বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ঘাঁটি এবং চট্টগ্রামের জহুরুল হক ঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সশস্ত্র বাহিনীর ওয়ার কোর্স উইংয়ে ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী মফিদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে তার জন্ম নারায়ণগঞ্জে।

সমকাল: কভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করছেন?

মফিদুর রহমান: কভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন সবক্ষেত্রেই বড় ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে এভিয়েশন সেক্টর বা উড়োজাহাজ চলাচল খাত। এ অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বেবিচক প্রথম থেকেই কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে একটা ভালো দিক ছিল যে, বেবিচক আগে থেকেই মোটামুটি প্রস্তুত ছিল। এর কারণ হচ্ছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে এখানে এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিয়নের পাবলিক হেলথ রিলেটেড মহড়া এবং ওয়ার্কশপ হয়েছিল। সেটা ছিল ইবোলা ও সার্চের ওপর। যেহেতু সার্চ ও করোনাভাইরাস একই রকমের, সে কারণে ওই মহড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিমানবন্দরে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং আমাদের এখানেই এ অঞ্চলের সব দেশ মহড়া করেছে। আমি ওই ফোরামের চেয়ারম্যান ছিলাম। এরপর ডিসেম্বরে যখনই চীন থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার খবর এলো, তখন থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়। বিভিন্ন বন্দরে কীভাবে স্যানিটেশন কাজ হবে, স্বাস্থ্য রক্ষার বিধি মানতে হবে- সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর লকডাউন শুরু হলে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউন সময়েও জরুরি প্রয়োজনের জন্য কিছু ফ্লাইট চালু রাখতে হয়েছে। এরপর লকডাউন পরিস্থিতির উন্নতি হলে আইকাওসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে দ্রুত বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোর দিয়ে বলতে পারি, এ অঞ্চলের মধ্যে আমরাই সবার আগে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জে এগিয়েছিলাম এবং একটা দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছি। আমরা ১ জুন অভ্যন্তরীণ রুট খুলে দিয়েছি। এরপর ১৬ জুন থেকে আন্তর্জাতিক রুটও সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ৯০ শতাংশ যাত্রী এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ যাত্রী পাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া যাচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার কারণে।

সমকাল: কভিড-১৯-এর কারণে বেবিচকের রাজস্ব আদায়ে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে?

মফিদুর রহমান: ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মহামারির বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গত মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্ষতি হয়েছে অ্যারোনটিক্যাল খাতে। নন-অ্যারোনটিক্যাল খাতেও আয় কমেছে। বেবিচক নিজের আয়ে চলে। অর্থাৎ, কর্মকর্তা-কর্মচাীদের বেতন-ভাতা সবকিছু বেবিচকের আয় থেকে দিতে হয়। এরপর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হয়। প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকার সহায়তাও দেয়। এমনিতেই বছরে বেবিচক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করে। কিন্তু গত বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। কারণ, মহামারি এখনও শেষ হয়নি। আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে রাজস্ব আয় কম হওয়ার আশঙ্কা এ বছরও থেকে যাচ্ছে।

সমকাল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজে অগ্রগতি কতটুকু?

মফিদুর রহমান: প্রথমেই বলি, এই প্রকল্প দেশের জন্য গর্বের একটি প্রকল্প। এটি সরকারের একমাত্র মেগা প্রকল্প, যার কাজ লকডাউনের ভেতরেও চলেছে। লকডাউন ঘোষণার প্রথম সাত দিন শ্রমিকরা ভয়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় নিশ্চিত করার পর সাত দিনের মাথায় তারা কাজে যোগ দেন। ফলে এ সময়ে কাজটা তিন মাস এগিয়ে গেছে। সে সময় তাদের অতিরিক্ত মজুরিও দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। পাইলিংয়ের কাজ শেষ। এখন বেজমেন্ট, কার্গো-অ্যাপ্রোন ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের কাজ চলছে। এই প্রকল্প ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা আশা করছি, ২০২৩ সালের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

সমকাল: এ প্রকল্পের পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে একটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি আসলে কী ঘটেছিল?

মফিদুর রহমান: আসলে এই প্রকল্পটি জাপানের আন্তর্জাতিক সংস্থা জাইকার অর্থায়নে হচ্ছে। জাইকা প্রথমে বলেছিল, তারা এ প্রকল্পে পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক 'স্টূ্ক্র পাইলিং' প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। সে অনুযায়ী দরপত্রের শর্তে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্টু্ক্র পাইলিং করতে গিয়ে দেখা গেল ঢাকার মাটির জন্য এই প্রযুক্তি উপযোগী নয়, বরং ঝুঁকি আছে এবং ব্যয়ও অস্বাভাবিক বেশি হবে। এ কারণে মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তিতে পাইলিং শুরু করেও তা বন্ধ করা হয়। যেহেতু বিমানবন্দর এলাকার মাটিও একই চরিত্রের, সে কারণে স্টূ্ক্র পাইলিং প্রযুক্তি পরিবর্তন করে 'কোর পাইলিং প্রযুক্তি' ব্যবহার করা হয়। আসলে জাপান ছাড়া বিশ্বের সর্বত্রই 'কোর পাইলিং প্রযুক্তি' ব্যবহার করা হয়। কোর পাইলিং ব্যবহারের কারণে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ও কমে গেছে।

সমকাল: কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, বর্তমান অবস্থা কী?

মফিদুর রহমান: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। রানওয়ে বড় করা হচ্ছে। এটি প্রথমেই নয় হাজার ফুট করা হয়। পরে এটি ১২ হাজার ফুট করার কথা বলা হয়, যেন বড় উড়োজাহাজ নামতে পারে। কিন্তু ১২ হাজার ফুট রানওয়ে করতে গেলে তিন হাজার ফুট সমুদ্রগর্ভ ভরাট করতে হবে। এ জন্য বেবিচক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড দু'জন পরামর্শক নিয়োগ করে সমীক্ষা চালায়। বেবিচকের পরামর্শক কীভাবে, কোন প্রযুক্তিতে এটি করা সম্ভব সে বিষয়ে পরিকল্পনা দেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, তিন হাজার ফুট করা হলে ভবিষ্যতে মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বা ক্ষতির আশঙ্কা আছে। এ কারণে পরে এক হাজার ৭০০ ফুট সমুদ্রগর্ভ ভরাট করা হচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে দুটি দ্বীপের কোনো ক্ষতি হবে না। এখন কক্সবাজারে রানওয়ে হচ্ছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এরই মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও অনুমোদন দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরের মধ্যেই রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজটা হয়ে যাবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলছে। আশা করছি আগামী বছর থেকেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। আগামী বছর থেকে সমুদ্রের তীরে বড় একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। কক্সবাজারে এই নতুন বিমানবন্দর হবে। তার জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, সব প্রক্রিয়া শেষ করে আরও দু'বছর পর এই বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

সমকাল: দেশের আরও একটি সমুদ্রসৈকতনির্ভর আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা। এ এলাকায় কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে কি?

মফিদুর রহমান: কুয়াকাটাকে নিয়ে অতীতে পরিকল্পনা ছিল। এর পরিবর্তে এখন বরিশাল বিমানবন্দরকে উন্নয়ন করা হচ্ছে। কারণ বরিশাল থেকে কুয়াকাটার সড়ক যোগাযোগ অনেক উন্নত করা হয়েছে। আরও উন্নত হচ্ছে। এ ছাড়া পায়রা বন্দর ঘিরে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এ জন্য বাগেরহাটে নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। ফলে কুয়াকাটায় এ মুহূর্তে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু বরিশাল থেকে কুয়াকাটা সড়ক যোগাযোগ এবং বাগেরহাটে নতুন বিমানবন্দর হলে কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। দেশে বর্তমানে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিমানবন্দর ছাড়া আর কোনো বিমানবন্দরই লাভজনক নয়। এ কারণে নতুন একটি স্থানে বিমানবন্দর করার আগে অনেক বেশি হিসাব-নিকাশ এবং যাচাই-বাছাই করতে হয়।

সমকাল: উত্তরবঙ্গ ঘিরে নতুন কোনো বিমানবন্দরের পরিকল্পনা আছে কিনা?

মফিদুর রহমান: উত্তরবঙ্গে সৈয়দপুরে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হবে। এ জন্য প্রায় এক হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সৈয়দপুর ঘিরে ইপিজেড, আশপাশে কয়লা খনি আছে।

সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সৈয়দপুরই হচ্ছে উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক বিমানবন্দর। সরকারের সিদ্ধান্ত এই বিমানবন্দর ভারতের ঋণে নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এখন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লাগছে। এই ব্যয় সরকারি তহবিল থেকেই করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এই ব্যয় একটি চ্যালেঞ্জ।

সমকাল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্যাটাগরি 'এ'-তে উন্নীত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি কতটুকু?

মফিদুর রহমান: ক্যাটাগরি 'এ' এরই মধ্যে বাংলাদেশ অর্জন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান এরই মধ্যে ঢাকাকে ক্যাটাগরি 'এ' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, টরন্টোতে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে কভিড-১৯ মহামারির অবসান হলে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্যাটাগরি 'এ' স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। প্রক্রিয়া চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি অডিট হবে। অডিট শেষ হলেই আশা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ক্যাটাগরি 'এ' স্বীকৃতি দেবে। তখন ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এক বা একাধিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। এখানে যেটা জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ফ্লাইটের অনুমোদন দিলেও ইউরোপ একাধিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এখনই দেবে না। তবে ইউরোপে ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সমকাল: বেবিচকের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে কতটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন?

মফিদুর রহমান: আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি বিষয় ছিল অগ্রাধিকার। প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন। আপনি নিজেও বিমানবন্দর ব্যবহার করার সময় বুঝতে পারবেন, আগের চেয়ে এখন যাত্রীসেবার মানের পার্থক্য কতটুকু। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দিন-রাত কাজ করেছি। এখনও কাজ করে যাচ্ছি। এটা এখন শুধু আমাদের কথা নয়, বিমানবন্দর ব্যবহার করা দেশি-বিদেশি যাত্রীরাই বলছেন, যাত্রীসেবার মান অনেক বেড়েছে। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ছিল বেবিচকের কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে আসা। বেবিচকের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঠিকাদাররা ঠিক করে দিত। উন্নয়ন কাজ বেবিচকের, কিন্তু তার পরিকল্পনা করত ঠিকাদাররা। এই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। এখন বেবিচক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে সরকারি বিধি ও নিয়ম অনুসারে যোগ্য ঠিকাদার নিয়োগ করে। ফলে ঠিকাদার বা বাইরের কারও স্বার্থের জন্য তাদের পরিকল্পনায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ আর বেবিচকে নেই। তৃতীয় অগ্রাধিকার দুর্নীতি দমন করা। এ জন্য এরই মধ্যে দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে সংশ্নিষ্টতা পাওয়ায় দু-তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিস্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে, দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতেই হবে, পার পাওয়ার সুযোগ নেই। দুর্নীতি বন্ধ করতে প্রতি মাসে কর্মকর্তাদের জন্য আমি নিজে ক্লাস নিই। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হতে বলি তাদের। জাতির পিতা দুর্নীতি, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন সারাজীবন। জাতির পিতার আদর্শ ও দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম থেকে মুক্ত থাকতে বলি। নৈতিকতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণে 'ইথিক্যাল ভ্যালুজ' অংশটি সংযুক্ত রাখছি। আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য দেওয়া অবাধ করেছি, সংবাদমাধ্যমের যে কোনো প্রশ্নের জবাব দিই। কারণ বিশ্বাস করি, সংবাদমাধ্যম সঠিক দায়িত্ব পালন করলে এবং যথাযথ তথ্য তুলে ধরলে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধে তা অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।

সমকাল: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মফিদুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ। সমকালের জন্য শুভকামনা।