন ট্রেড খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিকের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কাজ চলছে। বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করা হলে বিসিকের জনবল বাড়ানোসহ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।\হসরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে সামঞ্জস্য রেখে বিসিকও তার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিসিক স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিন হাজার একর জমিতে ১০টি শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অনুরূপভাবে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার একর জমিতে ৪০টি শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০৪১ পর্যন্ত, যা সরকারের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে ৪০ হাজার একর জমিতে ১০০টি শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


  জনসংযোগ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্প মন্ত্রণালয়

মন্তব্য করুন