নাগরিক সাংবাদিকতা বর্তমান প্রজন্মে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে তথ্য জানতে পারা যায় বলে পাঠকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে নাগরিক সাংবাদিকতার প্রতি। নাগরিক সাংবাদিকতায় নাগরিকরা একদিকে যেমন সংবাদ লেখক, সেই সঙ্গে পাঠকও বটে।
নাগরিক সাংবাদিকতা হলো যেখানে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক একেকজন সাংবাদিক। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম নাগরিক সাংবাদিকতাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। বর্তমান সময়ে এত ঘটনা ঘটে, যা নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সবাইকে জানানোর ব্যবস্থা করে দেন।
নাগরিক সাংবাদিকতা হলো যখন প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য, ছবি, ভিডিও সংগ্রহ করে, যখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন তখন তিনি নাগরিক সাংবাদিকতায় যুক্ত হবেন।
একটা সময় সাংবাদিকতা বলতে শুধু পেশাদারি সাংবাদিকতা বা মূলধারার সাংবাদিকতাকেই বোঝাতো। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো বলতে রেডিও, টেলিভিশন, খবরের কাগজকেই বোঝানো হতো। পাঠককে একটি খবরের জন্য পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কারণ, মূলধারার সাংবাদিকতায় নিয়োজিত সংবাদকর্মীরা সারাদিন সংবাদ সংগ্রহ করে তা রাতে ছাপাতেন। পাঠকমাত্রই নতুন নতুন তথ্য শুনতে আগ্রহী। প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে, অসংখ্য তথ্যের সৃষ্টি হয়, অথচ সব ঘটনা, সব তথ্য পত্রিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো পাঠকদের তথ্যের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেত। মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনে সবসময় টেলিভিশন বা পত্রিকার সামনে বসে থেকে খবর দেখা বা শোনা সম্ভব নয়। যে কারণে পাঠকের মধ্যে সংবাদ শোনা বা পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ।
বর্তমান সময়ে অনলাইন সুবিধার ফলে প্রত্যেক পাঠক মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারে, জানাতে পারে, শুনতে পারে, যা অনেক বড় একটি অবদান সাংবাদিকতায়। আমাদের চারপাশে প্রতিদিন অহরহ ঘটনা ঘটে চলেছে। সব ঘটনা কিন্তু পত্রিকা বা টেলিভিশনে প্রচার করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নাগরিক সাংবাদিকতা জরুরি হয়ে পড়ে। প্রত্যেক নাগরিকের আশপাশে ঘটে চলা ঘটনাগুলো ফেসবুক, টুইটারে প্রকাশের মাধ্যমে সবাইকে জানানো যায়। এতে করে পাঠকদের তথ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।
নাগরিক সাংবাদিকতা আমাদের জন্য যে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে তার সঠিক ব্যবহারই সমাজের মূল্যবোধ বিকশিত করতে পারে। নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমাদের সবসময় বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ প্রকাশ করাই যথোপযুক্ত বলে মনে করি। আধুনিক সাংবাদিকতাকে সরল পথে ধাবিত করতে এবং আধুনিক নাগরিক সাংবাদিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে নাগরিকদের সচেতনতার সঙ্গে সঠিক তথ্যগুলোই প্রকাশ করা উচিত।
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন