পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ রাজ্যে ঘনঘন জনসভা করেছেন। প্রতিটি জনসভাতেই মোদি বারবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি, ও দিদি’ এবং ‘আদরণীয় দিদি’ বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু শুক্রবার তার ৩৩ মিনিট ভার্চুয়াল বক্তৃতায় একবারও সেই ডাক শোনা গেল না।

এ দিন বক্তৃতাজুড়ে ছিল বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী কী করবে, তার তালিকা। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের যুবকদের চাকরি, মা-বোনদের সুরক্ষা, জনগণকে ভ্রষ্টাচারমুক্ত শাসন, গুণ্ডামিমুক্ত বাংলা, চাষিকে সমৃদ্ধি দিতে চায়।’ তিনি কলকাতাকে ভবিষ্যতের শহর হিসেবে গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেন।

গত ১০ এপ্রিল রাজ্যে দুটি সমাবেশে ভাষণ দেন মোদি। সেদিন শিলিগুড়ি আর কৃষ্ণনগরে মোট ১২৬ বার ‘দিদি, ও দিদি’ উচ্চারণ করেন তিনি। শুক্রবার ছিল ভার্চুয়াল জনসভা। অবশ্য এ দিনও তার সরাসরি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি সেই নির্ধারিত পশ্চিমবঙ্গ সফর বাতিল করেন।

সাধারণত জনসভায় দেখা যায়, মোদি সুর করে ‘দিদি’ ডেকে মজা পান। পান হাততালিও। কর্মী-সমর্থকদের সেই উচ্ছ্বাসও যে তিনি পছন্দ করেন, সেটাও বোঝা যায় বক্তৃতায়। যতবার তিনি বিশেষ সুরে ‘দিদি, ও দিদি’, ‘আদরণীয় দিদি’ বলেছেন, ততবারই বক্তৃতায় লম্বা যতি এনেছেন। কথা থামিয়ে জনতাকে হাততালি দেওয়ার সময়ও দিয়েছেন তিনি।

বিজেপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য, ভার্চুয়াল সভায় সরাসরি জনতার প্রতিক্রিয়া জানার বা দেখার সুযোগ থাকে না। তাই ইচ্ছা করেই মোদি ওই ‘জনমনহরণী’ সম্বোধন করেননি। নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন কাজের কথায়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে আট ধাপের ভোটের বাকি আছে দু’দফা। এর মধ্যে কলকাতার ১১টি আসনে ভোট হবে। তার আগে ভার্চুয়াল সভায় মোদি জানালেন, কলকাতাকে একদিন আনন্দের শহর (সিটি অব জয়) বলা হতো। কলকাতা হবে ভবিষ্যতের শহর বা 'সিটি অব ফিউচার'।

বিজেপি মনে করে, যে মেরুকরণের রাজনীতিকে তারা এবারের ভোটে ব্যবহার করে এসেছে, শহরাঞ্চলে তার অভিঘাত তত প্রবল নাও হতে পারে। শহরের মানুষ চান উন্নত পরিষেবা, ভালো রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্ন পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো বিষয়গুলো আরও উন্নত হোক। ধর্মের রাজনীতি তাদের আকর্ষণ করে না।

বিজেপি নেতাদের একটা অংশ মনে করে, শহরের উচ্চশ্রেণির মানুষ তাদের সঙ্গে একাত্ম নয়; বরং তারা বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কড়া বিরোধিতা করে থাকেন।