বছর কয়েক আগে দু-একটি পত্রিকায় রয়টার্স সূত্রে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, জাতিসংঘের জীবজন্তুবিষয়ক অধিদপ্তর শিগগিরই হাতি সম্পর্কে একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ এবং তার জন্য ভালো অঙ্কের পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
হাতি সম্পর্কিত পুস্তক রচনা ও পুরস্কারের বিষয়টি জানতে পেরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর তার পুরোনো অস্ত্রশস্ত্র ঝাড়ামোছা শুরু করেন এবং নতুন দুটি দূরপাল্লার রাইফেল কেনেন। তারপর তিনি দু'জন বন্ধুকে সঙ্গে করে আফ্রিকার নাইজার, কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় যান এবং স্থানীয় কুলিদের সহায়তায় বহু হাতি শিকার করেন। মেজর সাহেব হাতি সম্পর্কিত তার বইটি লিখতে শুরু করেন। তিনি বইটির নাম দিয়েছেন- 'এলিফ্যান্ট হান্টিং, দ্য বিগ গেম'।
জাতিসংঘের ঘোষিত পুরস্কারের খবরটি জানার পর একজন জার্মান অধ্যাপক তার ব্যক্তিগত এনসাইক্লোপিডিয়া গ্রন্থটি খুলে হাতি-সংক্রান্ত যাবতীয় প্রাথমিক খবরাখবর সংগ্রহ করেন। তারপর তিনি জার্মানি ও তার আশপাশের সব দেশের বিখ্যাত লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামগুলো পরিদর্শনে বের হন। তিনি এক বছর ধরে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে রক্ষিত হাতি সম্পর্কিত সব বই পড়ে শেষ করেন এবং বন্ধুবান্ধব ও গুণীজনের মধ্যে হস্তী বিশারদ হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। তিনি হাতি-সংক্রান্ত একটা বই লিখেছেন এবং বইটির নাম ঠিক করেছেন- 'লাইফস্টাইল অব এলিফ্যান্টস, দ্য বিগেস্ট মামাল'।
পুরস্কারের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর একজন ফরাসি তরুণ তৎক্ষণাৎ তার গার্লফ্রেন্ডকে টেলিফোন করে হাতি সম্পর্কিত পুস্তক রচনায় অংশগ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে তার বান্ধবীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা ঠিক করেন, শুধু বনে-জঙ্গলে না ঘুরে তারা বরং পৃথিবীর প্রসিদ্ধ চিড়িয়াখানাগুলো ঘুরে দেখবেন এবং হাতির জীবনযাপন এবং চালচলন লক্ষ্য করবেন। ফরাসি তরুণটি এখন তার পুস্তক রচনায় মনোনিবেশ করেছেন এবং তার প্রেমিকার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তার বইয়ের নামকরণ করেছেন- 'প্যাটার্ন অব লাভ ইন দ্য ম্যট্রিয়ার্কাল সোসাইটি অব এলিফ্যান্টস'।
আর মার্কিন কৃষিজীবী কিছুটা দেরিতে হলেও তিনি এক বন্ধুর মারফত জাতিসংঘের হাতি-সংক্রান্ত পুরস্কারের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি অতিসত্বর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন জীবজন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ২৫০টি হাতি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু বর্তমানে হাতির বৈশ্বিক সংখ্যাল্পতা হেতু তিনি মাত্র ১৯৩টি হাতি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তিনি তার র‌্যাঞ্চের এক বিরাট অংশে হাতির জন্য খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার বেতনভুক কর্মচারীরা হাতিগুলোকে উন্নতমানের খাদ্য দেওয়া ও সেবা-যত্নের ব্যাপারে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছেন। ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তার খামারে হাতির জন্মহারে বিস্টেম্ফারণ ঘটে এবং হাতির সংখ্যা দ্বিগুণে উন্নীত হয়। কৃষিজীবী মার্কিন ভদ্রলোক এখন তার বই লেখার কাজে মনোযোগ দিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি একজন পেশাদার লেখককে ভাড়া করেছেন। কিন্তু বইটির নাম তিনি নিজেই মনোনীত করেছেন। নামটি হলো- 'হাউ টু গ্রো মোর এলিফ্যান্টস অ্যান্ড আর্ন প্রফিট'।
হাতি-সংক্রান্ত বইগুলোর পর্যালোচনা এবং যথাযথ মূল্যায়নের কাজ বর্তমানে শেষের দিকে রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, জাতিসংঘের জীবজন্তুবিষয়ক অধিদপ্তর শিগগিরই একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান করে পুরস্কার বিতরণের কাজ সম্পন্ন করবে।
এ প্রসঙ্গে আমরা আরও জানতে পেরেছি, জাতিসংঘের আরেকটি অধিদপ্তর যা কীটপতঙ্গের গবেষণা কর্মে লিপ্ত আছেন, তারাও শিগগিরই একটা গবেষণাধর্মী পুস্তক প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেবেন। অনেকেই ধারণা করছেন, এই গবেষণাধর্মী পুস্তকের বিষয়বস্তু হবে মশা। গবেষণার বিষয়বস্তু অতি ক্ষুদ্র হলেও পুরস্কারের অর্থ সাত অঙ্কবিশিষ্ট হবে অর্থাৎ নিযুত ডলার স্পর্শ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাতির ব্যাপারে আমাদের জীববিজ্ঞানীদের নিষ্ফ্ক্রিয়তার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়লেও মশা-সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা যাতে অবধারিতভাবে প্রথম পুরস্কারটি জিতে নিতে পারি সে জন্য আমাদের চৌকস কূটনীতিবিদরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এবং আমাদের সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত আহরণ করে চলেছেন।

বিষয় : অন্যদৃষ্টি

মন্তব্য করুন