সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও সেবা পাওয়ার সংকটের কারণে দেশে অস্বাভাবিকভাবে দুর্নীতি বেড়েছে। পুলিশ, ভূমি, হাসপাতাল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি চলছে। জেলা প্রশাসকের অফিস বা আদালতপাড়া, ব্যাংক, বীমা, সরকারি টেন্ডারগুলো এমনকি হাসপাতালে যে হারে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, তা রোধ করার জন্য দুদক নয়, কর্মচারীদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য।
সম্প্রতি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এখন ত্রাণসামগ্রী চুরি করার মতো কোনো লোকই নেই। ত্রাণ অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় তো এক্ষেত্রে পারদর্শী। সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হলে দেশের লাখ লাখ বন্যাকবলিত মানুষ আজও কেন ত্রাণসামগ্রী পায়নি। ত্রাণের দাবিতে এই বিপদগ্রস্ত মানুষের হাহাকার কে দেখবে? এখন আবার ক্রয়-বিক্রয় বা বেচাকেনায় কমিশনের নামে দুর্নীতি চলছে।
দেশে অনেকে দুর্নীতির টাকা না রেখে বিদেশে পাচার করছেন। অনেকে সেকেন্ড হোম ক্রয় করে দেশের টাকা বিদেশে বিনা বাধায় নিয়ে যাচ্ছেন। সে জন্য সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অবৈধ টাকার পাহাড় দিন দিন গড়ে উঠেছে, যার কোনো সীমা বা পরিসীমার শেষ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। দুর্নীতির আরেকটি জায়গা হচ্ছে মন্ত্রণালয় বা তার অধীন অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে সরকারি খাতে বরাদ্দকৃত টাকার ব্যাপক অনিয়ম ও অপচয়। সরকারি অডিটের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে গোপনে তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে বা সরকারি অফিস-আদালতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা মানে দুর্নীতির আরেকটি কৌশল। সেবার পরিবর্তে ফাইল আটকে রাখা বা কাজের অনুমোদন নিয়ে ঘোরানো বা এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা মানেই যে যত বেশি টাকা দেবে তার কাজটি তত দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা আমলানির্ভর হয়ে পড়েন আর এতেই ঘটে বিপত্তি।
লুটপাট, অপচয়, রাষ্ট্রের ক্ষতি এবং দুর্নীতি থেকে আমলাদের বের করানোটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব। কোনো অবস্থায় যেন দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সচিব এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
ফরিদাবাদ, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

মন্তব্য করুন