সম্প্রতি শীতলক্ষ্যায় একটি লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিনিয়তই এ ঘটনা আমাদের মাঝে ঘুরেফিরে হানা দিচ্ছে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ৫০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। গত বছর পিনাক-৬ দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করে। কারণগুলো হলো- লঞ্চের কাঠামোগত ও কারিগরি ত্রুটি, সামর্থ্যের অতিরিক্ত যাত্রী ও মালপত্র বহন, লঞ্চের নকশায় অনুমোদনহীন পরিবর্তন, চালকের দায়িত্বহীনতা ও আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস এড়িয়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, লঞ্চ মালিকরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো লঞ্চের ভেতরের নকশা পাল্টে নিলেও জাহাজ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণে চলাচলের সনদ পেয়ে যান।
অথচ সামান্য কিছু টাকা খরচ করে লঞ্চ দুর্ঘটনা এড়ানো না গেলেও প্রাণহানি এড়ানো যায়। প্রত্যেক লঞ্চযাত্রীর একটি করে লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে। কোনো লঞ্চের ধারণক্ষমতা ২০০ হলে নিশ্চিতভাবে ৩০০ লাইফ জ্যাকেট থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যাত্রীরা লঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বয়া এবং লাইফ বোট যাত্রীসংখ্যার সমানুপাতে রাখতে হবে। অধিকাংশ লঞ্চের বয়া এমনভাবে বাঁধা থাকে, যা বিপদকালে তো নয়ই, স্বাভাবিক সময়েও খোলা যায় না।
মাস্টার-চালকের গাফিলতি, মাস্টারবিহীন চালনা, চরে আটকানো ও প্রবল স্রোতের কারণ, চরে ওঠা, বিরূপ আবহাওয়া, নির্মাণজনিত ত্রুটি, আগুন লাগা ও নিবারণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকা এবং দুটি লঞ্চের প্রতিযোগিতা দুর্ঘটনার কারণ। তাই দুর্ঘটনাজনিত বিষয়গুলো লঞ্চচালক ও যাত্রীদের ভালো মতো জানাতে হবে, যাতে তারা সচেতন হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা বা হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কতটুকু আইনের আওতায় আনা হয়েছে? অপরাধীরা কতটুকু শাস্তি পেয়েছে এ বিষয়টা নিশ্চিত হতে হবে। অপরাধীরা যদি তাদের অপরাধের শাস্তি না পায়, তাহলে এরূপ ঘটনা চলতেই থাকবে।
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
imranhossain64.bd@gmail.com

মন্তব্য করুন