নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গোর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে ৩৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে ২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেন। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে নৌ-দুর্ঘটনা রোধে ২১ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি ও চালকের উদাসীনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্গো জাহাজটির বেপরোয়ার গতি ছিল, সিগন্যাল মানেনি, চালকের উদাসীনতা ছিল, সরু নদীপথসহ তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের স্থাপনার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'ঘটনার জন্য দায়ী কার্গোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কার্গোটির ১৪ স্টাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবশ্যই এদের শাস্তি হবে। এর মালিক যিনি, তিনিও কোনোভাবেই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।'

এমভি এসকেএল-৩ জাহাজের মালিক কে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড থেকে বলা হয়েছে, এটির মালিকের বাড়ি বাগেরহাটে। কিন্তু নাম বলেনি। এখনও কোনো লিখিত রিপোর্ট পাইনি। তারা সেটা তদন্ত করছে। তারা রিপোর্ট দিলে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।'

গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের লঞ্চ টার্মিনাল থেকে 'এমভি সাবিত আল-হাসান' নামে লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রার মাত্র ১৫ মিনিট পর শীতলক্ষ্যা নদীর সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে 'এমভি-এসকেএল-৩' নামে একটি কার্গো জাহাজ পেছন থেকে লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। এতে ৩৪ যাত্রী প্রাণ হারান।


বিষয় : শীতলক্ষ্যা নদী লঞ্চডুবি নারায়ণগঞ্জ

মন্তব্য করুন