গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চালানো তাণ্ডবে সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়। হরতালের দিন পিকেটিং ও সহিংসতা সৃষ্টির জন্য বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লোকজনও ভাড়া করে আনা হয়েছিল।

তাণ্ডবের ওই ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন রাকিব হোসেন নামে এক ছাত্রদল কর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ন কবীরের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। রাকিব রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। তার বাড়ি রূপগঞ্জের ভুলতা ইউনিয়নের গাউছিয়া এলাকায়।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের ওই সহিংসতার ঘটনায় দু'জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। গত সোমবার একই আদালতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে মসজিদের এক ইমাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হরতালের দিনের সহিংসতার জন্য হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে দায়ী করে তিনি জবানবন্দিতে বলেন, মামুনুল হকের নির্দেশেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সহিংসতা হয়েছিল।

হরতালের দিন রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তাণ্ডব ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় রাকিব হোসেনকে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। সেদিনের ঘটনায় রূপগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের আর কারা জড়িত ছিল তাও স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছেন রাকিব।

তিনি স্বীকারোক্তিতে আরও জানান, হরতাল কর্মসূচির ওইদিন তিনিসহ রূপগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী তাজ সহিংসতার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বেই বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তাণ্ডব চালানো হয়।

মন্তব্য করুন