লকডাউন তথা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরুর প্রথম দিন থেকেই আইনজীবীদের হার্ড ইমিউনিটির শ্রেণিভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কীভাবে? তার ব্যাখ্যা নিচের আলোচনায় করছি। সংক্রামক ব্যাধি চলমান অবস্থায় যে জনগোষ্ঠী আগে থেকেই সংক্রমিত হয়ে বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে, সেটাকে হার্ড ইমিউনিটি বোঝায়। গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র অনুযায়ী যখন 'আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০'-এর মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু হয়, তার প্রথম দিন থেকেই একজন আইনজীবী এবং তার স্টাফকে ওকালতনামা, বেল বন্ড,  এজাহার, পুলিশ ফরোয়ার্ডিংসহ মামলা সংক্রান্ত অন্যান্য কপির জন্য শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে অ্যাডভোকেট বার সমিতির নিজ নিজ চেম্বারে যেতে হয়েছে। আইনজীবীর ক্লার্ককে প্রয়োজনীয় সব কাজের জন্য ক্ষণে ক্ষণে জিআরও অফিস বা সংশ্নিষ্ট আদালতের পেশকারের কাছে শারীরিক উপস্থিতিতে যেতে হয়েছে। ক্লার্ক বা অন্য কাউকে ক্ষেত্রবিশেষে ওকালতনামায় স্বাক্ষরের জন্য জেলখানায় সশরীরে যেতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছে যে, আমাদের প্রয়োজনীয় শারীরিক ইমিউনিটি রয়েছে এবং সে কারণেই আমাদের হার্ড ইমিউনিটির আওতাধীন করা হয়েছে। বলা যায়, গত দেড় মাসে আমাদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। গত দেড় মাস থেকে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দূরত্ব ও কাচের নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার করে মামলা ফাইলিংয়ের কাজ নির্বিঘ্নেই চলছে বলা যায়।
দেশের চিকিৎসক, পুলিশ, ব্যাংকার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ডাক বিভাগ, কলকারখানা, দোকান ও শপিংমল, গার্মেন্টে কর্মরত সবাই শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অনুমান করা যায়। করোনার ভয় শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালত প্রাঙ্গণে। করোনাভাইরাসজনিত এ পরিস্থিতি একটি বাস্তবতা। এটা মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে বলে মনে করি। আদালতগুলো বন্ধ রাখায় সরকার বিপুলসংখ্যক রাজস্ব হারাচ্ছে। মামলাজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আইনজীবী ও তাদের স্টাফরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ভার্চুয়াল কোর্টের সুবিধা হয়তো ২০ শতাংশ আইনজীবী পাচ্ছেন। অন্যরা সে সুবিধা পাচ্ছেন না। বিচারপ্রার্থীরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের আইনজীবী বার সমিতিগুলো চরম অর্থকষ্টে পড়েছে। সমিতির কর্মচারীদের বেতন পর্যন্ত তারা দিতে পারছে না। আইনজীবী সমিতির সদস্যদের বিভিন্ন কল্যাণকর কাজের জন্য যে তহবিল তৈরি হয়, সেটাও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবার সমিতি এসব কল্যাণমূলক তহবিল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব আয় থেকেই গঠন করে। সরকার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো অনুদান দেয় না। আমরা এখনও ২০২০ সালের লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারিনি।
এমতাবস্থায় আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিয়মিত আদালত চালু হতে কোনো বাধা নেই। বোধ করি, ইতোমধ্যে আদালতের সব বিচারক টিকা গ্রহণ করেছেন। বিচারকরা নিরাপদ দূরত্ব ও  কাচের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে থাকায় কোনো সমস্যা হবে না। অতএব আদালতসংশ্নিষ্ট সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন নেই। অতিসত্বর নিয়মিত আদালত চালু করে দিন।

সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী
ptzahedy@gmail.com