দেশের স্বাস্থ্যখাত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় মালদ্বীপ বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর জাতীয় আয়োজন ‘মুজিব চিরন্তন’। এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের বক্তব্যে এ কথা বলেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ।

বর্তমান মহামারির বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে আমরা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মেডিকেল সামগ্রী দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মেডিকেল টিমও পাঠিয়েছে। এটা দু’দেশের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিদর্শন।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দু’দেশের সম্পর্ক আরও অনন্য উচ্চতায় যাবে। এখন বাংলাদেশের অনেক কর্মী মালদ্বীপে কাজ করছে। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে চাই, আমাদের দেশে থাকা বিদেশিদের অধিকার আমরা রক্ষা করব। কভিড-১৯ টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সব বিদেশিদের বিবেচনায় নেব। সবাইকে বিনামূল্যে আমরা টিকা দেব। নাগরিক-অনাগরিক বলে আমরা বৈষম্য করব না।

এসময় তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালদ্বীপ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, এ অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তি হয়ে আছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমান এখনও অনেক জাতির কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন আপসহীন নেতা। তার ছয় দফা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি, তাতে অন্তর্নিহিত ছিল দেশের সংবিধানের সারকথা।

তিনি এও বলেন, অসাধারণ উন্নয়নের জন্য আমি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল। শক্তিশালী অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপরই বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ঢাকা সফরে আসা মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ।

১০ দিনের ‘মুজিব চিরন্তন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানা, মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি ফাজনা আহমেদ এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায়ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। এ দিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভিডিও বার্তা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউসিহিদি সুগা। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালির শুভেচ্ছা বক্তব্যও প্রচার করা হয়।