তিন দেশের ছাড়পত্র নিয়ে দুই শতাব্দীতে ব্যাপ্ত আট দশকাধিক দীর্ঘ ও বিচিত্র জীবনের পথ-পরিক্রমায় যেসব অনন্যসাধারণ বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের বা সৌভাগ্যবশত সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছে, তাদের মধ্যে অবিসংবাদিতভাবে সর্বোচ্চ মহিমান্বিত আসনে দেদীপ্যমান শেখ মুজিবুর রহমান। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অভ্রভেদী উচ্চতার ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিব। আমি, আমরা তারই সৃষ্ট বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। এটাই তো আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়। এই দেশই তো আগামীতে আমাদের উত্তরসূরিদের চিরকালের নির্ভয় ঠিকানা।
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন মহাত্মা গান্ধীর তিরোধানে বলেছিলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে তার মতো রক্তমাংসের গড়া একজন মানুষ কোনো কালে পৃথিবীর বুকে পদচারণা করেছিলেন। সত্য, সাম্য ও ন্যায়ের ধ্বজাধারী কালজয়ী বিপ্লবী কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এবংবিধ একটি মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, হিমালয় তিনি কখনও দেখেননি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেই তার হিমালয় সন্দর্শন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এ ছিল একটি যথার্থ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বাস্তবিকই পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিক উচ্চতার আরেকজন জননায়কের দেখা মেলে না, যিনি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরপ্রতিবাদী হয়ে, মাতৃভাষা এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ধ্বজাধারী হয়ে, একটি জাতিসত্তার সৃষ্টি করেন। সকলের প্রতি ভালোবাসা ও অহিংসার বাণী নিয়ে, চরম রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার অসাধ্য সাধন করেছিলেন। ভাবলে গৌরবমিশ্রিত একটি অনুভূতির সৃষ্টি হয় যে, এমন একটি মহামানবের ব্যক্তিগত সান্নিধ্যলাভের বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।
সাল, ১৯৫৩। আমি তখন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস)। একুশে ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে আমাদের উদ্যোগে স্থানীয় মালমশলা দিয়েই কর্তৃপক্ষের তুমুল বাধা সত্ত্বেও একটি শহীদ মিনার নির্মিত হলো। জিএস হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এর উদ্বোধন করলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ রুষ্ট হয়ে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। ২ এপ্রিল কলেজ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে তদানীন্তন ব্রিটানিয়া হলে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক সাম্যবাদী চেতনাবিধৃত একটি গীতিনকশা এবং কবি-সাহিত্যিক বন্ধুবর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর অমর কালজয়ী গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আলতাফ মাহমুদের কণ্ঠে জনসমক্ষে প্রথম পরিবেশিত হলো। গীত হলো 'কারার ঐ লৌহ-কপাট', আব্দুল লতিফের 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ওই জাতীয় বিপ্লব ও বিদ্রোহভিত্তিক গান। পুলিশ রিপোর্ট হলো, অনুষ্ঠানে হয়েছে সরকার-হটানো এবং জেলব্রেকিং-এর আহ্বান। গভর্নিং বডির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রনেতা ইকবাল আনসারী খান, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, ভিপি মশির হোসেন, গায়ক আতিকুল ইসলাম এবং জিএসকে (অর্থাৎ আমাকে) কলেজ থেকে বহিস্কার করা হলো। প্রত্যাহারের দাবিতে শুরু হলো ক্লাস বয়কট ও আন্দোলন। এক পর্যায়ে আমরা দেশের প্রধান বিরোধী নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তদানীন্তন রমনা রেস্ট হাউসে দেখা করলাম। তা ছিল তখন বিরাট উত্তেজনা ও শ্নাঘার ব্যাপার। সব শুনে তিনি বললেন, 'সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে পিটিশন দাও। সুরাহা না হলে কোর্টে যাওয়া যাবে। প্রদর্শিত অভিযোগে এই বহিস্কারাদেশ ধোপে টিকবে না।' সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে আসতেই দেখা হলো এক দীর্ঘদেহী সুদর্শন নেতৃসুলভ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। সহসঙ্গী দুই-একজন বলে উঠলেন- এই তো শেখ মুজিবুর রহমান (তখনও তিনি বঙ্গবন্ধু অভিহিত নন), বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের দাবি আদায়ের সফল আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা হতে সুখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা। তাকে ঘটনাটি বলা যায়। তিনি আগ্রহ সহকারে আমাদের বৃত্তান্ত শুনলেন। বললেন (এই মর্মে)- 'তোমাদের কথা অবশ্য আমি আগেই শুনেছি। কর্তৃপক্ষ মাত্রাতিরিক্ত অন্যায় কাজ করেছেন। তোমাদের জোর আন্দোলন করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে। অন্য কলেজের ছাত্রদেরও সহযোগিতা চাও। আমরা সমর্থন দেব।' আমরা বিপুলভাবে উৎসাহিত ও উদ্দীপিতবোধ করলাম। আরও জোরালোভাবে শুরু হলো আন্দোলন বিস্তৃতিতর পরিবেশে। বস্তুতপক্ষে শেখ মুজিবের ওই বলিষ্ঠ উৎসাহব্যঞ্জক কথাগুলো ছিল এক অর্থে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। কিছুকালের মধ্যেই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো। জীবনের প্রারম্ভেই এই মহান নেতার (পরবর্তীকালে জাতির পিতা) এমন একটি উদ্দীপক সাক্ষাৎ হয়ে দাঁড়াল আমার জীবনের এক শ্রেষ্ঠ অর্জন।

পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ছিলাম। ১৯৫৪-৫৫ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন ভিপি এএমএ মুহিত (পরবর্তী সময়ে সচিব এবং অর্থমন্ত্রী) জিএস মাহবুব আনাম এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়েছিলাম আমি। ওই এবং পরবর্তী দশকের সব গুরুপূত্বর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শেখ মুজিবের ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ বা নেতৃসুলভ ভূমিকা। গবেষক-লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ তার কাগমারী সম্মেলন বিষয়ক গ্রন্থে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বন্ধুবর জহির রায়হান ও আমার নাম উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি হয়েছিলাম আমি এবং জিএস হয়েছিলেন জহির রায়হান। মনে পড়ে, তখন শেখ মুজিবের মধ্যস্থতায় কাগমারী সম্মেলনের জন্য প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী দুই লাখ টাকা প্রদান এবং বহুবিধ সহায়তা করেছিলেন। ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে যখন চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই ঢাকা এলেন তখন যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসীন। ঢাকার ছাত্ররা চাইল তাকে অভ্যর্থনা দিতে। সময়ের অভাবে সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মধ্যস্থতায় ঠিক হলো যে, অতিথির মোটর শোভাযাত্রা যখন বর্তমান টিএসসির পাশ দিয়ে যাবে ওই সময় তিনি সামান্যক্ষণ যাত্রাবিরতি করবেন। তখন ছাত্রদের পক্ষ থেকে আমি তাকে একটি স্বাগত অভিনন্দন সূচক মানপত্র পাঠ করেছিলাম এবং চৌ এন লাই সংক্ষিপ্ত উৎসাহব্যঞ্জক প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন। তখন দেশে-বিদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রভূত সম্মান ও স্বীকৃতি। এ জন্যই সম্ভবত ১৯৫৭ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির কিছুটা নতুন মোড়ের ব্যাখ্যা দেবেন বলে স্থির হলো। জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘ নির্দেশিত কাশ্মীরের ্তুফরংঢ়ঁঃবফ ংঃধঃঁং্থ এবং গণভোটের সিদ্ধান্তের বরখেলাফে ভারতভুক্তির একটি ঘোষণা ভারত সরকার দিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হতো যে সরকার স্থির করলেন এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যামূলক ভাষণ দেবার জন্য হেলিকপ্টারে এসএম হল টেনিস কোর্টে অবতরণ করবেন এবং তার সঙ্গে থাকবেন মাত্র একজন ছাত্রদের সর্বগ্রহণযোগ্য নেতা। তিনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বস্তুতপক্ষে তার উপস্থিতির জন্যই পূর্ণ শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে পররাষ্ট্র নীতি ও কাশ্মীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন মতাবলম্বী ছাত্রদের ওই বিরাট সমাবেশ করা সম্ভবপর হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তার বিখ্যাত ০+০+০ = ০ থিয়োরি বিশ্নেষণ করে বোঝালেন, শুধু দুর্বল বা অকার্যকর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সখ্য করলে কর্মক্ষেত্রে প্রাপ্তিতে শূন্যই থেকে যায়। তাই বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন, শক্তিধরদের সঙ্গেও সখ্য স্থাপন (পৃ-৩১-ঝযবরশয গঁলরন, খরনবৎধঃরড়হ ডধৎ ধহফ ইধহমষধফবংয নু অনফঁষ কযধষবয়ঁব, বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্র সচিব এবং আই.জি.পি)। তবে দেশীয় স্বার্থ ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ণ রেখে।
পরবর্তীকালে 'মানুষের নেতা' বঙ্গবন্ধু যখন অনুধাবন করলেন বাংলা উন্নয়নের জন্য, বাংলার মানুষের সুখ, শান্তি, অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন বাংলারই ক্ষমতায়ন এবং তারই উদ্ভাবিত 'ছয় দফা' এনে দিতে পারে মুক্তির সনদ, তখন তার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক আন্দোলন হয়ে দাঁড়াল ছয় দফা কেন্দ্রিক। এবং আমরা সবাই এটা প্রত্যক্ষ করেছি, কী করে অনেকটা স্বতঃসিদ্ধভাবেই তা স্বাধীনতার পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে গেল।
১৯৭১ সালের ১১ বা ১২ মার্চ সিএসপি অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাঞ্চল শাখার সভাপতি ছিলেন পাঞ্জাবের এসএম হাসান (আইসিএস/সিএসপি) মেম্বার, বোর্ড অব রেভিনিউ, জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন মাদ্রাজের করিম ইকবাল, সিএসপি, যিনি একজন বাঙালি নারীর পাণিগ্রহণ করেছিলেন। অ্যাসোসিয়েশনের আহূত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, 'সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকার পরিচালনায় নিয়মতান্ত্রিক সহযোগিতা প্রদান ও কর্তব্য পালন। বর্তমানে দেশে একটি সর্বগ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচন হয়েছে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পার্লামেন্টে নির্বাচিত সংখ্যাগুরু রাজনৈতিক দলের নেতাই অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমানই সরকার গঠন করবেন। এই পরিবর্তনের সময়ে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন অফিসারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ব্যাপারে তারা সচেতন এবং কর্তব্য পালনে সদাপ্রস্তুত রয়েছেন।' সিদ্ধান্তের কপি প্রেসিডেন্ট, মার্শাল ল' কার্যালয়, গভর্নর এবং পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার কাছে পাঠানো হলো। বঙ্গবন্ধুর কাছে এক কপি রুহুল কুদ্দুস সাহেব নিয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল। সঙ্গে আমিও ছিলাম। বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত দেখে খুবই প্রীত ও সন্তুষ্টবোধ করেন। এটা ছিল নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা হিসেবে তার প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের ওপর নির্ভর করব। তাকে বলা হলো, 'স্যার, আপনার মৌখিক নির্দেশেই তো এখন সারাদেশ চলছে।' এবং সত্যিকারভাবেই তখন তাই-ই ছিল। সব অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, সংস্থা, কল-কারখানা, রেল-বাস, দোকানপাট সবই বন্ধ হতো, চলতো, খুলতো তারই নির্দেশে। প্রশাসনের সর্বস্তর এবং সমাজের সর্বাঙ্গের সঙ্গে একটি আশ্চর্য-সুন্দর আস্থা, সম্মান ও আনুগত্যের সম্পর্ক তিনি গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। এটা সম্ভব হয়েছিল তার ব্যতিক্রমী, সর্বত্যাগী, অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের জন্যে। সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের দেশপ্রেম, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার প্রতি তার অবিচল সস্নেহ-আস্থার পরিচয় বাংলাদেশ তার শাসনামলে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

 সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, উপদেষ্টা পরিষদ; অবসরপ্রাপ্ত সচিব

বিষয় : মুজিববর্ষ

মন্তব্য করুন