ভারতবর্ষে ইংরেজদের প্রথম কলোনি বাংলা-বিহার-উড়িষ্যায় আধুনিক বিচারব্যবস্থার সূচনা করে ইংরেজ প্রশাসন। ইংল্যান্ডে প্রচলিত কমন লর আদলে বিভিন্ন আইন 'কোডিফাই' করে এ অঞ্চলে বিচারকার্যের যাত্রা শুরু। আর অবশ্যম্ভাবীরূপে ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সেফি আদালত থেকে হাইকোর্ট- সর্বত্র ইংরেজি ভাষায় রায় লেখা হতো। অন্য কোনো দেশীয় ভাষায় রায় লেখার কথা তখন কেউ চিন্তাও করেনি।

১৯৪৭ সালে 'দ্য ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট' অনুসারে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের অনেকেই বাংলায় রায় লেখা আরম্ভ করেন। এখন অধস্তন আদালতের আইনগত কর্মকাণ্ড বাংলা ভাষাতেই সম্পন্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭' প্রণীত হয়। আইনটির প্রস্তাবনায় সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়।

অধস্তন আদালতে কয়েকটি মামলায় বাদী ইংরেজিতে আরজি দাখিল করলে বিবাদী এই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিযোগে আরজি খারিজের দরখাস্ত দিলে আদালত তা খারিজ করেন। আদেশে সংক্ষুব্ধ বিবাদীরা হাইকোর্ট বিভাগে বেশ কয়েকটি রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন। সব রিভিশন একসঙ্গে শুনানি হয়। বহুসংখ্যক বিজ্ঞ আইনজীবীর বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ ঘোষণা করেন- আদালতে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার 'নিষিদ্ধ' নয়। হাইকোর্টের এই রায় বাংলা ভাষা প্রচলনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি, বরং নতুন আইন বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বাতিল করেনি- এ কথাই বলেছে।

ইংরেজ আমলে নিম্ন আদালতে বিশেষ করে মফস্বলে অবস্থিত আদালতগুলোতে মুহুরি বা উকিল সাহেবরা বাংলা ভাষাতেই আরজি-জবাব ইত্যাদি হাতে লিখে দাখিল করতেন। সাক্ষীরা নিজেদের ভাষাতেই সাক্ষ্য দিতেন। বিচারকরা ভাষান্তর করে ইংরেজিতে লিখে নিতেন; প্রয়োজনে দোভাষীর সহায়তা নিতেন। ইংরেজ বিচারপতি বা বিচারকদের সুবিধার্থে বাংলা ভাষায় লেখা দলিল-দস্তাবেজ, আরজি জবাব ইত্যাদি ইংরেজিতে ভাষান্তরের পর পেপার বুকে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। তবে দেশি-বিদেশি সব বিচারকই ইংরেজি ভাষায় রায় লিখতেন।

বাংলাদেশে গত শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে অধস্তন সব আদালতে রায় প্রদানসহ সব কর্মকাণ্ড বাংলা ভাষাতেই সম্পন্ন হচ্ছে। অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা-মোকদ্দমা অনুপাতে বিচারকের সংখ্যার তীব্র অভাব রয়েছে। অভাব রয়েছে সমন জারি কারকসহ অন্যান্য কর্মচারীর। কিন্তু ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধিতে যে বিধানই থাকুক না কেন; বাংলা ভাষা ব্যবহার সম্পর্কিত কোনো সমস্যা বর্তমানে অন্তত নেই।

প্রশ্ন হলো, প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান যেখানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেছে; যেখানে প্রজাতন্ত্রের সকল কার্যক্রম বাংলা ভাষায় সম্পন্ন করার কথা; প্রজাতন্ত্রের একটি অঙ্গ সুপ্রিম কোর্টে তারপরেও কি ইংরেজি ভাষায় রায় লেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে? খোদ ইংল্যান্ডেও মধ্যযুগে রাজভাষা, আদালতের ভাষা ছিল ফ্রেঞ্চ আর পণ্ডিতদের ভাষা ছিল লাতিন। তখন ইংরেজি ভাষা ছিল কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের ভাষা। পরে 'প্লিডিংস ইন ইংলিশ অ্যাক্ট, ১৩৬২' প্রণয়নের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম আদালতগুলোতে ফ্রেঞ্চ ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার শুরু হয়। এ আইনে আদালতে দাখিলকৃত দরখাস্তগুলোতে ইংরেজিতে শুনানি করার বিধান ছিল। উল্লেখ্য, স্যার এডওয়ার্ড কোক চার খণ্ডে সমাপ্ত তার বিখ্যাত আইন গ্রন্থ 'ইনস্টিটিউটস অব ল'জ অব ইংল্যান্ড' লাতিন ভাষায় লিখেছিলেন। ১৬৫০ সালে অপর একটি আইন দ্বারা আদালতগুলোর রায়ের রিপোর্ট বই ও অন্যান্য আইনের বই ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের বিধান করা হয়। সর্বশেষে 'দ্য প্রসিডিংস ইন কোর্টস অব জাস্টিস অ্যাক্ট, ১৭৩০' (১৭৩৩ সালে কার্যকর) ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের আদালতগুলোতে কার্যধারা পরিচালনায় ফ্রেঞ্চ ও লাতিনের পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতমূলক করে। এভাবে খোদ ইংল্যান্ডের আদালতে ইংরেজি ভাষা চালু করতে প্রায় চারশ বছর লেগে যায়।

এই পটভূমিকায় আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের গোড়ার ইতিহাস আলোচনা প্রয়োজন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত গেল। ১৭৭০ সালে দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ দিল। ১৭৭২ সালে মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার গভর্নর হয়ে আসেন। ১৭৭৩ সালে ওয়েস্টমিন্‌স্টার পার্লামেন্টে 'দ্য রেগুলেটিং অ্যাক্ট' প্রণীত হলো। এই আইনের আওতায় ১৭৭৪ সালে এক রাজকীয় চার্টারবলে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই সঙ্গে পূর্বের মেয়র কোর্ট বিলুপ্ত হয়। সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার শুধু কলকাতা প্রেসিডেন্সি এলাকায় ব্রিটিশ প্রজা ও কোম্পানি কর্মচারীদের ওপরে কার্যকর ছিল। ইংল্যান্ডের কিংস বেঞ্চ ও কোর্ট অব চ্যানসারির সব ক্ষমতা এই সুপ্রিম কোর্টের ছিল। ইংল্যান্ডে প্রচলিত সব আইন ও বিধি অনুসারে সুপ্রিম কোর্টে বিচার-আচার চলত। সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে। উল্লেখ্য, ১৭৩০ সালের আইন বলে ১৭৩৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের আদালতগুলোর সব কার্যক্রম ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হওয়া আরম্ভ হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতের সমপর্যায়ের সুপ্রিম কোর্টেও রায় প্রদানসহ সব কাজ ইংরেজি ভাষায় হতো। তা ছাড়া, ১৭২৬ সালের চার্টারবলে ভারতবর্ষের যেসব স্থানে ইংরেজি বসতি স্থাপনের জন্য মোগল সম্রাট কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত ছিল, সেসব স্থান 'প্রেসিডেন্সি' ঘোষণা করে ইংল্যান্ডে প্রচলিত আইন ব্যবহূত হতো। ১৮৫৭ সালে ভারতবর্ষে সিপাহিদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরের বছর প্রণীত একটি আইন দ্বারা ভারতে ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সব সম্পদ ও কার্যক্রম ব্রিটিশ সরকারে ন্যস্ত হয় এবং রানী ভিক্টোরিয়া ভারতের সম্রাজ্ঞী হন।

১৮৬১ সালে প্রণীত এক আইনবলে ব্রিটিশ সরকার ভারতে হাইকোর্ট স্থাপনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়। অতঃপর ১ জুলাই ১৮৬২ তারিখে ফোর্ট উইলিয়ামে হাইকোর্টের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। একইভাবে মাদ্রাজ ও বোম্বে শহরে আরও দুটি হাইকোর্ট স্থাপিত হয়। নতুন হাইকোর্ট স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও প্রদেশে অবস্থিত সদর দেওয়ানি আদালত রহিত হয়ে যায়। কলকাতার প্রেসিডেন্সি এলাকার সুপ্রিম কোর্টের অধিক্ষেত্র এবং প্রদেশের সদর দেওয়ানি আদালতের সব এখতিয়ার নতুন হাইকোর্টে ন্যস্ত হয়। স্যার বারনেস পিকক সাবেক সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ এবং ফোর্ট উইলিয়ামে স্থাপিত নতুন হাইকোর্টের সর্বপ্রথম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নতুন হাইকোর্টে পূর্বের ধারাবাহিকতায় ইংরেজি ভাষাতেই বিচারকার্য পরিচালনা হতে থাকে। এই হাইকোর্টের অরিজিনাল ও আপিলেট দুই ধরনের এখতিয়ারই ছিল।

২৫ আগস্ট ১৮৬৫ তারিখে 'ইন্ডিয়ান হাইকোর্টস অ্যাক্ট' প্রণীত হয়।

১৯১১ সালে পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গ পুনরায় একত্রিত হওয়ার পর ২২ মার্চ ১৯১২ তারিখের এক ঘোষণা মারফত বিহার ও উড়িষ্যা দুটো পৃথক প্রদেশ সৃষ্টি হয়। পরে 'গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া (কনসোলিডেশন) অ্যাক্ট, ১৯১৫'-এর মাধ্যমে ভারতে স্থাপিত হাইকোর্টগুলোর গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। এর দায়িত্বের পরিধিও বাড়ানো হয়। ১০৭ ধারার বিধান অনুসারে বঙ্গ প্রদেশের সব অধস্তন আদালতের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান বহাল হয়। অতঃপর 'দ্য গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯৩৫' প্রণীত হয়। এই আইনে ভারতবর্ষের হাইকোর্ট সম্বন্ধে বিভিন্ন বিধান করা হয়। এই আইন প্রণীত হওয়ার আগে ভারতবর্ষের সব হাইকোর্টের পরিচালনা সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক সব খরচ বহনসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারে ন্যস্ত ছিল। এই আইনে তা প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়। তা ছাড়া, এ যাবৎকাল ইংল্যান্ডে প্রচলিত আইনের ধারাবাহিকতায় রায় প্রদানসহ হাইকোর্টের সব কার্যক্রম ইংরেজি ভাষায় চলে এসেছে। কিন্তু এ আইনের ২২৭ ধারা সুস্পষ্টরূপে ঘোষণা করে- সব হাইকোর্টের সব কার্যক্রম ইংরেজি ভাষাতেই হবে। ১৯৪৭ সালে 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাক্ট' অনুসারে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীন ভারতের সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে বলবৎ হয়। সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ হিন্দি ভাষাকেই ভারত প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে, তবে প্রথম ১৫ বছর ইংরেজি ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে থাকবে। ২৪৮ অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের সব কার্যক্রম সাধারণভাবে ইংরেজি ভাষায় সম্পাদিত হওয়ার কথা ঘোষণা করে। পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন করতে প্রায় ৯ বছর লেগে যায়। ১৯৫৬ সালে সংবিধানের ২১৪ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু ও বাংলা ভাষাকে ঘোষণা করে। তবে বলা হয় যে, সংবিধান কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ২০ বছর ইংরেজি ভাষা চালু থাকবে। আরও বলা হয় যে, এই সময়ের মধ্যে প্রাদেশিক সরকার ইংরেজি ভাষার পরিবর্তে রাষ্ট্রভাষার যে কোনো একটি প্রবর্তন করতে পারবে। তবে আদালতের ভাষা সম্বন্ধে পৃথক করে কোনো বিধান করা হয়নি। কিন্তু আড়াই বছরের মাথায় সমগ্র পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয় এবং সংবিধান বাতিল হয়। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর করা হয়। এর ২১৫ অনুচ্ছেদ বাংলা ও উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে, কিন্তু ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বারিত করেনি। ফলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টসহ সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ইংরেজি ভাষায় চালু থাকে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের সংবিধান বলবৎ হয়। সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে ঘোষণা করে, কিন্তু আলাদা করে আদালতের ভাষা ঘোষণা করার প্রয়োজন অনুভূত হয়নি। রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও অধস্তন আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম পাকিস্তান আমলের 'দ্য সুপ্রিম কোর্ট রুলস, ১৯৫৬' এবং 'রুলস অব দ্য হাইকোর্ট অব জুডিকেচার ফর ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬০' অনুসারে ইংরেজি ভাষায় চলতে থাকে।

১৯৭৩ সালে পূর্বের 'হাইকোর্ট রুলস'-এর পরিবর্তে 'দ্য সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস, ১৯৭৩' প্রণয়ন করা হলেও অধস্তন আদালত ও সুপ্রিম কোর্টে কী ভাষায় কার্য সম্পাদন হবে, সে সম্বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। ফলে স্বাধীনতার প্রথমদিকে রায় প্রদানসহ সব আদালতের সব কাজ আগের মতো ইংরেজিতেই হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার কারণেই হোক; বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসার কারণেই হোক বা ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে দুর্বলতার কারণেই হোক; অধস্তন আদালতের বিচারকরা ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় রায় লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৮৭ সালের আইন পাসের পর প্রায় সবাই বাংলা ভাষায় রায় লেখা আরম্ভ করেন।

অধস্তন আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন আরম্ভ হলেও এদিক থেকে সুপ্রিম কোর্ট পেছনেই থেকে গেল, যদিও ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭২ তারিখ থেকে হাইকোর্টের কজলিস্ট বাংলায় প্রকাশিত হওয়া আরম্ভ হয়। নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীরা কখনও বাংলায়, কখনও ইংরেজিতে দাপ্তরিক কাজ সম্পম্ন করে; কিন্তু ওই পর্যন্তই। হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগের কোনো বিচারপতি ১৯৮৯-৯০ সাল পর্যন্ত কোনো আদেশ বা রায় বাংলা ভাষায় প্রদান করার কোনো তাগিদ অনুভব করেননি।

বিচারপতি এ. আর. এম. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগে বাংলা ভাষার ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্যতম শেষ বিচারপতি ছিলেন। তিনি বিচারক হিসেবে বিজ্ঞ ও সম্মানিত ছিলেন। কিন্তু আপিল বিভাগে তাকে 'এলিভেটেড' করা হয়নি; বারবার 'সুপারসিডেড' হন। বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগে তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় শুধু আদেশই দিতেন না; বিচারিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত দৈনন্দিন প্রশাসনিক নির্দেশনাও দিতেন। পরবর্তী অনেক ফেব্রুয়ারি মাস এলো-গেল; কোনো কোনো মাননীয় বিচারপতি শুধু ওই মাসেই দু-একটা করে রায় বাংলা ভাষায় প্রদান করেছেন। আমার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা।

বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষভাবে চিন্তা করছিলাম যে, আমার মাতৃভাষায় রায় দেওয়ার একটা বিশেষ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবন্ধকতা কিছু তো ছিলই, যেমন হাইকোর্ট রুলসে হাইকোর্টে সব আবেদনপত্র ইংরেজিতে লেখার বিধান রয়েছে। ২০০৭ সালে কোনো বিচারপতি বাংলায় রায় লিখতেন না। দু-একজন সিনিয়র বিচারপতিকে জিজ্ঞাসা করলে নেতিবাচক জবাবই পেলাম। এ রকম সময়ে বাংলায় রায় লেখা নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এম. এইচ. রহমানের পরপর তিন দিনে প্রকাশিত একটি লেখা 'জনকণ্ঠে' পড়লাম। এর পরই মনস্থির করলাম, যেহেতু আমি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের আখরে লিখিত পবিত্র সংবিধান অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি এবং যেহেতু ওই পবিত্র সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করব বলে শপথ গ্রহণ করেছিলাম, সেহেতু হাইকোর্ট রুলসে যাই থাকুক না কেন; অন্যান্য বিচারপতি বাংলা ভাষায় রায় না লিখলেও সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা, সম্মান তুলে ধরতে, মানতে আমি বাধ্য। আমার মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষাতেই আমি রায় লিখব। এই সংকল্প থেকেই ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখ থেকে বাংলা ভাষায় রায় লেখা আরম্ভ করি।

বাংলা ভাষায় রায় লেখা প্রথমদিকে মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমেই যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তা হলো প্রতিশব্দের অভাব। তেমন অভিধানও ছিল না যে, ইংরেজি আইনি শব্দের সঠিক বাংলা শব্দ তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। অনেককে জিজ্ঞাসাও করতে হয়েছে। একদিন কোর্টে ডিকটেশন দিতে গিয়ে 'কেইম ইনটু কনফ্লিক্ট উইথ দ্য কনস্টিটিউশন' শব্দবন্ধটির বাংলা অর্থ হাতড়ে বেড়াচ্ছি। কোর্টে এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'সাংঘর্ষিক' হতে পারে কিনা। শব্দটা বেশ জুৎসই মনে হলো। ভদ্রলোকের নাম জিজ্ঞেস করলাম। বললেন, 'মিজানুর রহমান খান, সাংবাদিক'।

এর থেকেও বড় সমস্যা ছিল ডিকটেশন নিতে বেঞ্চ অফিসারদের অপারগতা। আমার মনে আছে, ১১ তারিখে প্রথম দিন কোর্টে ডিকটেশন দেওয়ার কয়েক দিন পর বেঞ্চ অফিসার খসড়াটা আমার হাতে দিলে, লেখাটার কোনো মানেই বুঝলাম না; একেবারেই দুর্বোধ্য। কোনো অর্থ উদ্ঘাটন করতে না পেরে এর পর থেকে সব রায় নিজ হাতে লিখতাম। এসব কারণে বাংলায় রায় লিখতে ইংরেজি থেকে অন্তত তিন গুণ সময় লাগত।

এসব কারণে যে রায়গুলো তাড়াতাড়ি দপ্তরে নামিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতো যেমন- জামিন প্রদানের আদেশ, স্টে, হ্যাবিয়াস কর্পাস সংক্রান্ত আদেশ বা অন্য কোনো আদেশ যা তাড়াতাড়ি দেওয়া খুবই জরুরি, নইলে পক্ষগণের ক্ষতি হয়ে যাবে, সে ধরনের জরুরি রায় বা আদেশ ইংরেজি ভাষাতেই দিতাম। ২০০৯ সালের প্রথমদিকে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি এম. এম. রুহুল আমিন 'হাইকোর্ট রুলস' যুগোপযোগী করতে কয়েকজন বিচারককে নিয়ে 'রুল কমিটি' পুনর্গঠন করেন- বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি আনোয়ারুল হক, বিচারপতি এমদাদুল হক। যতদূর মনে পড়ে, কমিটির প্রথম সভায় বলেছিলাম, অন্য বিষয়াবলির সঙ্গে দুটো জিনিস আমাদের করতে হবে; যথা, প্রথমত, ইংরেজির সঙ্গে বাংলা ভাষা যোগ করতে হবে; দ্বিতীয়ত, ইংল্যান্ডের হাইকোর্ট বা কোর্ট অব আপিলের ন্যায় প্রধান বিচারপতির 'প্র্যাকটিস ডিরেকশন' দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি এমদাদুল হককে এই দুটি বিষয়ের প্রতি নজর রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম।

ইতোমধ্যে, ১৬ জুলাই ২০০৯ উপরোক্ত কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ও আমি আপিল বিভাগে যোগদান করি। পরবর্তীকালে 'সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস, ১৯৭৩' সংশোধনক্রমে ২১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত 'চ্যাপ্টার ফোর'-এর 'অ্যাপ্লিকেশন' শিরোনামে পূর্বের শুধুমাত্র 'ইংলিশ'-এর পরিবর্তে 'বাংলা/ইংলিশ' স্থাপন করা হয়।

আমার বিনীত অভিমত এই যে, দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান যেখানে স্পষ্ট করে 'বাংলা ভাষা'কে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেছে, সে ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে প্রজাতন্ত্রের সব কার্যক্রম বাংলা ভাষাতেই হতে হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে- হাইকোর্ট বিভাগ কোন আইন অনুসারে চলবে। সহজ ও স্পষ্ট উত্তর- সংবিধানের নবম অনুচ্ছেদ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে একটি সুপ্রিম কোর্ট সৃষ্টি করেছে। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্ট বিদ্যমান। কাজেই সংবিধানে যা বলা আছে, যে ভাষার কথা বলা আছে, তা-ই সবাইকে মানতে হবে। এমনকি বিচারপতিদেরও সংবিধানের ভাষ্য মানতেই হবে। 'হাইকোর্ট রুলস' বা অন্য কোনো আইনে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো লেখা থাকলেও সংবিধানকেই মানতে হবে; এমনকি রায়ের ভাষার ব্যাপারেও।

বিচারক জীবনে অনেক সময় ভাষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তেও হয়েছে। একবার ২০০৯ সালের প্রথমদিকে সম্ভবত 'মোশন' চলছে। একজন অশ্রুসিক্ত অ্যাডভোকেট আদালতের ডায়াসে দাঁড়ালেন। আবেগাপ্লুত অবস্থা দেখে একটু অপেক্ষা করলাম। তিনি বাংলায় লেখা আবেদনপত্র আদালতে দাখিল করার অনুমতি চাইলে সানন্দে তা দেওয়া হলো। কিন্তু তার অশ্রুসিক্ত অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন যে, আর একটি সিনিয়র বেঞ্চে ওই আবেদনপত্র জমা দিলে শুধু বাংলা ভাষায় লেখার কারণে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বাংলা ভাষায় লেখা আবেদনপত্রটি গ্রহণ করলাম; প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলও জারি হয়।

এর মধ্যে ২০১২ সালে হাইকোর্ট রুলসে সংশোধনীর মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিলকৃত আবেদনপত্র ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষায় লেখার বিধান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলা ভাষায় মেমো অব আপিল, আবেদনপত্র ইত্যাদি দাখিল বা বিজ্ঞ বিচারপতিদের সাবলীলভাবে বাংলা ভাষায় তাদের রায় লেখার সব রকম বাধা অপসারিত হয়েছে।

যদিও পূর্বের তুলনায় এখন রায় অনেক বেশি বেশি বাংলায় লেখা হচ্ছে; বিশেষ করে পিলখানা হত্যা মামলার হাজার হাজার পৃষ্ঠা রায় বাংলায় প্রদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু প্রতীয়মান হয় যে, বিজ্ঞ আ্যাডভোকেটরা এখনও আত্মগরিমা ঝেড়ে ফেলে 'মেমো অব আপিল' ও অন্যান্য আবেদনপত্র মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষায় লিখছেন না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, অন্যান্য কারণের সঙ্গে নিম্নলিখিত কারণে সুপ্রিম কোর্টে বাংলা ভাষার ব্যবহার আশানুরূপ হচ্ছে না- ক) বাংলা ভাষার প্রতি ইতিবাচক মানসিকতার অভাব; খ) অ্যাডভোকেটদের দাখিলকৃত প্রায় সব আবেদনপত্র, মেমো অব আপিল ইত্যাদি ইংরেজি ভাষায় লিখিত; গ) সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ বেঞ্চ অফিসার, স্টেনোগ্রাফারের নির্ভুলভাবে বাংলায় ডিকটেশন নেওয়ার ব্যাপারে অদক্ষতা; ঘ) সংশ্নিষ্ট বেশিরভাগ আইন ইংরেজি ভাষায় লিখিত; ঙ) পূর্বে প্রদত্ত সংশ্নিষ্ট প্রায় সকল রায়ই ইংরেজি ভাষায় লিখিত; চ) বাংলা ভাষায় সুলিখিত আইন গ্রন্থের প্রচণ্ড অভাব, নাই-ই বলা যায়; এবং ছ) বাংলা ভাষায় লেখার জন্য অ্যাডভোকেট ও বিচারপতিদের সদিচ্ছার অভাব।

অনেকে মনে করেন, ইংরেজিতে লেখা রায়ের বাংলা অনুবাদ করে নিলেই চলবে। এটা সত্য যে, ব্রিটিশ আমল থেকেই আদালতগুলোতে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার জন্য অনুবাদক থাকতেন। কিন্তু তারা কখনোই রায় অনুবাদ করতেন না। তারা আরজি, জবাব, মামলার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট দলিল, যা বাংলা ভাষায় লেখা তা ইংরেজিতে অনুবাদ করতেন। প্রয়োজনে ওইসব উপকরণ সহকারে পেপারবুক তৈরি হতো, যাতে ইংরেজ বিচারকরা তা পড়ে বিচার করতে পারেন। কিন্তু কখনোই ইংরেজি ভাষায় লেখা রায় বাংলায় অনুবাদের নজির নেই। কারণ একটা রায় তা ইংরেজি ভাষায়ই হোক বা বাংলা ভাষায়ই লেখা হোক, তার একটি দাঁড়ি, কমা পরিবর্তন একমাত্র রিভিউ পিটিশন ব্যতিরেকে সম্ভব নয়। এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কারণ আদালতের রায় তা যে আদালতেরই হোক না কেন, তা অলঙ্ঘনীয়। তা আপিলে পরিবর্তন হতে পারে বা বাতিল হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত কার্যপদ্ধতি ব্যতিরেকে কোনো আদালতের রায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

যেটা করা যেতে পারে তা হলো, ল রিপোর্টে রায় প্রকাশ করার সময় 'হেড নোট' লেখা হয়ে থাকে। এই হেড নোট ল রিপোর্টার নিজের ভাষায় লিখে থাকেন। সে রকমভাবে ইংরেজি রায়ের সারাংশ বা ভাবার্থ বাংলা ভাষায় লেখা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই অনুবাদ করাকে উৎসাহ দেওয়া যায় না। এমনকি পাকিস্তান আমলেও আদালতে অনুবাদক ছিলেন। তারাও একই ধারাবাহিকতায় আগের অনুবাদকের মতো একই কাজ করতেন, কিন্তু কখনোই রায় অনুবাদ করতেন না।

অতএব সব বিচারপতির বাংলায় রায় দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে যেসব ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরা পক্ষ রয়েছেন, সেসব ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় রায় দেওয়া যেতে পারে। বাংলা ভাষায় রায় লেখা এবং আমাদের দৈনন্দিন সব কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু একুশ শতকে এসে এটাও মনে রাখতে হবে- পৃথিবী এখন একটি 'গ্লোবাল ভিলেজ'। শুধু একটি ভাষা দিয়ে পৃথিবীর অন্য জাতিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন দেশ-বিদেশের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদানের জন্য বিদেশি ভাষা শেখা আবশ্যক। অন্যথায় একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, ভাবের বা অনুভূতির আদান-প্রদান সঠিকভাবে হয় না। এ কারণেই ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি রাশিয়া, চায়নাতেও একাধিক ভাষা শিখতে উৎসাহ দেওয়া হয়ে থাকে। এই পটভূমিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাসহ আরও অনেক ভাষায় আমাদের ব্যুৎপত্তি অর্জন করা প্রয়োজন। অন্যথায় আমাদের জ্ঞান-প্রজ্ঞা অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে। আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য, বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সম্বন্ধে অন্ধকারেই থেকে যাব। একইভাবে ইংরেজি সঠিকভাবে না জানলে ইউরোপীয় আদালত কী ধরনের চিন্তা করছে; আমেরিকা, ইংল্যান্ড আইন নিয়ে কী চিন্তা-ভাবনা করছে সে সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাতই থেকে যাব।

এ কারণেই বাংলায় রায় লেখার কথা আমি যখন বলি, তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের ইংরেজি বা অন্য ভাষা শেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। তার মানে এই নয় যে, আমরা বিশ্বের অন্যান্য সমৃদ্ধ ভাষা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকব। তাহলে সমগ্র বিশ্ব আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে। সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত চিন্তা-চেতনায় বিপ্লব ঘটছে। আমরা যদি সেসব বিপ্লবের অংশীদার হতে না পারি, তাহলে আমরা একটি কূপমণ্ডূক জাতি হিসেবে পরিগণিত হবো।

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আইন কমিশন; সাবেক, প্রধান বিচারপতি

মন্তব্য করুন